আস্থার সংকটে দক্ষিণ এশিয়ায় আন্তঃবাণিজ্য বাড়ছে না

ঢাবির অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

দক্ষিণ এশিয়ার আন্তঃবাণিজ্য এবং সংযোগ বিশ্বের যে কোনো অঞ্চলের তুলনায় অনেক কম। এর সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে আস্থার সংকট। এ কারণে অন্যান্য সংকটের সমাধানও হচ্ছে না বলে মনে করেন আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকায় আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদ সম্মেলনের 'অংশিদারী উন্নয়ন :বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক সংযোগ' শীর্ষক কর্মঅধিবেশনে এসব কথা বলেন তারা। গতকাল শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজাফ্‌ফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে দু'দিনের এ সম্মেলন শুরু হয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এ অধিবেশনে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক উন্নয়নে নীতিনির্ধারকদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ফেরাতে অর্থনৈতিক কূটনীতিকে কাজে লাগানোর সুপারিশ করা হয়। অংশীদারিত্বভিত্তিক উন্নয়নের সুফল সম্পর্কে সোচ্চার হতে অর্থনীতিবিদদের জোরালো ভূমিকা নেওয়ার কথাও উঠে আসে। প্যানেল আলোচনায় কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েটের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতির সাবেক বিভাগীয় প্রধান এবং গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) গবেষণা পরিচালক ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার একীভূত উন্নয়ন দর্শনই সাংঘর্ষিক। এর প্রধান সমস্যা হচ্ছে, নীতিনির্ধারকরা আসলে কী চান, সেটা সুস্পষ্ট নয়। এ কারণে বিভিন্ন দেশের শুল্ক্কনীতি অত্যন্ত সংরক্ষণমূলক। আস্থার সংকটের কারণে দক্ষিণ এশীয় অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধার (সাপটা) অধীনে শুল্ক্কমুক্ত বাণিজ্যের কথা বলা হলেও অশুল্ক্ক-আধা শুল্ক্ক বাধায় তা আটকে আছে। এ কারণে আন্তঃবাণিজ্য এগোচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়া থেকে আমদানি করে মোট আমদানির ১৬ শতাংশ। বাকি ৮৪ শতাংশ অন্য অঞ্চল থেকে আমদানি করা হয়। তিনি বলেন, আস্থার সংকটের কারণেই ভারত থেকে আমদানি বাড়লে এ দেশে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বাণিজ্য মাত্র ২৩ বিলিয়ন ডলার। অথচ বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, বাণিজ্য সামর্থ্য অন্তত ৬৭ বিলিয়ন ডলার। শুল্ক্কনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবেশী অন্য দেশ শুল্ক্ক না কমালে বাংলাদেশ এ বিষয়ে উদার হতে পারে না। তিনি বলেন, নিজেদের মধ্যে আন্তঃবাণিজ্য বাড়লে দক্ষিণ এশিয়া অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে লাভবান হতো। অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যের দরও কমত বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভারতের রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম ফর ডেভেলপিং কান্ট্রিজের ড. প্রবীর দে নিজেও আন্তঃবাণিজ্য বৃদ্ধিতে নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টিভঙ্গির অস্পষ্টতার কথা বলেন।

নেপালের সাউথ এশিয়া ওয়াচ অন ট্রেড, ইকোনমিক্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের (এসএডব্লিউটিইই) গবেষণা পরিচালক ড. পারজ খারেল বলেন, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দুর্বলতার কারণে বড় সম্ভাবনার আন্তঃযোগাযোগ স্থাপনে চার দেশের আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্প বিবিআইএন এখনও সম্ভাবনার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ এখনও সংরক্ষণমূলক নীতি অনুসরণ করছে।