অর্থবছর ২০১৭-১৮

১৩ কোম্পানির লোকসান ১১ হাজার কোটি টাকা

রাষ্ট্রায়ত্ত ৪৯ কোম্পানির মোট মুনাফা ৫০৮০ কোটি টাকা

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৯

হাসনাইন ইমতিয়াজ

চার বছর ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি থেকে সার্বিক হিসাবে লাভ পাচ্ছে সরকার। প্রায় অর্ধ শতাধিক কোম্পানির মধ্যে বেশিরভাগই মুনাফা করছে। এর মধ্যে সেবা খাতের বেশ কয়েকটি বৃহৎ কোম্পানি বড় ধরনের লোকসান না করলে লোকসানের দুর্নাম অনেকটাই কাটত এসব প্রতিষ্ঠানের। ২০১৭-১৮ অর্থবছরেও এমন ১৩ প্রতিষ্ঠান লোকসান দিয়েছে ১১ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা, যা মুনাফার প্রায় আড়াই গুণ।

আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের দিন গত বৃহস্পতিবার সর্বশেষ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজেট-সংক্ষিপ্তসারের পৃথক একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়। এতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রাষ্ট্রায়ত্ত উৎপাদন ও সেবামুখী খাতের কোম্পানিগুলোর আর্থিক হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।

এতে দেখা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ৪৯ প্রতিষ্ঠান ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সব মিলে সর্বশেষ লোকসান করে দুই হাজার ৬০৮ কোটি টাকা। এরপরের অর্থবছর থেকে সার্বিক হিসাবে সরকারি কোষাগারে মুনাফা যোগ করেছে কোম্পানিগুলো। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নিট মুনাফা করেছে পাঁচ হাজার ৮০ কোটি টাকা। তবে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ ধারায় ছেদ পড়তে পারে বলে আভাস দিচ্ছে সর্বশেষ সরকারি হিসাব- নিকাশ। অর্থ বিভাগ প্রকাশিত অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুসারে চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর নিট লোকসানের পরিমাণ চার হাজার ৩২৪ কোটি টাকা।

গত অর্থবছরের লোকসানি খাত :সরকারি মালিকানায় থাকা আর্থিক খাতের বাইরের ৪৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩টি বড় ধরনের লোকসানে পড়ে। মোট ১১ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকার মধ্যে শুধু বিদ্যুৎ খাতেই লোকসান গুনতে হয়েছে ৯ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। এসব বাজেট ডকুমেন্টে এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, জনকল্যাণে উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে কম মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করায় লোকসান হচ্ছে।

এ ছাড়া গত অর্থবছরে বড় ধরনের লোকসান হয় চিনি ও খাদ্য শিল্পে, যার পরিমাণ ৮৩৩ কোটি টাকা। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের কাগজ, রসায়ন, চামড়া, সার কারখানগুলোর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৫৫৫ কোটি টাকা। পাটকলে লোকসানের পরিমাণ ছিল ৪৯৭ কোটি টাকা।

অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ কাজে নিয়োজিত ৮০ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি লোকসান দিয়েছে ১৬১ কোটি টাকা। সড়ক পরিবহন করপোরেশন ৯৫ কোটি, বস্ত্র কারখানাগুলো ১৫ কোটি, টিসিবি দুই কোটি, মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন সাড়ে তিন কোটি টাকা, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ৩০ কোটি, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ২৩ কোটি, চলচিত্র উন্নয়ন করপোরেশন ১৩ কোটি ও অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ প্রায় ১৬ কোটি টাকা লোকসান দেয়।

চলতি অর্থবছরের লাভ-লোকসান : অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এপ্রিল পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মুনাফা করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে সংস্থাটি মুনাফা করেছে দুই হাজার ৫৪৮ কেটি টাকা, যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরজুড়ে ছিল ছয় হাজার ২৬২ কোটি টাকা। এ ছাড়া বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) মুনাফা করেছে এক হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা। গত বছরের মতো এবারও বিদ্যুৎ খাতে সবচেয়ে বেশি লোকসান হয়েছে। এপ্রিল পর্যন্ত পিডিবির লোকসান দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ২৭১ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের পুরো সময়ের চেয়ে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বেশি।

অন্যান্য সংস্থার মধ্যে এখন পর্যন্ত পেট্রোবাংলা ৮৮৯ কোটি ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ৫৯১ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। অন্যদিকে আরইবির লোকসান বেড়ে হয়েছে ৫৯২ কোটি টাকা। রাষ্ট্রীয় পাটকলগুলোতেও ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে। গত অর্থবছরের পুরো সময়ের চেয়ে এখন পর্যন্ত ১৯৮ কোটি টাকা বেড়ে মোট লোকসান হয়েছে ৬৯৫ কোটি টাকা।

সরকারি দেনা :গত ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের কাছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পাওনার পরিমাণ দুই লাখ ১৪ হাজার ৫৬১ কেটি টাকা। এর মধ্যে পিডিবির কাছে ৯৬ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা এবং বিপিসির কাছে পাওনা ২৫ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা।