দু'মাস পরেই সেপ্টেম্বরে রফতানিতে ছন্দপতন

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০১৭

সমকাল প্রতিবেদক


চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস ভালো কাটার পর আবারও রফতানি আয়ে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। গত সেপ্টেম্বরে আগের বছরের একই মাসের তুলনায় আয় কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রা থেকে রেকর্ড ২৭ শতাংশ কম এসেছে রফতানি আয়। হঠাৎ করে ছন্দপতনের কারণে গত তিন মাসের গড় প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭ শতাংশের কিছু বেশি। আগের দুই মাসে এ হার ছিল ১৪ শতাংশ। অথচ বছরের শুরুটা হয়েছিল আশাজাগানিয়া। জুলাইয়ে রেকর্ড
২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে চলতি অর্থবছর শুরু হয়।
সে সময় অনেকেই আশা করেছিলেন, ইতিবাচক এই ধারা ধরে রাখতে পারবে রফতানি খাত। তবে প্রথম দুই মাসের ভালো আয় নিয়ে উদ্যোক্তারা খুব বেশি আশাবাদী ছিলেন না। তাদের শঙ্কা ছিল, আগামীতে ইতিবাচক ধারা ধরে রাখা যাবে না। তাদের শঙ্কাই শেষ পর্যন্ত সত্য হলো। জানতে চাইলে প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সহসভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু সমকালকে বলেন, সেপ্টেম্বরে ঈদুল আজহার কারণে হঠাৎ করে রফতানি এত বেশি কম হয়েছে। এ সময় বলতে গেলে মাত্র ২০ দিন কারখানায় উৎপাদন হয়েছে। অর্থাৎ, মাসের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাদ দিয়ে মাসের হিসাব করলে আয় এর চেয়ে বেশি হওয়ার কথা নয়। আবার গত রোজার ঈদে এ রকম বন্ধ থাকার পরের মাসে বেশি উৎপাদনের ফলে হঠাৎ করে অর্থবছরের প্রথম মাসে অস্বাভাবিক বেশি আয় হয়েছে। তিনি বলেন, ২৭ শতাংশ বেশি আয়ও কিন্তু স্বাভাবিক ছিল না। তবে গড়ে তিন মাসের এখন যে চিত্র দাঁড়াল, এটাই প্রকৃত চিত্র। তিনি বলেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত রফতানি আদেশের কাজ এখন উদ্যোক্তাদের হাতে। তাতে আগামী কয়েক মাস একই রকম আয় আসবে বলে আশা করছেন তারা।
রফতানি উম্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে বিভিম্ন পণ্য রফতানি থেকে আয় এসেছে ২০৩ কোটি ডলার। গত বছরের একই মাসে আয় ছিল ২৫৬ কোটি ডলার। অর্থাৎ, আয় কমেছে ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রা থেকে আয় কম হয়েছে ২৬ দশমিক ৭২ শতাংশ। সেপ্টেম্বরের আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৭৮ কোটি ডলার। সেপ্টেম্বরসহ গত তিন মাসে ৮৬৬ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে রফতানির পরিমাণ ছিল ৮০৮ কোটি ডলার। এ সময়ের লক্ষ্যমাত্রা থেকে আয় কম হয়েছে ২ দশমিক ৮৪ শতাংশ। তিন মাসের মোট লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৯১ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
মোট আয়ের মধ্যে প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাক থেকেই তিন মাসে এসেছে ৭১৪ কোটি ডলার। আগের বছরের তুলনায় রফতানি বেড়েছে ৭ শতাংশ। তবে এ সময়ের লক্ষ্যমাত্রা থেকে আয় কমেছে সামান্য ব্যবধানে। পোশাকের মধ্যে ওভেনের তুলনায় নিটের রফতানির হার কিছুটা বেশি। ওভেনের রফতানি বেড়েছে ৪ শতাংশ ও নিটের ১০ শতাংশ।
আলোচিত পণ্যের মধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্যপণ্য, হোম টেক্সটাইল, পাট, চা, কৃষি ও কৃষিজাত পণ্যের আয় বেড়েছে। তবে আলোচ্য সময়ে রফতানিতে ভালো অবস্থার মধ্যেও কিছু পণ্যের আয় কমেছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে- বিভিম্ন রাসায়নিক ও প্রকৌশল পণ্য এবং নির্মাণসামগ্রী।
গত অর্থবছরের (২০১৬-১৭) প্রথম মাস জুলাইয়ে ৩ শতাংশ কম আয় দিয়ে বছর শুরু হয়। বছরজুড়ে প্রায় সেই প্রবণতা অব্যাহত ছিল। শেষ পর্যন্ত বছর শেষে প্রবৃদ্ধি হয় মাত্র ১ দশমিক ৬৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দিয়ে। প্রধান পণ্য তৈরি পোশাকের রফতানি ব্যাপক কমে যাওয়ায় প্রবৃদ্ধি গত ১৫ বছরের সর্বনিল্ফম্ন হারে এসে ঠেকে। এর মধ্যে তৈরি পোশাকের ওভেনের আয় গত অর্থবছরের তুলনায় ২ দশমিক ২৫ শতাংশ কম হয়েছে।