স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার বাড়াতে হবে

সানেমের সম্মেলনে বক্তারা

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

গ্রামের মানুষের মৌলিক সেবা দিতে স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার বাড়াতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে অনেক সম্পদ থাকলেও তার সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে সরকারের বরাদ্দ দেওয়া অর্থের সুবিধা ভোগ করছেন প্রভাবশালীরা। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে স্থানীয় পর্যায়ের সব স্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

গতকাল রোববার রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক সেন্টার ইনে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়া নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও বিশ্বব্যাংক আয়োজিত চতুর্থ দক্ষিণ এশিয়া অর্থনৈতিক যোগাযোগ সম্মেলনের সমাপনী দিনে এসব কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে বিশেষজ্ঞ প্যানেল আলোচনায় পলিসি রিচার্স ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ সেবা ও সম্পদের ব্যবহার বাড়ানো উচিত। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের নির্দেশনা মানার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এমনকি তাদের আওতায় জেলা ও উপজেলা পরিষদ তেমন ভূমিকা রাখতে পারে না। তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে মৌলিক ১৩টি সেবা এখন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয় না। কারণ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে এসব সেবা নিয়ন্ত্রণ করছে। স্থানীয় পর্যায়ে অনেক সম্পদ থাকলেও তার ব্যবহার হয় না। অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নেই। এই পদ্ধতির পরিবর্তন দরকার।

ভারতের গবেষণা ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পর্কবিষয়ক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ড. ইশার জাজ আহলুয়ালিয়া বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। স্থানীয় সেবার ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি যৌথ কাঠামো গঠন করে চুক্তি হওয়া উচিত। একই সঙ্গে ক্ষমতা ও অর্থায়ন বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. ইশরাত হুসাইন বলেন, স্থানীয় সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টা থাকতে হবে। অভিজাত ও মধ্যবিত্তদের সেবা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিতে হবে। স্থানীয়দের সক্ষমতা বাড়ানো হলে তাদের শহরমুখী হওয়ার প্রয়োজন হবে না।

সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, দেশের সেবা ব্যবস্থা অনেক দুর্বল। এই সেবায় দুর্নীতির চিহ্ন পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে স্থানীয়দের ক্ষমতায়নের পাশাপাশি সক্ষমতা বাড়ানো দরকার।

তিনি বলেন, বর্তমানে স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় বেসরকারি খাত বড় ভূমিকা রাখছে। এ দুই খাতে সরকারের বরাদ্দ কম থাকার কারণে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে বেশি খরচ হয়। এ ক্ষেত্রে বরাদ্দ দেওয়া অর্থের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. হ্যান্স টিমার বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতি হচ্ছে। পাশাপাশি ভুল নির্দেশনায় চলছে। ক্ষমতা ও অর্থায়ন বিকেন্দ্রীকরণ হলে দুর্নীতি রোধে সহায়ক হবে। বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সাধারণ মানুষের কাছে কোনো জবাবদিহিতা নেই। কেবল কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জবাব দিতে হয়। এ অবস্থার পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে কর সংগ্রহ করে ব্যয় করার সুযোগ দিলে রাজস্ব আয় বাড়বে। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ উন্নত দেশগুলোতে স্থানীয় পর্যায়ে অনেক ক্ষমতায়ন ও সক্ষমতা বাড়িয়েছে। বাংলাদেশেও একইভাবে সেবার উন্নতি করা যেতে পারে।