নরসুন্দা নদীর শতকোটি টাকার জমি প্রভাবশালীদের দখলে

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৮      

সাইফুল হক মোল্লা দুলু, কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের নরসুন্দা নদী আবারও দখল হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নরসুন্দা নদী ও পাড় দখল করে বাড়িঘর ও দোকানপাট নির্মাণ করে চলেছে। জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ শহর এলাকার আশপাশে নদীর প্রায় ৫০ একর জমি দখল করেছে তারা। এসব জমির বাজারদর অন্তত ৫০০ কোটি টাকা।

সরেজমিন দেখা যায়, কিশোরগঞ্জ শহরের গুরুদয়াল কলেজ থেকে হোসেনপুর উপজেলা পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার এলাকায় নদীর পাড়ে বেশ কিছু স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। আবার শহরের পুরান থানা একরামপুর সেতু থেকে করিমগঞ্জ পর্যন্ত নদীর পাঁচ কিলোমিটারে বাড়িঘর, দোকানপাট তৈরি করে কয়েক একর জায়গা দখল করা হয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমেও নদীর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। বিশেষ করে গত এক বছরে কিছু লোক নদী দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করে নির্বিঘ্নে বসবাস করছে।

সম্প্রতি করিমগঞ্জ উপজেলার কিরাটন গুজাদিয়া বাজারে নরসুন্দা নদীর তিন একর ভূমি দখল করে দোকানপাট নির্মাণ করে প্রভাবশালীরা ভাড়া দিয়েছে। এ অভিযোগ পাওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার সকালে সিনিয়র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু তাহের মো. সাঈদের নেতৃত্বে ওই বাজারে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেখতে পান নরসুন্দা নদী ভরাট করে গুজাদিয়া বাজারে প্রায় ৩০টি দোকানঘর তোলা হয়েছে। অবৈধ এসব দোকান ও ভূমি কয়েক মাস ধরে প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। এসব ঘর তারা ভাড়া দিয়েছে। পরে ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ২৫টি দোকান উচ্ছেদ করে ৩৬ শতাংশ সরকারি খাস জমি উদ্ধার করেন। দখল করা সমুদয় জমি রেকর্ডে নরসুন্দা নদীর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় স্থানীয় বূমি কার্যালয়কে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ভূমির মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা হবে বলে বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান।

ম্যাজিস্ট্রেট আবু তাহের সাঈদ সমকালকে জানান, দখল করা ভূমি উদ্ধার করে সেই জায়গাগুলো খনন করে নদীতে নাব্য ফিরিয়ে আনা একান্ত জরুরি।

জানা গেছে, নরসুন্দা নদীর সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ২০১৪-১৫ অর্থবছরে নদীসংলগ্ন শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রায় আট কিলোমিটার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রশাসন। পরে নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে জোড়াতালি দিয়ে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ১১০ কোটি টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। বাস্তবায়নের তিন মাসের মধ্যে নরসুন্দাপাড়ের ৬ কোটি টাকার ওয়াকওয়ে নদীতে চলে যায়। ফলে জেলাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে জেলাবাসী আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, নরসুন্দা নদীর প্রায় ৩০ একর ভূমি এখনও প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করলে কোটি কোটি টাকার ভূমি উদ্ধার হতে পারে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আবদুল গণি জানান, শহর থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে করিমগঞ্জ ও নীলগঞ্জ পর্যন্ত এবং পশ্চিম দিকে হোসেনপুর অংশে ৫০ একরের বেশি নদীর জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। এর দাম ৫০০ কোটির টাকারও বেশি। নদীকে বাঁচাতে এসব জমি উদ্ধার এখন সময়ের দাবি।

ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক তরফদার আক্তার জামীল বলেন, নদীর জমি দখলের বিষয়টি প্রশাসনের জানা আছে। কিছুদিনের মধ্যে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে জমি উদ্ধার করা হবে।