সাহসিকতায় বিয়ে থেকে রক্ষা অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৮      

ভোলা প্রতিনিধি

ভোলার ভেলুমিয়ায় স্কুলশিক্ষকদের সহায়তায় নিজের বাল্যবিয়ে ঠেকাল স্বপ্না আক্তার নামে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী। বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে গিয়ে স্বপ্না তিন দিন তার স্কুলের প্রধান শিক্ষকের হেফাজতে থাকার পর গতকাল শুক্রবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপে পরিবারের কাছে ফিরে গেছে। এদিকে সাহসিকতার সঙ্গে নিজেকে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করায় স্বপ্নাকে সংবর্ধনা দিয়েছে জেলা বাল্যবিয়ে ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি। স্বপ্নার পড়াশোনার দায়িত্বও নিয়েছে তারা।

সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চন্দ্রপ্রসাদ গ্রামের দিনমজুর সেলিম ঘরামির বড় মেয়ে স্বপ্না আক্তার স্থানীয় খালেদা খানম বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। সম্প্রতি তার পরিবার পাশের গাজিরচর গ্রামের জাহাঙ্গীরের বিদেশফেরত ছেলে আল আমিনের সঙ্গে স্বপ্নার বিয়ে ঠিক করে।

স্বপ্নার স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহে আলম হিরন জানান, বিয়েতে রাজি না হওয়ায় গত ২৬ জুন কৌশলে খালার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে জোর করে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায় তার পরিবার। স্বপ্না বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ভেঙে খালার বাড়ি থেকে চলে এসে চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষার মধ্যেই দ্বিতীয় দফায় ৩ জুলাই বিয়ের আয়োজন করলে স্বপ্না নিজ বাড়ি ছেড়ে প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে এসে আশ্রয় নেয়। প্রধান শিক্ষক ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা স্বপ্নার পক্ষে অবস্থান নেন। পরে প্রধান শিক্ষক বিষয়টি সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানালে গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামাল হোসেন স্বপ্নার বাড়িতে যান। কিন্তু তার আসার খবর পেয়ে স্বপ্নার বাবা-মা পালিয়ে যান। বাবা-মাকে না পেয়ে তিনি নানা আলমগীরের কাছে স্বপ্নাকে হস্তান্তর করেন এবং আইন আনুযায়ী মুচলেকা রাখেন।

এ বিষয়ে স্বপ্না জানায়, 'আমি পড়ালেখা করতে চাই। ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করতে চাই। কিন্তু বাবা-মা জোর করে বিয়ে দিতে চায়। তাই বাধ্য হয়ে আমি তাদের বিরুদ্ধে গিয়েছি।' স্বপ্নার এমন সাহসিকতায় খুশি তার সহপাঠীরাও।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বপ্নার স্কুলেই সংবর্ধনার আয়োজন করে বাল্যবিয়ে ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি। সংবর্ধনা সভায় সাহসী পদক্ষেপের জন্য স্বপ্নাকে সাধুবাদ জানানো হয়। সভায় বাল্যবিয়ে ও শিশু নির্যাতন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহাদত হোসেন শাহিন, সহসভাপতি ছোটন সাহা, সেক্রেটারি শাহরিয়ার জিলন ও স্কুলশিক্ষকরা বক্তব্য দেন এবং উপস্থিত শিক্ষার্থীদের বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে শপথবাক্য পাঠ করান।

বাল্যবিয়ে ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহাদত হোসেন বলেন, 'স্বপ্না আক্তার যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে, তার স্বীকৃতি হিসেবে আমরা তাকে সংবর্ধনা দিয়েছি। আমরা চাই স্বপ্নার মতো সবাই এভাবে বাল্যবিয়ে বন্ধে সচেতন হোক।'