রফতানির অর্থ ফেরত না এলে মামলা

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

ওবায়দুল্লাহ রনি

দেশ থেকে পণ্য রফতানির জন্য জাহাজীকরণের ১২০ দিনের মধ্যে অর্থ ফেরত না আনলে রফতানিকারকের বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা করতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের কোনো ধারা লঙ্ঘন করলে সে ক্ষেত্রে মামলার জন্য সরকারি গেজেট জারির প্রয়োজন হবে না। আইন লঙ্ঘনে জেল-জরিমানা কী হবে, তাও নির্দিষ্ট হচ্ছে। এ আইনে কোন ধরনের অপরাধ বিবেচনায় নেওয়া হবে, তাও উল্লেখ করা হচ্ছে। এভাবে বিভিন্ন সংযোজন-বিয়োজনসহ বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করে ৭২ বছর পর বাংলায় প্রণয়ন করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংশোধিত আইনের খসড়ার ওপর মতামতের জন্য এরই মধ্যে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, সংশোধিত আইনের খসড়া শিগগিরই অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হবে। প্রয়োজনীয় মতামতসহ সেখান থেকে যাবে আইন মন্ত্রণালয়ে। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের পর মন্ত্রিপরিষদ সভায় অনুমোদিত হলে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হবে। বাংলায় আইনের নাম হবে 'বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১৯'। ইংরেজিতে 'ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট, ১৯৪৭' নামে আইনটি রয়েছে। ১৯৪৭ সালে আইন প্রণয়নের পর ১৯৭৬, ২০০৩ ও ২০১৫ সালে সংশোধনী আনা হলেও তা বাংলায় হয়নি।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বলা হয়েছে, ধারা ২৩-এর অধীনে সাধারণভাবে সব অপরাধ বা এর অধীন কোনো নির্দিষ্ট অপরাধের বিষয়ে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক হতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ ছাড়া কোনো আদালত এই আইনের অধীনে কোনো বিচারকাজ গ্রহণ করবেন না।

বিদ্যমান আইনের ২৩(৩) ধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক বা সরকার অনুমোদিত ব্যক্তির লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ আইনের ধারা লঙ্ঘনের দায়ে বিচার করা যাবে। তবে ২৩(২) ধারায় বলা হয়েছে, অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, এ আইনের আওতায় কোনো অপরাধের বিচার করতে চাইলে তা সরকারের গেজেট নোটিফিকেশন দ্বারা ঘোষিত হতে হবে। তবে ১৯৪৭ সালে আইন প্রণয়নের পর থেকে আজ অবধি এ-সংক্রান্ত কোনো গেজেট হয়নি। যে কারণে রফতানি বিল অপ্রত্যাবাসিত থাকার ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংক গাজীপুরসহ কয়েকটি দায়রা জজ আদালতে মামলার উদ্যোগ নিলেও তা নেননি আদালত। বর্তমানে হাজার হাজার কোটি টাকার রফতানি বিল অপ্রত্যাবাসিত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যমান আইনের ২৩ ধারার বিধান পুরোপুরি বিলুপ্ত করে নতুন সংযুক্তি দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনের ২৩(৩) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি এ আইনের বিধান বা আইনের আওতায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা প্রবিধান বা নির্দেশনা লঙ্ঘন বা বাধাগ্রস্ত করলে তাকে তিন লাখ থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা ছয় মাস থেকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। যে কোনো মুদ্রা, সিকিউরিটি, স্বর্ণ বা রৌপ্য বা দ্রব্যসামগ্রী বা অন্যান্য সম্পত্তির ক্ষেত্রে উক্ত লঙ্ঘন সংঘটিত হলে প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনাল থেকে সাজার অতিরিক্ত হিসেবে তা বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া যাবে। ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামলার অভিযোগ গঠনের তারিখ থেকে ছয় মাসের মধ্যে সব বিচারকাজ সম্পন্ন করবেন। ট্রাইব্যুনাল বলতে সব দায়রা জজ আদালত এবং তার এখতিয়ারভুক্ত এলাকার এক বা একাধিক অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতকে বোঝাবে। ২৩(১) ধারায় বলা হয়েছে, এ আইনের অধীনে লাইসেন্স না পেয়ে কেউ বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবসা করলে তিন লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং ছয় মাস থেকে অনধিক সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। আর কোনো ব্যাংক বা মানি চেঞ্জার প্রতারণার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য দিলে তিন লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রস্তাবিত আইনের ২(খ) ধারায় আমদানিকারকের সংজ্ঞা আরও বিশদভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর ৩(ক) ধারায় মানি চেঞ্জারের সংজ্ঞা ও কার্যাবলি সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৪(৩) ধারা সংশোধন করে ভ্রমণ কোঠার বাইরে বৈধ উপায়ে কারও কাছে বৈদেশিক মুদ্রা থাকলে সর্বোচ্চ পাঁচ দিনের মধ্যে তা বিক্রির বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে কারও কাছে বৈদেশিক মুদ্রা আসার সঙ্গে সঙ্গে তা বিক্রির বিধান রয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত নয়।