উদ্যোক্তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে লকডাউনে রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতি সুবিচারের স্বার্থে সব পর্যায়ে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে উদ্যোক্তাদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর নবনির্বাচিত সভাপতি ফারুক হাসান। তিনি বলেছেন, লকডাউনের ঘোষিত সময়ে কেবল আমদানি-রপ্তানির স্বার্থে অপরিহার্য কারখানার নূ্যনতম অংশ দিয়েই কাজ চালিয়ে নিতে হবে। কারখানাগুলোকে শ্রমিকদের আনা- নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে নিজস্ব পরিবহনের মাধ্যমে। পোশাক কারখানার কারণে কোনোভাবেই যাতে করোনার সংক্রমণ ছড়াতে না পারে, সে ব্যাপারে বিশেষ সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। কঠোর লকডাউন কার্যকরে সরকারকে সহযোগিতা করতেও উদ্যোক্তা এবং শ্রমিকদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

বিজিএমইএর সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে এ অনুরোধ জানিয়েছেন ফারুক হাসান। গতকাল মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে নির্বাচিত সাত সহসভাপতিও দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আগের কমিটির পক্ষ থেকে বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি আব্দুস ছালাম দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। সদ্য সাবেক সভাপতি ড. রুবানা হক দেশের বাইরে থাকায় প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন আব্দুস ছালাম।

দায়িত্ব গ্রহণ ও হস্তান্তর উপলক্ষে বিজিএমইএর গুলশান কার্যালয়ে সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করা হয়। এতে অনলাইনে যুক্ত হন বোর্ডের চেয়ারম্যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ফরহাত আনোয়ার। একটি অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা দেওয়ায় নির্বাচনে দুই প্যানেল সম্মিলিত পরিষদ এবং ফোরামের প্রার্থী ও সমর্থকদের অভিনন্দন জানান তিনি। মূল অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পরিচালনা বোর্ডের সদস্য হাবিবুল্লাহ এন করিম।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এমপি, আব্দুস সালাম মুর্শেদী এমপিসহ সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতারা অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন। তবে করোনার কারণে সংক্ষিপ্ত এ আয়োজনে নির্বাচন কমিশনের সদস্য, ভারপ্রাপ্ত ও নবনিযুক্ত সভাপতির বাইরে অন্য কেউ বক্তব্য রাখেননি। বিজিএমইএর রেওয়াজ অনুযায়ী

বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) আয়োজনের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তর এবং গ্রহণ হয়ে থাকে। করোনার বিশেষ পরিস্থিতির কারণে এবার এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। একই কারণে তফসিল পরিবর্তন করে এক সপ্তাহ আগেই দায়িত্ব হস্তান্তর করা হলো। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, আগামী ১৬ এপ্রিল সভাপতি এবং সহ-সভাপতি নির্বাচন এবং ২০ এপ্রিল দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা ছিল।

বিজিএমইএর নতুন সভাপতি আরও বলেন, উদ্যোক্তাদের অনুরোধে জীবন ও জীবিকার মধ্যে সমন্বয়ের স্বার্থে সরকার বিশেষ বিবেচনায় কারখানা খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে, সব কারখানা খোলা রাখতেই হবে। যেসব কারখানায় পর্যাপ্ত

রপ্তানি আদেশের কাজ আছে এবং নিজস্ব পরিবহনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রমিকদের আনা-নেওয়া করা সম্ভব হবে, কেবল সেগুলো খোলা রাখা উচিত।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ফারুক হাসান বলেন, এমন এক মুহূর্তে তিনি দায়িত্ব নিলেন, যখন করোনায় বিশ্ব বিপর্যস্ত। রপ্তানি বাজারে অর্থাৎ করোনার বৈশ্বিক প্রভাব কোথায় গিয়ে ঠেকে, তার ওপর নির্ভর করছে পোশাক খাতের বাণিজ্য। তবে করোনায় যে পরিমাণ রপ্তানি আয় কমেছে, তা পুনরুদ্ধারকে গুরুত্ব দিতে চান তিনি। এ জন্য বস্ত্র ও পোশাক খাতসহ সংশ্নিষ্ট উপ-খাত নিয়ে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করবেন তিনি। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এবং পুরোনো উদ্যোক্তাদেরও পরামর্শ নেবেন বলে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও সংযুক্ত ছিলেন নবনির্বাচিত প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সিনিয়র সহসভাপতি এসএম মান্নান (কচি), সহসভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম, খন্দকার রফিকুল ইসলাম, মিরান আলী, মো. নাছির উদ্দিন ও রকিবুল আলম চৌধুরী।

গত ৪ এপ্রিল বিজিএমইএর ২০২১-২৩ মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ফারুক হাসানের নেতৃত্বাধীন প্যানেল সম্মিলিত পরিষদের ২৪ জন পরিচালক নির্বাচিত হন। অন্য প্যানেল ফোরাম থেকে ১১ জন পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে ফারুক হাসান সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে পরিচালক হন। সংগঠনটির ৩৫ পরিচালক একজন সভাপতি ও সাতজন সহসভাপতি নির্বাচন করেন।

মন্তব্য করুন