জার্মানিতে খাদ্যপণ্যের সর্ববৃহৎ মেলায় বাংলাদেশি কোল্ফপানি

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০১৭

জাকির হোসেন, কোলন (জার্মানি) থেকে


রাইন নদীতীরের শহর কোলন এখন লোকে লোকারণ্য। জার্মানির এ শহরে চলছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় খাদ্যপণ্য ও পানীয়ের প্রদর্শনী। আনুগা নামের এ প্রর্দশনীতে অংশ নিচ্ছে ১০৭ দেশের সাত হাজার ৪০০ কোম্পানি। কয়েক বর্গকিলোমিটার জায়গায় খাদ্য ও পানীয় শিল্পের বড় বড় ব্রান্ডের পাশাপাশি উপস্থিত হয়েছে বাংলাদেশি ব্র্যান্ড প্রাণ।
পাঁচ দিনের এ প্রদর্শনীতে প্রাণ গ্রুপ ১৪ বারের মতো অংশ নিচ্ছে। মেলায় তাদের রয়েছে দুটি স্টল। আরেক বাংলাদেশি কোম্পানি সজীব গ্রুপও সেখানে তাদের পণ্য নিয়ে হাজির হয়েছে।
কোলন মেসে প্রদর্শন কেন্দ্রের ১১ বৃহৎ হলজুড়ে চলছে খাদ্য ও পানীয়ের সর্ববৃহৎ এ প্রদর্শনী। শনিবার উদ্বোধনের পর থেকে সরগরম হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। খাদ্য ও পণ্যের ১০টি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে একই স্থানে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি খাদ্যপণ্য ও সেবার সমাহার হয় এ প্রদর্শনীতে।
আনুগা খাদ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শনী। এ খাত-সংশ্নিষ্টদের মতে, এ প্রদর্শনী বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের ব্যবসায় অনুপ্রেরণা জোগায়। পণ্য প্রদর্শনী ছাড়াও সেমিনার, পণ্যের বিশেষ দিক তুলে ধরতে প্রদর্শনীসহ নানাবিধ আয়োজন চলে পাঁচ দিনজুড়ে। এর আগের বার প্রদশর্নী স্থান ঘুরে গেছে ১৯২ দেশের ১৬ লাখ দর্শক। এ থেকেই বোঝা যায় এ আয়োজনের ব্যাপকতা। মেলায় এবারের কান্ট্রি পার্টনার ভারত। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় দেশটির শতাধিক কোম্পানি অংশ নিচ্ছে।
প্রাণ এক্সপোর্ট লিমিটেডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) মিজানুর রহমান সমকালকে জানান, দেশের চাহিদা মিটিয়ে ১৩৫ দেশে যাচ্ছে প্রাণের পণ্য। পর্যায়ক্রমে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই প্রাণের পণ্য পৌঁছে দিতে চান তারা। এ প্রদর্শনীতে আসার মূল উদ্দেশ্য রফতানি বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি এ শিল্পের সর্বশেষ ট্রেন্ড সম্পর্কে জানা।
প্রাণ এক্সপোর্টের উপ-মহাব্যবস্থাপক এবং ইউরোপ ও আমেরিকা অঞ্চলের রফতানি-প্রধান গোলাম রসুল জানান, এবারের প্রদর্শনীতে তারা প্রাণের প্রায় সাড়ে ৫০০ পণ্য নিয়ে হাজির হয়েছেন। বাংলাদেশি পণ্যের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার দুটি স্টলে পণ্য প্রদর্শন করছেন তারা। গত বছর ৩৫ লাখ ডলারের বিক্রয়াদেশ পেয়েছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, এবারের প্রত্যাশা ৬০ লাখ ডলার। তিনি আরও জানান, এবার প্রথম দিনেই লেবানন, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, বেলজিয়ামের বেশ কিছু কোম্পানি কনফেকশনারি পণ্য কেনার আদেশ দিয়েছে। আরও কিছু ক্রেতা নমুনা সংগ্রহ করেছে। তাদের কাছ থেকেও শেষদিকে ভালো অর্ডার পাবেন বলে আশাবাদী তিনি।
প্রদর্শনী কেন্দ্রে কথা হয় আফ্রিকার সোমালিল্যান্ডের হাদ্রয় ট্রেডিংয়ের এমডি মো. ওমর আব্দির সঙ্গে। 'প্রাণ'-এর নাম শুনতেই বেশ প্রশংসা করলেন তিনি। পুরো আফ্রিকাতেই প্রাণ এখন বেশ পরিচিত নাম বলে জানান এ উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী। তাদের দেশে প্রাণের জুসের চাহিদা বেশি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এখন তারা কনফেকশনারিসহ অন্যান্য পণ্য নেবেন। গত বছরের চেয়ে এবার আরও ৪০ শতাংশ বেশি পণ্য প্রাণের কাছ থেকে আমদানি করার কথা জানান তিনি। হল্যান্ডভিত্তিক বৈশ্বিক খাদ্যপণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিডেক্সের সেল্‌স ডিরেক্টর ফোরকান আলি বলেন, ইউরোপসহ বেশ কিছু দেশে খাদ্যপণ্যের বাজারে বাংলাদেশের নাম উঠে আসছে। অনাবাসী এ বাংলাদেশি জানান, নিজের দেশ থেকে পণ্য নিতে পারলে আমার চেয়ে বেশি খুশি আর কেউ হবে না। তাই প্রাণের সব ক্যাটাগরির পণ্য নিতে চাই।