টানা ষষ্ঠ দিনে গতকাল সোমবার বড় দর পতন হয়েছে দেশের দুই শেয়ারবাজারে। প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে দর হারিয়েছে লেনদেন হওয়া প্রায় ৮৭ শতাংশ শেয়ার। এতে প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্সের পতন হয়েছে ৮৯ পয়েন্ট বা সোয়া ১ শতাংশ। তবে শুরুতে সূচকটি ১৬ পয়েন্ট বেড়ে ৭২০৩ পয়েন্টে ওঠার পর শেষ ঘণ্টায় ওই অবস্থান থেকে ১৪৮ পয়েন্ট হারিয়ে ৭০৫৮ পয়েন্টে নামে। দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতে প্রায় ৮৪ শতাংশ শেয়ারের দর কমায় এ বাজারের প্রধান মূল্য সূচকের প্রায় দেড় শতাংশ পতন হয়েছে। এ দর পতন গত ২৭ জুনের পর বা গত প্রায় সাড়ে তিন মাসের সর্বোচ্চ।\হশেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ এবং শেয়ারবাজার-সংশ্নিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারকরা দর পতনের সুনির্দিষ্ট তেমন কোনো কারণ জানাতে পারেননি। তবে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম জানিয়েছেন, সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনাসহ বাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়াতে করণীয় নির্ধারণে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের আজ মঙ্গলবার বিকেলে এক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বৈঠকে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউস বন্ড ইস্যু করে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে কিনা, শেয়ারবাজার স্থিতিশীলকরণ তহবিল থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়ন করা যায় কিনা- এসব বিষয়ে আলোচনা হবে।

বিএসইসির মুখপাত্র জানান, কে বা কারা গুজব ছড়িয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ কার্যক্রম নিয়ে হস্তক্ষেপ করছে। আদলে এমন কিছুই হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারাই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া ৯ কোম্পানির শেয়ার কারসাজি ইস্যুতে অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে- এমন একটি খবরও বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

আবার এমন গুজবও ছিল, পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বৈঠকে বসছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএসইসি সূত্র জানিয়েছে, এমন বৈঠকের খবর পুরোপুরি গুজব।

মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সংগঠন বিএমবিএর সভাপতি ছায়েদুর রহমান সমকালকে বলেন, বাজারে গুজব ছড়িয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক নাকি শেয়ারবাজার বিনিয়োগে হস্তক্ষেপ করছে। আদতে কয়েক সপ্তাহ ধরে এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্নিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের স্বাভাবিক নজরদারি কার্যক্রম চলছে। এর বাইরে কিছু নেই।\হবাজারের প্রবণতা বিশ্নেষণে দেখা যায়, অল্প কিছু ছাড়া গত এক মাসের বেশি সময় ধরে বেশির ভাগ কোম্পানি দর হারাচ্ছে। এমনও হয়েছে, অধিকাংশ শেয়ার দর হারানোর পরও বৃহৎ মূলধনি কিছু কোম্পানির ওপর ভর করে সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। অর্থাৎ বেশির ভাগ বিনিয়োগকারী এক মাসের বেশি সময় ধরে লোকসান করছেন। কিন্তু কেন এভাবে দর কমছে, তা সুনির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারছেন না।

তাহলে কোনো কারণ ছাড়াই কি দর পতন হচ্ছে- এমন প্রশ্নে বিএমবিএর সভাপতি বলেন, সব দেখে মনে হচ্ছে, দর পতনের কোনো যৌক্তিক কারণ না পেয়ে কিছু মানুষ নানা গুজব ছড়াচ্ছে। অন্যরা তা বিশ্বাসও করছেন। তবে অনেক 'ট্রেন্ডি' শেয়ারের দর অল্প সময়ে অনেক বেড়ে গিয়েছিল। এস শেয়ার দর হারাতে থাকায় অনেক বিনিয়োগকারী 'অতি সতর্ক' আচরণ করছেন। এ ধারা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে থাকতে পারে, যা বড় দর পতনের কারণ হতে পারে। তবে কোনোভাবেই মনে হয় না, এ দর পতন দীর্ঘায়িত হবে।

ডিএসইর ব্রোকারদের সংগঠন ডিবিএর সভাপতি শরীফ আনোয়ার হোসেন মনে করেন, চলতি দর পতন অনেকটাই 'দর সংশোধন'। অল্প সময়ে কিছু শেয়ারের দর বেড়ে যায়। এসব শেয়ারের দর কমে সূচক নিম্নমুখী হওয়ায় অনেকে না বুঝে নিজে আতঙ্কিত হচ্ছেন। সূচকের দিকে না তাকিয়ে শেয়ারের মূল্য বিবেচনা করে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিলে এ সমস্যা থাকবে না বলে মনে করেন তিনি।

মন্তব্য করুন