এক বছরে আদিবাসী নারীর বিরুদ্ধে ৪৮টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সমতলে ঘটেছে ২০টি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে ২৮টি। এ ঘটনায় ৫৮ নারী ও মেয়েশিশু যৌন বা শারীরিকভাবে আক্রমণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ধর্ষিত হয়েছেন ১২ জন। সহিংসতার ঘটনায় নয় নারীকে হত্যা ও ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। আর নয়জনকে শ্নীলতাহানির চেষ্টা করা হয়।

২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে সারাদেশে এ ঘটনাগুলো সংঘটিত হয় বলে 'বাংলাদেশের আদিবাসীদের মানবাধিকার প্রতিবেদন-২০১৭'তে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে কাপেং ফাউন্ডেশন। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার ডেইলি স্টার ভবনে এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতিবেদন প্রকাশে সহযোগিতা করছে বেসরকারি উন্নম্নয়ন সহযোগী সংস্থা অক্সফাম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। প্রতিবেদনের ওপর আলোচনায় অংশ নেন আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাসের সদস্য ও সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক বাঞ্চিতা

চাকমা, অক্সফামের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর এমবি আখতার, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাপেং ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ও জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে সাতজনসহ দেশে মোট ১০ আদিবাসীকে হত্যা করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৪১ আদিবাসী অধিকারকর্মী ও গ্রামবাসীকে গ্রেফতার, সাময়িক আটক এবং ১৬১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন বাহিনী ও গোষ্ঠীর নিপীড়ন-নির্যাতন ও হামলায় ২০৩ জন আহত হয়েছেন।

সুলতানা কামাল বলেন, দেশের কিছু লোককে এখনও ভাবতে হচ্ছে, এ দেশ তাদের নয়। কেননা নির্যাতিত হলেও রাষ্ট্র তার পাশে দাঁড়াচ্ছে না। অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, বিচার পাচ্ছে না।

বাঞ্চিতা চাকমা বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নির্যাতনে অনেক সময় সরকারি সংস্থার জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়; কিন্তু মানবাধিকার কমিশন সেসব অভিযোগের তদন্ত করতে পারে না।

সাদেকা হালিম বলেন, প্রতিবছরই প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে; কিন্তু পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে না। বরং মাত্রা বেড়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিও যুক্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ঊষাতন তালুকদার বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে বহু আদিবাসী নীরবে দেশত্যাগ করছে। সংসদ সদস্য হয়েও তিনি উচ্চকণ্ঠে কিছু বলতে পারছেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মন্তব্য করুন