সা ক্ষা ৎ কা র

ঘন ঘন নীতি পরিবর্তন করা যাবে না

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২০     আপডেট: ০৭ জুন ২০২০

মো. সিরাজুল ইসলাম

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম। দেশের বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটিকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সরকারের সাবেক এই সচিব। করোনাভাইরাসের কারণে অবশ্য সব হিসাব পাল্টে গেছে। এর মধ্যেও ব্যবসা পরিবেশ সহজ করার কাজ কতটুকু এগোলো, তা নিয়ে সমকালের সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মিরাজ শামস

সমকাল : সহজে ব্যবসায় সূচকে উন্নতির কাজ কতটা এগিয়েছে? বিনিয়োগ বাড়াতে এ প্রচেষ্টার অগ্রগতির বিষয়ে বলুন।

সিরাজুল ইসলাম : বাংলাদেশ সহজে ব্যবসায় সূচকে গত বছর আট ধাপ উন্নতি করে ১৯০ দেশের মধ্যে ১৬৮তম অবস্থানে এলেও প্রত্যাশার তুলনায় এ অগ্রগতি স্বস্তিদায়ক ছিল না। কারণ প্রতিযোগী দেশগুলোর ধারেকাছেও নেই আমরা। এরপর থেকে আরও জোরেশোরে কাজ চললেও কভিড-১৯-এর কারণে সর্বশেষ দুই মাস সব প্রায় থমকে ছিল। এ সূচকের ১০ মানদণ্ডের সঙ্গে এবার সরকারি প্রকল্পের ক্রয়-সংক্রান্ত বিষয়টি যুক্ত হয়েছে।

এসব মানদণ্ডের মধ্যে সাতটিতে সংস্কার শুরু হয় এবং বেশকিছু অগ্রগতিও হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৭ সরকারি আদেশের মধ্যে কিছু বাস্তবায়ন পর্যায়ে আছে। তবে তিনটি মানদণ্ডের বিষয়ে কিছুই করা সম্ভব হয়নি, হাতে সময় ছিল না। বিশেষ করে ব্যবসায়িক চুক্তি মানদণ্ডের অবস্থা খুবই খারাপ। এ জন্য আইন পরিবর্তন করতে হবে। বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তিতেও পিছিয়ে আমরা। এগুলো হলে আরও উন্নতি হবে। দেউলিয়া মীমাংসার ক্ষেত্রে সংশোধন দরকার থাকলেও হয়নি। বাকিগুলোর সংস্কার প্রস্তাবে সাড়া ভালো।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ না হলে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হতো। বিডা তাদের সঙ্গে বৈঠকে অগ্রগতি জানিয়েছে। সংস্থার প্রতিনিধি দল সাধারণত মে মাসে পরিদর্শনে আসে। এবার জুনেও আসতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এবার আশা ছিল সূচকে ১৫০-এর নিচে নামার। আগামী বছরের লক্ষ্য ১০০-এর নিচে আসা।

সমকাল : করোনা পরিস্থিতি এমন থাকলে উন্নতির সম্ভাবনা কতটুকু?

সিরাজুল ইসলাম : এবার ১ মে ছিল শেষ সময়। এ পর্যন্ত যা হওয়ার তা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সরাসরি টিম আসতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারা প্রতিবেদন দেবে। এতে সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান কেমন হবে, তা বলা অনিশ্চিত। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী বছর সমস্যা হবে।

সমকাল : বিনিয়োগ পরিস্থিতির কী অবস্থা? বিনিয়োগ বাড়াতে আরও কী করা দরকার।

সিরাজুল ইসলাম : এবার ৯ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ পাওয়ার আশা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে সব থমকে যায়। স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোক্তারা যে ধাক্কা খেয়েছেন তাতে তারা কবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন, সেটাও দেখতে হবে।

সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতির উন্নয়নে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে অনলাইনে সভা হচ্ছে। তাদের সহায়তায় সরকারের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলোর বেশকিছু বাস্তবায়নও হয়েছে। আরও কিছু বাস্তবায়ন হবে। বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ইনভেস্টমেন্ট সামিটও করা যায়নি। এখন বিভিন্ন দেশে দূতাবাস ও চেম্বারগুলোর মাধ্যমে যোগাযোগ হচ্ছে। অনলাইনে চুক্তি করার চেষ্টা চলছে। দুবাইতে আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারের বাংলাদেশ অংশ নেবে।

সমকাল : ঘন ঘন প্রতিশ্রুতির পরিবর্তন নিয়ে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ। এটিসহ আগামী বাজেটে কী কী সুপারিশ দিয়েছে বিডা?

সিরাজুল ইসলাম : বিনিয়োগকারীদের প্রায় সবার অভিযোগ রয়েছে নীতিমালার ঘন ঘন পরিবর্তন নিয়ে। এটা চলতে থাকলে বিনিয়োগ আসবে না। প্রত্যেকের নির্দিষ্ট বিনিয়োগ পরিকল্পনা থাকে। এনবিআর কোনো পণ্যে কর অবকাশ সুবিধা দিয়ে পরে তা তুলে নিলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

বিনিয়োগ বাড়াতে আগামী বাজেটে বেজা ও বেপজার আওতাধীন অঞ্চলের বাইরেও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একই সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিডা। বিশেষ করে কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া এবং অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগে প্রশ্ন না করার সুযোগের প্রস্তাব করা হয়েছে। করপোরেট কর কমিয়ে আওতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চালু শিল্পকেও যতটা সম্ভব সহায়তা দিতে হবে।

সমকাল : বিনিয়োগবান্ধব সেবা দিতে ওয়ান স্টপ সার্ভিসের অগ্রগতি কোন পর্যায়ে?

সিরাজুল ইসলাম : ওয়ান স্টপ সার্ভিসে (ওএসএস) সেবা দেওয়া সম্ভব হলে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়বে। সর্বশেষ দু'মাসে ছুটির মধ্যেও এ কেন্দ্র থেকে হাজারের বেশি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এতে সব প্রতিষ্ঠান যুক্ত হলে অনেক বেশি সেবা দেওয়া যেত। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে সবাইকে নিয়ে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর চেষ্টা করা হবে।