প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে হবে

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২০

প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে হবে

পবন চৌধুরী, নির্বাহী চেয়ারম্যান, বেজা

সমকাল :বর্তমানে বিনিয়োগ পরিস্থিতি কেমন যাচ্ছে? এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আপনাদের পরিকল্পনা জানতে চাই।

পবন চৌধুরী :করোনাভাইরাসের বর্তমান এ সংকটের সময় বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নয়নে সবার আগে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন করতে হবে। কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে আনা বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে জরুরি। তা হলে অন্য বিষয়গুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঠিক হয়ে যাবে। বিনিয়োগসহ অর্থনীতির সব খাত পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) পরিস্থিতি এখন বিশ্বের কোথাও ভালো নেই। বাংলাদেশেও তা থেকে বাদ নেই। যেসব দেশে করোনা নিয়ন্ত্রণে সেখানে অবস্থা ভালো হচ্ছে। গত পাঁচ মাসে শুধু ভিয়েতনাম এক দেশেই ২৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য রপ্তানি করেছে। সেখানে নতুন আক্রান্ত নেই, মৃত্যুও নেই। মাত্র ৩ হাজার ২৮ জন আক্রান্ত হয়েছিল। থাইল্যান্ডেও নতুন করে আক্রান্ত নেই। ইন্দোনেশিয়াতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এ কারণে দেশগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত হচ্ছে। ভারতে অনেকে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লেও সেখানে বিদেশি বিনিয়োগ আসার বিষয়ে কথা শোনা যাচ্ছে।

আমাদের এখানেও অনেকে বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা করছেন। অনেকেই আসবেন যেহেতু জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ দেশে বড় বড় অঞ্চল হচ্ছে। তবে উড়োজাহাজ না চললে, মানুষ আসার মতো পরিবেশ না হলে, স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি এবং করোনা নিয়ন্ত্রণে না হলে নতুন বিনিয়োগ পাওয়া কঠিন। পরিস্থিতি উন্নয়নের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে জাপানি ইজেড ও দেশের বৃহত্তম বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরের কাজ চলছে। এগুলোতে নতুন বড় বিনিয়োগ আসতে হলে করোনা নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। তাহলে আগামী অর্থবছরে বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নয়ন দেখা যাবে। ২০২১ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়বে।

সমকাল :বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নের অগ্রগতি সম্পর্কে বলুন? অন্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে করণীয় কী?

পবন চৌধুরী :বিনিয়োগে হোঁচট খাওয়ার মূল কারণ করোনা সংক্রমণ। মহামারির সংকট কেটে গেলে বিনিয়োগের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের বেলাতেও যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আনার মতো প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে স্বাভাবিকভাবে এবার বিদেশি বিনিয়োগ কম হবে।

আগামী বছরে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবে। এতে এগিয়ে থাকতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে অনেক বেশি সুবিধা দিতে হবে। কিছু দেশ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রথম ৫ বছর জমির ভাড়া না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সেভাবে আমাদেরও প্রণোদনা, কর ও শুল্ক্ক সুবিধা দেওয়া সম্ভব হলে বিনিয়োগ আসবে। বিশেষ করে কৃষিপ্রক্রিয়াজাত পণ্যসহ অন্য পণ্য রপ্তানিতে বাড়তি প্রণোদনা দিলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। মনে রাখতে হবে প্রতিযোগী ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ভারত ও কম্বোডিয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।

ভিয়েতনামে উৎপাদন করে খুব কাছের চীনে রপ্তানি করা যে কোনো কোম্পানির জন্য সহজ। ভিয়েতনামের সঙ্গে অনেক দেশের মুক্তবাণিজ্য চুক্তি আছে। থাইল্যান্ড থেকে আসিয়ানের ১৫ দেশে শুল্ক্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য রপ্তানি হয়। এসব সুবিধা আমাদের নেই। এ নিয়ে চিন্তা করতে হবে। প্রণোদনা দেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রতিযোগী দেশগুলো সমকক্ষ হতে হবে। তখনই দেশে বিনিয়োগ আরও গতিশীল হবে। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে। তবে বিনিয়োগকারীদের আনার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগ টানতে যেসব নীতিমালা করা হয়েছে সেগুলোর স্থিতিশীলতা থাকতে হবে।

সমকাল :বিনিয়োগ বাড়াতে আগামী বাজেটে কী প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)?

পবন চৌধুরী :একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে নতুন বাজেট হচ্ছে। অনেক চ্যালেঞ্জের বাজেট হবে এটি। ভিয়েতনাম এসএমইকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। কারণ, এতে বেশি কর্মসংস্থান হয়। এ খাতে ব্যাপক কর অব্যাহতি দিয়েছে। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগে আয়করে অব্যাহতির পরিধি বাড়াতে প্রস্তাব দিয়েছে বেজা। শুল্ক্ক ও কর কাঠামো আরও বিনিয়োগ সহায়ক করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

সমকাল :ইজেডগুলোর কাজের অগ্রগতি কতটা বিনিয়োগের উপযোগী।

পবন চৌধুরী :ইজেডের সবচেয়ে বড় সুবিধা গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি। বিনিয়োগকারীরা এলে জমিসহ এসব সুবিধা দ্রুতই পাবেন। বেশিরভাগ ইজেডে ভূমির পাশাপাশি সড়ক উন্নয়নের কাজ চলছে। বিনিয়োগকারীরা এলে তাদের জন্য হাজার হাজার একর ভূমি প্রস্তুত রয়েছে। শুধু বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে বেজার নিজস্ব উদ্যোগে দুই হাজার একর জমি উন্নয়ন করা হচ্ছে। বেপজাও ভূমি উন্নয়নের কাজ করছে। বেসরকারি ইজেডগুলোও প্রস্তুত হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি সব মিলিয়ে প্রায় তিন থেকে চার হাজার একর জমি উন্নয়ন করা হয়েছে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উন্নতি হলে বিনিয়োগ পেতে অসুবিধা হবে না। সেজন্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে।