এক হাজার টাকা ছাড়া অন্য বান্ডিলে পিন নয়

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

এক হাজার টাকা ছাড়া অন্য নোটের বান্ডিলে ব্যাংকগুলোর পিন মারার কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে অন্য সব নোট পলিমার টেপ বা পলিমারযুক্ত পুরু কাগজের টেপ দিয়ে বান্ডিল করতে হবে। এতদিন ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটে পিন মারার সুযোগ ছিল।

এ ছাড়া ব্যাংকের শাখা থেকে নোট গ্রহণ, প্রদান বা গণনার সময় টাকার ওপর সিল, সই, সংখ্যা বা অন্য যে কোনো লেখালেখি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত নির্দেশনা ব্যাংকগুলোতে পাঠিয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, নোটের ওপর বিভিন্ন দফায় টাকার সংখ্যা লেখা, সিল ও সই দেওয়া বা বারবার স্ট্যাপল করার কারণে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে নোটগুলো নষ্ট হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, লেখালেখির এ প্রবণতা দিনে দিনে বাড়ছে এবং ব্যাংকাররা লাল, নীল, কালোসহ বিভিন্ন কালিতে বেশি লেখালেখি করছেন।

এ ছাড়া সব মূল্যমানের নোট বান্ডিল বা প্যাকেট করার সময় সিল মারার বিষয়টি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এতে খুব অল্প সময়ের মধ্যে নোট অচল হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া স্ট্যাপলিংয়ের কারণে নোটের স্থায়িত্ব কমে যাচ্ছে। এ প্রবণতা বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্লিন নোট নীতি ও নোট ব্যবস্থাপনা কৌশলের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এ রকম পরিস্থিতিতে টাকার ওপর কোনো ধরনের সিল, সই, লেখালেখি বা স্ট্যাপল না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ব্যাংকগুলোকে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, নতুন ও পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট প্যাকেট করার সময় সিল, সই, সংখ্যা বা অন্য কোনো লেখালেখি না করে ব্যাংকের মুদ্রিত ফ্লাইলিফে ব্যাংক শাখার নাম, সিল, নোট গণনাকারী ও প্রতিনিধির সই এবং তারিখ বাধ্যতামূলকভাবে দিতে হবে। স্ট্যাপলিং না করে পলিমার টেপ অথবা পলিমারযুক্ত পুরু কাগজের টেপ দিয়ে নোটের বান্ডিল করতে হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যাংকগুলো অন্য দেশে ব্যবহূত উন্নত প্রযুক্তির অনুসরণ করেও বান্ডিল বানাতে পারবে। তবে সে পদ্ধতি বিদ্যমান নোট বাঁধাই করার পদ্ধতির চেয়ে কার্যকর হতে হবে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, বেশির ভাগ দেশে নোটের ওপর লেখালেখি বা স্ট্যাপলিংয়ের প্রচলন নেই। দেশে কারণে-অকারণে নোটের ওপর লেখা, সিল বা সই করা হয়। হিসাব রাখার সুবিধার্থে ব্যাংকাররা এ কাজ বেশি করে থাকেন। সাম্প্রতিক সময়ে এ প্রবণতা ব্যাপক বেড়ে যাওয়ায় সরকারের নোট ছাপানোর খরচ বাড়ছে। এ রকম পরিস্থিতিতে এ নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।