লকডাউন আসছে এমন ঘোষণায় কয়েক সপ্তাহ টালমাটাল ছিল শেয়ারবাজারে। অবশেষে লকডাউন যখন কার্যকর হচ্ছে, তার ঠিক আগে বেড়েছে সূচক। সোমবারের পর গতকাল মঙ্গলবার দেশের দুই শেয়ারবাজারের বেশিরভাগ শেয়ারের দর বেড়েছে। এতে উভয় বাজারের প্রধান দুই সূচক বেড়েছে সোয়া শতাংশ হারে। সংশ্নিষ্টরা জানান, লকডাউনের নেতিবাচক প্রভাব আগেই পড়েছিল শেয়ার দরে। এ কারণে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা ফিরেছে।

লকডাউনে ব্যাংক ও শেয়ারবাজার বন্ধ হলে শেয়ার বিক্রি করে এখন টাকা মিলবে না এমন কারণেও গতকাল শেয়ার বিক্রির চাপ কম ছিল। এ কারণে শেয়ার দর বাড়তে পারে বলে জানান ব্রোকারেজ হাউস কর্মকর্তারা। যদিও শেষ পর্যন্ত ব্যাংক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। এ কারণে শেয়ারবাজারের লেনদেন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বিএসইসি। ফলে আজ পহেলা বৈশাখের ছুটির পর বৃহস্পতিবার সীমিত সময়ের জন্য শেয়ার লেনদেন অব্যাহত থাকবে।

গতকাল প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ৩৪৭ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে ২২৮টির দর বেড়েছে। কমেছে ৬৩টির এবং অপরিবর্তিত বা ফ্লোর প্রাইসে ছিল ৫৬টির দর। একটি শেয়ারও কেনাবেচা হয়নি ২৮ কোম্পানির। বেশিরভাগ শেয়ারের দরবৃদ্ধি পাওয়ায় প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৭০ পয়েন্ট বেড়ে ৫২৫৮ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে।\হপ্রায় একই চিত্র ছিল দেশের দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতে। এ বাজারে লেনদেন হওয়া ২১৪ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১২৪টির দর বেড়েছে, কমেছে ৬২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৮টির দর। এ বাজারের প্রধান সূচক সিএসসিএক্স ১১২ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ১২ শতাংশ বেড়ে ৯১৬৭ পয়েন্টে উঠেছে।\হপর্যালোচনায় দেখা গেছে, বস্ত্র ছাড়া গতকাল অন্য সব খাতের অধিকাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। তবে দরবৃদ্ধির হার বিবেচনায় বড় খাতগুলোর মধ্যে এগিয়ে ছিল বীমা খাত। লেনদেন হওয়া ৪৭ কোম্পানির মধ্যে ৯টির দর কমার পরও সার্বিক হিসাবে ২ দশমিক ১৫ শতাংশ হারে দর বেড়েছে এ খাতের। ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের দুটি শেয়ারের দর কমেছে। এ খাতের লেনদেন হওয়া ২০ শেয়ারের দর ২ দশমিক ১৯ শতাংশ হারে বেড়েছে। এছাড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ১৯ কোম্পানির দর সোয়া ১ শতাংশ বেড়েছে। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক, সিমেন্ট এবং তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের ৩৪ শেয়ারের দর বেড়েছে গড়ে পৌনে ২ শতাংশ হারে। অন্য সব খাতেও ছিল ঊর্ধ্বমুখী ধারা।\হএদিকে লেনদেনে বেক্সিমকো গ্রুপের শেয়ারের প্রাধান্য কমে আসায় বীমা খাতের কোম্পানির দর পুনরায় বাড়ছে। ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল বীমা খাতের ঢাকা, ক্রিস্টাল এবং এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স। শেয়ারগুলো সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ (প্রায় ১০ শতাংশ) দরে কেনাবেচা হয়েছে।

দরবৃদ্ধি পাওয়ার শেয়ার লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। ডিএসইতে গতকাল প্রায় ৫১২ কোটি টাকা মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা সোমবারের তুলনায় ১৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা বেশি। সিএসইতে ২৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।

একক কোম্পানি হিসেবে যথারীতি বেক্সিমকো লিমিটেড লেনদেনের শীর্ষ অবস্থা ধরে রেখেছে। ডিএসইতে এ কোম্পানির ৪০ কোটি ৮৯ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। তবে খাতওয়ারি হিসেবে বীমা খাতের অবস্থান ছিল সবার ওপরে। এ খাতের ৪৭ কোম্পানির কেনাবেচা হওয়ার শেয়ারের মোট বাজার মূল্য ছিল ২০৪ কোটি টাকারও বেশি, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের প্রায় ৪০ শতাংশ।

মন্তব্য করুন