নাগরিক সমাজের মানববন্ধন আন্দোলনকারী ছাত্রীদের নির্যাতনের প্রতিবাদ

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৮      

সমকাল প্রতিবেদক

কোটা সংস্কার আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, গ্রেফতার ও নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও নাগরিক সমাজ। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচি থেকে ছাত্রীদের ওপর যৌন হেনস্থার অভিযোগের বিচার দাবি করা হয়।

এ সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক রেহনুমা আহমেদ বলেন, 'ছাত্রীরা অভিযোগ করেছে যৌন নিপীড়নের। তাদের নাকি ধর্ষণেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে। কোন সাহসে জনগণের টাকায় পরিচালিত পুলিশ বাহিনী এসব উচ্চারণ করে- আমি জানতে চাই।' তিনি সমাবেশের আয়োজকদের দাবির সঙ্গে ছাত্রীদের যৌন নিপীড়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক ?নুরুর বাবা ইদ্রিস হাওলাদার বলেন, আমি একজন কৃষক। জায়গাজমি বিক্রি করে এখন ছেলের চিকিৎসার খরচ বহন করছি। যে নির্যাতন করা হয়েছে, আমার ছেলে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পর তাকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এরপর যেখানে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয় সেখান থেকেও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কোটা সংস্কার আন্দোলন যদি যৌক্তিক হয় তাহলে এই দাবি মেনে নিন। প্রধানমন্ত্রী দেশের মা, তার কাছে ছেলেমেয়েরা চাইতেই পারে।

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, 'আইনের লোক আইনের পোশাক পরে অপরাধ করে পার পেয়ে যাবে- এমনটা ভাবাও বোকামি।' ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদুল হক বলেন, এমন এক সময় এসে পৌঁছেছি যখন সবকিছু উল্টো দিকে চলছে।

শিক্ষার্থীদের ওপর হাতুড়ি দিয়ে বর্বরভাবে আঘাত করা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জাকির হোসেন বলেন, আন্দোলনের পক্ষে যখন সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্লাস ছেড়ে বেরিয়ে আসে তখন তা কীভাবে অযৌক্তিক হয়?

মানববন্ধনের আহ্বায়ক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দেওয়ার আহ্বান জানান।