পরিবেশবান্ধব ট্যানারির ঋণে আগ্রহ নেই

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০১৯

ওবায়দুল্লাহ রনি

পরিবেশবান্ধব কারখানা নির্মাণ বা রূপান্তরের জন্য ২০১৬ সালে ২০ কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এক হাজার ৭০০ কোটি টাকার সমপরিমাণের এ তহবিল থেকে সাড়ে ৫ শতাংশেরও কম সুদে ঋণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে চামড়া খাতের উদ্যোক্তাদের। তবে বাজারের চেয়ে কম সুদের এ ঋণে আগ্রহ নেই তাদের। তহবিলের কার্যক্রম শুরুর সাড়ে তিন বছরে একটি আবেদনও পায়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে কম সুদের এ তহবিলের বড় অংশই পড়ে আছে। মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তহবিল থেকে ঋণ নিতে অনেক শর্ত পূরণের বাধ্যবাধকতা থাকায় আশানুরূপ সাড়া মিলছে না বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি শিল্প স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে উদ্যোক্তাদের সহায়তার জন্য কম সুদের এ তহবিল গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৬ সালে ট্যানারি স্থানান্তর শুরুর আগেই ওই বছরের জানুয়ারিতে পরিবেশবান্ধব কারখানা নির্মাণ বা রূপান্তরে সহায়তা দিতে তহবিল গঠন করা হয়। তহবিলের কার্যক্রমের শুরুতে শুধু চামড়া ও টেক্সটাইল খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য এখান থেকে ঋণের সুযোগ ছিল। তবে দীর্ঘদিন তহবিল অব্যবহূত থাকার পর সম্প্রতি রফতানিমুখী যে কোনো খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য এ ঋণ উন্মুক্ত করা হয়েছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহীউদ্দিন আহমেদ মাহিন সমকালকে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তহবিল থেকে ঋণ নেওয়ার নানা শর্ত আরোপিত আছে। এসব শর্ত মেনে আবেদন করার মতো পরিস্থিতি এখন এ খাতের উদ্যোক্তাদের নেই। এ কারণে কেউ আবেদন করেননি। তবে শর্ত শিথিল করলে হয়তো অনেকেই আবেদন করবেন। যদিও শর্ত শিথিলের জন্য কোনো আবেদন করা হয়নি বলে তিনি জানান।

জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ২০ কোটি ডলারের তহবিল প্রায় অব্যবহূত ছিল। এখান থেকে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ১৩ লাখ ডলার। সম্প্রতি টেক্সটাইল খাতের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান চারটি ব্যাংকের মাধ্যমে আড়াই কোটি ডলারের ঋণ নিয়েছে। আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ঋণ ছাড়ের অপেক্ষায় রয়েছে। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট বিবেচনায় এ বছর আরও বেশ কিছু ঋণের অনুমোদন হবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগ।

জানতে চাইলে বেসরকারি একটি ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তহবিল থেকে ঋণ নিতে উদ্যোক্তাদের অনেক ধরনের কাগজপত্র দিতে হয়। কয়েকটি স্তরে যাচাই-বাছাই শেষে ঋণ নিতে উদ্যোক্তাদের আগ্রহের ঘাটতি রয়েছে। এ ছাড়া বস্ত্রসহ বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তারা কয়েক বছর ধরে বিদেশ থেকে খুব কম সুদে ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি ঋণ কিছুটা কড়াকড়ি করায় অন্য খাতের হয়তো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তহবিল থেকে ঋণ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তবে চামড়া খাতের উদ্যোক্তাদের আগ্রহী না হওয়ার কারণ তার জানা নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ব্যাংকগুলো ছয় মাসের লাইবরের (লন্ডন ইন্টার ব্যাংক অফার রেট) সঙ্গে ১ শতাংশ যোগ করলে যে সুদহার দাঁড়ায়, সেই হারে এ তহবিল থেকে অর্থ পায়। এর সঙ্গে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ সুদ যোগ করে ব্যাংকগুলো গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ করতে পারে। বর্তমানে লাইবর রয়েছে ২ দশমিক ২৩ শতাংশ। এর ফলে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদহার দাঁড়ায় ৫ দশমিক ২৩ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান নীতিমালায় সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদে বিদেশি ঋণ নিতে পারেন উদ্যোক্তারা। স্থানীয় ব্যাংকের মাধ্যমে যা আনা হয়। তবে ইউরো অঞ্চলের বাইরে অন্য বৈদেশিক মুদ্রার সুদহার বাড়তির দিকে থাকায় বিদেশি ঋণের সুদহারের সর্বোচ্চ সীমা তুলে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে স্থানীয় ব্যাংকগুলো। এ তহবিল থেকে ঋণ বিতরণের জন্য এখন পর্যন্ত ১৯টি ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ দেওয়ার লক্ষ্যে বর্তমানে রফতানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) নামে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি উদ্যোগ বিদ্যমান রয়েছে। রফতানিমুখী শিল্পের প্রসারে ২০০৫ সালে

গঠিত তহবিলের বর্তমান আকার দাঁড়িয়েছে ৩৫০ কোটি ডলার।