উত্তর-পূর্ব অর্থনৈতিক করিডোর আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াবে

বিডা ও এডিবির সেমিনার

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক করিডোরের মাধ্যমে আঞ্চলিক বাণিজ্যের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এই করিডোর বাস্তবায়ন হলে অভ্যন্তরীণ শিল্পায়ন, পরিবহন ও যোগাযোগের উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার সড়ক যোগাযোগের সেতু হিসেবে কাজ করবে।

গতকাল রোববার বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) যৌথ আয়োজনে এক পরামর্শক সভায় বক্তারা এমন মতামত দেন। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অর্থনৈতিক করিডোর উন্নয়ন বিষয়ে সংশ্নিষ্টদের মতামত নিতে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। চীনের দারিদ্র্য বিমোচন ও আঞ্চলিক সহযোগিতা তহবিল এ সভা আয়োজনে আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছে। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ভারত, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারকে সম্পৃক্ত করে এই অর্থনৈতিক করিডোরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অর্থনৈতিক করিডোরের আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে এডিবি একটি সমীক্ষা পরিকল্পনা করবে। এডিবি এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে। এই অঞ্চলে কোন শিল্পের সম্ভাবনা রয়েছে, সে জন্য কোন ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন করা দরকার এবং পরিকল্পিত শিল্পোন্নয়নে কোন ধরনের নগর উন্নয়ন দরকার তা খতিয়ে দেখবে এডিবি।

সভার প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, এ অঞ্চলের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সমস্যাও রয়েছে। এক সময় এই অঞ্চলের মধ্যে মানুষের অবাধ চলাচল ছিল। এখন পাসপোর্ট নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্বসহ বিভিন্ন কারণেই আজকের পরিস্থিতি। এখন করিডোর স্থাপন করতে গেলেও এসব বিষয় আসবে। করিডোর করতে পারলে সহজে অনেক এগোনো যাবে। এ জন্য ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়ন দরকার। বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব উদ্যোগেই অনেক অবকাঠামো উন্নয়ন করছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাণিজ্য সম্ভাবনা কাজে লাগানোও সরকারের লক্ষ্য। এ জন্য সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথের যোগাযোগ বাড়াতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, সরকার এরই মধ্যে এ অঞ্চলের সম্ভাবনা অনুধাবন করেছে। এ সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই সরকার যে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে তার অনেকগুলো দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে করা হবে। সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে এডিবির সমীক্ষার উদ্যোগকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরেক বিশেষ অতিথি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা ও পদ্মা নদীর মধ্যে সংযোগ সৃষ্টি করে নৌ যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে। এ ছাড়া রেল ও আকাশপথের যোগাযোগও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ বলেন, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রয়েছে আকর্ষণীয় কৌশলগত অবস্থান এবং প্রাকৃতিক সম্পদ। আঞ্চলিক উন্নয়নে এ করিডোর ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। এ অঞ্চলে অর্থনৈতিক করিডোর স্থাপনে কী ধরনের অবকাঠামো এবং শহর ও গ্রামের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হাতে নিতে হবে তার একটি সমীক্ষা দরকার বলে তিনি মনে করেন।

এডিবির ঢাকা অফিসের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ সুন চ্যাং হং বলেন, এই করিডোর শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিবহন ও যোগাযোগ গেটওয়ে হিসেবে কাজ করবে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটানের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের সেতু হিসেবেও কাজ করবে বাংলাদেশ।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে সংস্থাটির সদ্য বিদায়ী নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম এতে বক্তব্য দেন।