ইবাদতের রাত

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০১৯

ফিরোজ আহমাদ

শবেবরাত ফার্সি শব্দ। শব অর্থ রাত, বরাত অর্থ ভাগ্য বা মুক্তি। অর্থাৎ ক্ষমাপ্রাপ্তির রজনী বা গুনাহ মাফের রজনী। কোরআন ও হাদিস উভয় আরবি ভাষায় রচিত। হাদিসের পরিভাষায় এই রজনীকে 'লাইলাতুন নিফসি মিন শাবান' অর্থ 'শাবান মাসের মধ্য রজনী' তথা শাবান মাসের ১৪ তারিখ রাতের কথা বলা হয়েছে।

আল্লাহ সবসময় তাঁর গুনাহগার বান্দাকে ক্ষমা করে দিতে চান। কারণ তিনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। তবে আল্লাহতায়ালা কোনো কিছু সরাসরি করেন না। আল্লাহ সবকিছুই একটি উছিলা বা মাধ্যম দিয়ে করে থাকেন। যেমন তাওবা একটি উছিলা। তাওবা করলে আল্লাহতায়ালা অতীতের ভুলত্রুটি মাফ করে দেন। বান্দার ফরিয়াদ কবুলের জন্য যে ক'টি বিশেষ রজনী রয়েছে, এর মধ্যে শাবান মাসের ১৪ তারিখ রাত অন্যতম। পাঁচটি রাতের প্রথমটি হলো জুমার রাত, দ্বিতীয় হলো ঈদুল ফিতরের রাত, তৃতীয় হলো ঈদুল আজহার রাত, চতুর্থ হলো রজব মাসের চাঁদ উদয়ের প্রথম রাত, পঞ্চম হলো মাহে শাবান মাসের ১৪ তারিখ রাত (সুনানে বায়হাকিস্ফ শরিফ ৩/৩১৯)। এ ছাড়া বান্দা যখনই আল্লাহকে ডাকেন, আল্লাহতায়ালা তাৎক্ষণিক বান্দার ডাকে সাড়া দিয়ে থাকেন। এরপরও তাহাজ্জুতের সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইবাদতের ক্ষেত্রে তাহাজ্জুতের সময়ের একটি আলাদা বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে- হজরত রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, 'শাবান মাসের ১৪ তারিখে তোমরা দিনের বেলায় রোজা রাখবে এবং রাতের বেলায় ইবাদত-বন্দেগির মধ্যে কাটাবে। ওই দিন আল্লাহ কুদরতিভাবে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে প্রথম আসমানে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন, 'আমার বান্দাদের মধ্যে কেউ আছে কি? ক্ষমা চাইলে আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। রোগাক্রান্ত কেউ আছে কি? আমি আরোগ্য দান করব, কেউ রিজিক চাওয়ার আছে কি? আমি তাকে রিজিক দান করব।' এভাবে আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে সালাতুল ফজর পর্যন্ত বিশেষ ঘোষণা আসতে থাকে (সুনানে ইবনে মাজাহ)।

শবেবরাতের রাতে বেশি বেশি তাওবা করা, আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করা, অতীতের গুনাহ মাফ চাওয়া, তাসবিহ তাহলিল পাঠ করা, নফল নামাজ পড়া, সালাতুত তাসবিহ নামাজ পড়া, সালাতুত তাহাজ্জুত নামাজ পড়ার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করার চেষ্টা করতে হবে। সারারাত জেগে নফল নামাজ আদায়ের সময় খেয়াল রাখতে হবে, সকালে যেন ফজরের নামাজ কাজা না হয়। কেউ যদি শবেবরাতের রাতে নফল ইবাদত করা থেকে বিরত থাকে, তাহলে ওই ব্যক্তিকে নিয়ে কোনো বিরূপ মন্তব্য করা যাবে না। কারণ, নফল ইবাদত তথা বিশেষ করে মুস্তাহাব আমল নিয়ে বাড়াবাড়ি না করাই শ্রেয়। কেউ নফল আমল ইবাদত করলে সওয়াবের অংশীদার হবেন। নফল আমল ইবাদত না করলে গুনাহগার হবেন না। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে শবেবরাতের বরকত, কল্যাণ ও ফজিলত লাভ করার তৌফিক দান করুন।

ইসলামী গবেষক