জাপানে মেয়াদ ছাড়া নিয়োগের সুপারিশ

ঢাকায় টোকিওর মানবাধিকার প্রতিনিধি দল

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

জাপানে মেয়াদ ছাড়া নিয়োগের সুপারিশ

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে সোমবার সংবাদ সম্মেলনে টোকিওর এশিয়ান পিপলস ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটির প্রতিনিধিরা -সংগৃহীত

বাংলাদেশ থেকে যেসব শ্রমিক জাপানে যাবে তাদের নির্দিষ্ট মেয়াদে নিয়োগ দেওয়া ঠিক হবে না। কর্মক্ষমতা থাকা পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি সব পর্যায়ের শ্রমিকরা যেন পরিবারসহ জাপানে বসবাস করতে পারেন সেই উদ্যোগ নিতে হবে।

টোকিওর মানবাধিকার সংগঠন এশিয়ান পিপলস ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি (এপিএফএস) ও রিক্কো বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের যৌথ উদ্যোগে নেওয়া একটি প্রকল্পের কর্মকর্তারা এসব সুপারিশ করেছেন। গতকাল ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পটির উদ্দেশ্য তুলে ধরেন রিক্কো বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ডিন ড. মিজুকামি তেতসু। এপিএফএসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইয়োশিনারি কাতসুওর, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মাসুদ করিম এবং রিক্কো বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন অধ্যাপক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। ইয়োশিনারি কাতসুওরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করছে।

জাপান বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগামী ৫ বছরে ১৪টি খাতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ শ্রমিক নেবে। গত ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ থেকেও লোক নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের সরকারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। ফলে আগামীতে বাংলাদেশ থেকে জাপানে অভিবাসী বাড়বে। বর্তমানে জাপানে প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি অভিবাসী রয়েছেন। এ প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হচ্ছে জাপানের অভিবাসী শ্রমিকরা যাতে নিরাপদ ও শোভন জীবনযাপন এবং মানবিক সব রাষ্ট্রীয় সুযোগ পান সেজন্য সংশ্নিষ্ট দেশ ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সচেতন করা।

মিজুকামি তেতসুও বলেন, অভিবাসীদের শুধু 'প্রবাসী শ্রমিক' হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। এসব ব্যক্তির শোভন জীবনযাপনের ব্যবস্থা করতে হবে। জাপান সরকার ভাষা শেখার ওপর অনেক জোর দিয়েছে, কিন্তু কাজের জন্য ভাষা জানা মুখ্য নয়। এ ছাড়া এখন যেসব চুক্তি হচ্ছে সেখানে বলা হচ্ছে, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শ্রমিক নেওয়া হবে। কিন্তু একজন মানুষ কোথাও কাজের সুবাদে থাকলে সেখানকার সংস্কৃতি ও জীবনধারায় অভ্যস্ত হয়ে যান। হঠাৎ করে অন্য কোথাও যেতে হলে তার জীবন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে যাদের নেওয়া হচ্ছে রাষ্ট্রকেও তাদের প্রয়োজনগুলো দেখতে হবে। এ জন্য কর্মক্ষমতা থাকা পর্যন্ত কাজের সুযোগ দিতে হবে সবাইকে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞসহ পেশাজীবীদের জাপান সরকার সপরিবারে অবস্থানের সুযোগ দিচ্ছে। কিন্তু শ্রমিকদের বেলায় সেই সুযোগ নেই। এপিএফএস মনে করে, এটা শ্রমিকদের অধিকার হরণ। শ্রমিকরা নিজ খরচে যদি পরিবার নিয়ে থাকতে চায়, তাহলে তাকে সে সুযোগ দেওয়া উচিত।