প্রিয় রিজিয়া রহমান

শ্রদ্ধাঞ্জলি

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০১৯      

বদরুন নাহার

প্রিয় রিজিয়া রহমান

রিজিয়া রহমান [২৮ ডিসেম্বর, ১৯৩৯ - ১৬ আগস্ট, ২০১৯] ছবি ::মেহেদী হাসান হৃদয়

প্রিয় কথাসাহিত্যিক রিজিয়া রহমানের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা হয় গত ২৪ জুন; আমেরিকা থেকে আপার নম্বরের ফোন করে তাঁকে পেয়ে গেলাম। তখন তিনি অ্যাপলো হাসপাতালে ছিলেন, তখনও বেশ স্পষ্ট আর সাবলীল কণ্ঠে কথা বলছিলেন। বললেন, বদরুন দোয়া করো যেন তোমার সঙ্গে আবার দেখা হয়। আমি ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা আসার পর দুই কি তিনবার রিজিয়া আপার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। একবার তিনি বেশ উৎফুল্ল ভঙ্গিতে বললেন, বদরুন তোমাকে একটা ভালো খবর দেই, আমি আবার লেখা শুরু করেছি। উপন্যাসটা লিখছি (তাঁর একটি অসম্পাপ্ত উপন্যাস ছিল, রাহি নামে, সে প্রসঙ্গেই বলছিলেন)। অসুস্থ হওয়ার পর বারবার তিনি শুধু একটা আফসোসই করতেন, লিখতে পারছি না, পড়তে পারছি না। তাঁর জীবনে সবচেয়ে কষ্টের বিষয় যেন এই লিখতে বা পড়তে না পারাটাই। নিভৃতে তিনি সব সময় বাংলা সাহিত্যের একনিষ্ঠকর্মী জীবন পার করে গেলেন। ব্যক্তি রিজিয়া রহমান আর লেখক রিজিয়া রহমানকে আলাদা করে বিশ্নেষণের কোনো অবকাশ আমি পাই না। গত ৯ বছর যাবত তাঁর সঙ্গে আমার বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে অসংখ্যবার দূরালাপনে, প্রতিবারই রিজিয়া রহমান কথা বলেছেন হয়তো নতুন কোনো লেখকের লেখাপড়ার অনুভূতি নিয়ে; বা নতুন কোনো উপন্যাস নিয়ে এমনকি এসব কথার ফাঁকে ঘর-সংসার নিয়েও নানা কথা হয়। কথা বলতে বলতে হয়তো কাউকে বলছেন ফ্রিজ থেকে মাছ বের করতে, তিনি একটু পরেই রান্না করবেন। ২০১৬ সালের এক সকালে আপার বাসায় আড্ডা দিতে দিতে কখন দুপুর গড়িয়ে গেল, ঠিক আড্ডার ফাঁকেই খাবার টেবিল রেডি, দু'জনে বসে দুপুরের খাবার খেতে খেতে গল্প করছেন ফরিদপুরের হাজারী গুড়ের। যার গন্ধ তিনি আজও ভোলেননি।

প্রসঙ্গক্রমে বললেন তাঁর 'সূর্য সবুজ রক্তে' উপন্যাসের কথা। চা-বাগান আর সে বলয়ের মানুষের জীবন কেমনটা দেখেছিলেন তিনি। কথা হয় 'আবে-রাওঁয়া' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট নিয়ে। তাঁর গল্প 'একটি কালো মেয়ের গল্প' যা লেখা হয়েছে আমেরিকার প্রেক্ষাপটে, এই প্রসঙ্গে আসে শিকাগোতে তাঁর বোনের কথা, প্রবাসী ভাইয়ের গল্প। কীভাবে লিখলেন 'বং থেকে বাংলা'। বলেছিলেন লেখকদের পারিশ্রমিক বিষয়ে একটা ঐকমত্য গঠন করার প্রয়াস হয়েছিল তাঁর বাসায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন হাসান আজিজুল হক, সৈয়দ সামছুল হক, হুমায়ূন আহমেদ। একটা আন্দোলন তৈরি হচ্ছিল। আমরা ঠিক করেছিলাম পেপারগুলো বয়কট করব, লেখা দেব না। কারণ ওরা আমাদের পেমেন্ট করা নিয়ে গণ্ডগোল করে। সবাই একমত হতে পারল না। মেইনলি হক ভাই বাধা দিলেন। আমার বাড়ির পরে হাসনাত আবদুল হাইয়ের বাড়িতে বসে ছিলাম আমরা। কিন্তু তা সফল হলো না। তিনি বেশ দুঃখ থেকেই জানালেন আজকাল সংবাদপত্রের পক্ষ থেকে হঠাৎ কোনো তরুণ চলে এসে বাসায় লেখা চায়, সাক্ষাৎকার নিতে চায়; কিন্তু কথা বলে বোঝা যায় সাহিত্যের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক বা ভালোবাসা নেই তাদের। দেখা যায় জোরাজুরি করে হয়তো লেখা নিল বা সাক্ষাৎকার নিল, কিন্তু তারপর কোনো খবর নেই। লেখা ছাপা হলেও একটা কপি পাঠাবার কোনো দায় অনুভব করে না। সত্যি বলতে আমি নিজে দুটি পত্রিকার দুটো সংখ্যা সংগ্রহ করে আপাকে পৌঁছে দিয়েছি, যার একটাতে পৃষ্ঠাজুড়ে তাঁর সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছে, অন্যটিতে তাঁর লেখা। এই দায়িত্বহীনতায় তিনি ভীষণ কষ্ট পেতেন। একবার একটি পত্রিকা নিয়ে বললাম, আপা পড়ে শোনাব? তিনি বললেন, না থাক, ওরা (গৃহসহযোগী মেয়েরা, যাদের তিনি পড়িয়েছেন) পড়ে শোনাবে। আমি যত তাঁর সান্নিধ্যে গিয়েছি, তত মুগ্ধ হয়েছি। কতরকম জীবন নিয়ে তিনি উপন্যাস লিখেছেন, কত শ্রেণির মানুষের মধ্যে যেন তাঁর আত্মিক সম্পর্ক। আর মুখোমুখি ব্যক্তি রিজিয়া রহমানের আচার-আচরণে আভিজাত্য আর ব্যক্তিত্বের দারুণ এক সমন্বয় ছিল। তাঁর এই রূপ দেখার সুযোগ তিনিই আমাকে করে দিয়েছিলেন। রিজিয়া রহমানের সঙ্গে আমার প্রথম কথা হয় টেলিফোনে, ২০১১ সালে। সেই আলাপও ছিল বেশ নাটকীয়। একদিন দৈনিক ডেসটিনি পত্রিকা অফিস থেকে শারমিনুর নাহার ফোন করে বলল, আপা কথাসাহিত্যিক রিজিয়া রহমান ঈদসংখ্যায় আপনার গল্প দেখে জানতে চাইল আপনি কে? ফোন নম্বর নিলেন।'

আমি তখন শারমিনুরের কাছ থেকে আপার নম্বর নিয়ে তাঁকে ফোন দিলাম। খুব ভয়ে ছিলাম, অত বড় মাপের একজন লেখক, তাঁর লেখার ভক্ত আমি; কিন্তু আমার মতো তরুণ, কিছু গল্প লিখছে, তার জন্য বেশ বড় বিষয়- এমন এক লেখকের সঙ্গে কথা বলা! তিনি ফোন ধরলেন, আমি বললাম, আপনি আমাকে চিনবেন না, আমি বদরুন নাহার।

ওপাশ থেকে বেশ আন্তরিক কণ্ঠে বলে উঠলেন, চিনব না ক্যানো? তোমাকে তো আমি চিনি 'ভাত' গল্পের বদরুন নাহার বলে।

গত বছর অক্টোবরের ২৩ তারিখ সন্ধ্যায় আপাকে দেখতে গিয়েছিলাম উত্তরায় চারুলতায়, আপার বাসায়।

সেদিন তিনি আমাকে জানালেন, এ বছর এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার পাচ্ছেন তিনি। এখনও তারিখ ঠিক হয়নি। তারিখ ঠিক হলে তিনি আমাকে জানাবেন। আমি যেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকি। নভেম্বরের ৮ তারিখ রিজিয়া রহমান ফোন করে জানালেন- ১২ তারিখ ওই পুরস্কার অনুষ্ঠান হবে, আমি যেন যাই। তিনি মন খারাপ করে বললেন, হাঁটতে পারি না, হুইল চেয়ারে যেতে হবে। আমি সিলেটে ছিলাম, পারিবারিক কাজে আমি আটকে যাই, যেতে পারিনি। ১১ তারিখ সারাদিন মনে ভীষণভাবে জেগে ছিলেন তিনি, ১২ তারিখ ফোন করতেই আপা সব গল্প করলেন। এখন যখন এই কথাগুলো লিখছি সূদূর আমেরিকার টেনিসিতে বসে, কষ্ট পাচ্ছি এই ফোন আমি আর পাব না। রিজিয়া রহমান বেঁচে থাকবেন তাঁর সাহিত্য নিয়ে আমাদের মাঝে; কিন্তু রিজিয়া আপা আর এত স্নেহমাখা কণ্ঠে ফোন করবেন না, ব্যক্তি মানুষের শূন্যতা এভাবেই থেকে যাবে।

তিনি কেন মহৎ, সাহিত্যে তাঁর সফলতা কী তা কি চট করে বলার বিষয়? নাকি সময়ই আমাদের বলে দেবে আসলে তিনি কী ছিলেন? বা কী রেখে গেছেন? বাংলাদেশের সামাজিক-রাজনৈতিক ইতিহাসের দৃশ্যপট আগামী প্রজন্মের কাছে উপস্থাপনের জন্য তাঁর সাহিত্যকর্মের মতো বিকল্প উৎসের এত বড় ভাণ্ডার আর কোথায় পাব? শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের নানা দেশের প্রেক্ষাপটকে বাংলা সাহিত্যে তাঁর মতো বৈচিত্র্যময় করে তুলে ধরেছেন ক'জন? তা খুঁজে পাওয়াও খুব সহজলভ্য নয়। ইরান-ইরাকের প্রেক্ষাপট, বেলুচিস্থান, আমেরিকাসহ নানা দেশের জনমানুষের উপস্থিতি, সেসব দেশের সমাজিক অবস্থা এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আমাদের বিশ্বের রাজনৈতিক উত্থান-পতন, মানুষের মাইগ্রেটেড অবস্থান সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দেয়। তাঁর প্রগতিশীল চিন্তা আর দৃষ্টিভঙ্গির গভীরতা সাক্ষ্য রেখে তিনি নির্মাণ করেছেন তাঁর সাহিত্যের জগৎ।

প্রায় ছয় দশক ধরে তিনি অক্লান্তভাবে কলম চালিয়ে গেছেন। তাঁর গল্প-উপন্যাসে রাজনীতি-ইতিহাস-নৃতত্ত্ব-মুক্তিযুদ্ধ নানা অনুষঙ্গে দৃশ্যত খুঁজে পাওয়া যায় বাংলার জনমানুষের আখ্যান। কথাসাহিত্যিক রিজিয়া রহমানের লেখক সত্তাকে খুঁজতে নানান আঙ্গিক আর ভাবনার জগতে আমাদের প্রবেশ করতে হবে। তাঁর বং থেকে বাংলা, রক্তের অক্ষর, একাল চিরকাল, সূর্য সবুজ রক্তে, উত্তর পুরুষ, অলিখিত উপাখ্যান, আবে-রওয়াঁ, আল বুর্জের বাজ, উৎসে ফেরা, একটি ফুলের জন্য, বাঘবন্দি, ঘর ভাঙ্গা ঘর, শিলায় শিলায় আগুন, নদী নিরবধি ইত্যাদি। তাঁর এই উপন্যাসগুলোতে বিভিন্ন জাতিসত্তার পরিচয় পাওয়া যায় নানা আঙ্গিকে, সেখানে রাজনৈতিক সচেতনতার বিষয়টি যেমন দৃশ্যত, তেমনি জীবন ও মূল্যবোধের জায়গাটি স্পষ্ট। ইতিহাস নিয়ে তিনি যেমন কাজ করেছেন, তেমনি ভৌগোলিক প্রেক্ষাপট নির্মাণে তাঁর সাফল্য সাহিত্য পরিমণ্ডলে আলোচিত। তাঁর গল্পের বইগুলোর মধ্যে অগ্নিস্বাক্ষরা, নির্বাচিত গল্প, চার দশকের গল্প, দূরে কোথাও উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়াও তিনি শিশুদের জন্য রচনা করেছেন বেশ কিছু বই, তাঁর রম্যরচনা খাওয়া-খায়ির বাঙালি উল্লেখ্য। তাঁর অনূদিত বই রয়েছে, তিনি সম্পাদনা করেছেন ত্রিভুজ নামের একটি সাহিত্য পত্রিকা।

তাঁর উৎসে ফেরা উপন্যাসটির প্রেক্ষাপট মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধাদের পরবর্তী গ্লানিময় জীবনযুদ্ধ নিয়ে লিখেছেন একটি ফুলের জন্য উপন্যাস। চা-শ্রমিকদের জীবন ও বাস্তবতা নিয়ে লিখেছেন 'সূর্য সবুজ রক্ত'। রিজিয়া রহমানের উপন্যাস 'অলিখিত উপাখ্যান' একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শুরুর দিকের এক কিশোর বিদ্রোহের প্রেক্ষাপটকে নিয়ে রচনা করেছেন, যে উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে চরিত্র হিসেবে পাই আমরা। যার ঐতিহাসিক সত্যতাও রয়েছে। যখন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে খুলনার কর্মরত ছিলেন, তখন মোরেলগঞ্জে একটি বিদ্রেহের ঘটনা এটি, যার তদন্ত কর্মকতা ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র।

অন্যদিকে রিজিয়া রহমানের আলবুর্জের বাজ উপন্যাসটি এক অন্ধকার অধ্যায়ের শিল্পরূপ। যা ১০৯০ সালে উত্তর ইরানের আলবুর্জ পর্বতমালার গুপ্তঘাতক প্রশিক্ষণের ঘাঁটিকে কেন্দ্র করে রচিত। যেখানে উঠে আসে ধর্মীই সন্ত্রাসবাদ নির্মাণের বিষয়টি। ইতিহাসে প্রথম গুপ্তহত্যাকারী নির্মাণ প্রক্রিয়া। একাদশ শতকের ইরানের আলবুর্জ পর্বতমালায় স্থাপিত সুউচ্চ আলমুতগুহার দুর্গকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসী বাহিনীর কথা। খোরাসানে জন্মগ্রহণকারী হাসান বিন সাব্বাহ ছিলেন যার নেতৃত্বে যা ঘটেছিল। তিনি শিক্ষিত, বুদ্ধিমান। তার সাংগঠনিক ক্ষমতাও অসাধারণ। তিনি দুর্গে তৈরি করেছিলেন নকল বেহেশত। আশপাশের অঞ্চল থেকে বারো থেকে বিশ বছর বয়সের তরুণদের তুলে আনতেন। গুপ্ত ঘাতক তৈরির কর্মসূচি এটা, অল্প বয়সের তরুণদের সুইসাইড স্কোয়াডের জন্য কীভাবে তৈরি করা হতো তা এ উপন্যাসে চিত্রিত হয়েছে। এটিও একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস। অন্যদিকে ঢাকার মসলিন বুননের ইতিহাস, সল্ফ্রাট জাহাঙ্গীরের সময়কে নিয়ে তিনি রচনা করেছেন তাঁর উপন্যাস আবে-রাওয়াঁ। নৃতত্ত্বের বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তিনি রচনা করেছেন শুধু তোমাদের জন্য, পবিত্র নারীরা ও তৃণভূমি বাইসন নামের তিনটি উপন্যাস। সুন্দরবনের অনগ্রসর জনপদকে প্রেক্ষাপট করে রচনা করেছেন বাঘবন্দি উপন্যাস। তাঁর রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস উত্তর পুরুষ। যেখানে পর্তুগিজ জলদস্যুদের কাহিনী নির্মিত হয়েছে। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসকে কেন্দ্র করে তিনি রচনা করেছেন বং থেকে বাংলা নামের উপন্যাসটি, যা আমাদের জাতিসত্তার অনন্য এক আখ্যান। অন্যদিকে তাঁর সবচেয়ে আলোচিত উপন্যাস রক্তের অক্ষর। যে উপন্যাস রচনা করে তিনি বেশ আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছিলেন। নিষিদ্ধ জগতের দেহ ব্যবসায় নিয়োজিত পতিতাদের জীবনকে কেন্দ্র করে গড়ে তুলেছেন এক মানবিক আখ্যান।

বাংলা সাহিত্যের জগতে এ রকম সব বৈচিত্র্যময় কাহিনীর নির্মাতা তিনি। রিজিয়া রহমানের সাহিত্য রচনার বড় যে দিকটি লক্ষণীয়, তা হচ্ছে শিল্পের নির্মাণে তিনি অতিরঞ্জিত কোনো শিল্পের আরোপ ঘটাননি, সাবলীল এক একটা জীবনখ্যানকেই যেন তার শিল্পের সার্থকতা। বিভিন্ন সময়কে তিনি ভবিষ্যৎ পাঠকের কাছে চিত্রিত করে গেছেন ইতিহাসের দলিল হিসেবে, যা কেবল বিজয় আর বীরত্বের কাহিনী নয়। জনমানুষের জীবনের পরিবর্তন ও তার স্রোতের প্রবহমানতা দিয়ে। যা ভবিষ্যৎই বলবে এর গুরুত্ব কতটুকু।