নতুন ভ্যাট আইনের প্রভাব পর্যালোচনায় আলাদা গবেষণা গ্রুপ

মতবিনিময় সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০১৭

বিশেষ প্রতিনিধি


নতুন মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের প্রভাব পর্যালোচনায় আরও গবেষণার পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ জন্য একটি কনসোর্টিয়াম অব রিসার্চ গঠনের কথা জানিয়েছেন সংস্থার চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। এতে এনবিআরের প্রতিনিধির পাশাপাশি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
গতকাল রোববার রাজধানীর কাকরাইলের আইডিইবি ভবনে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান। 'জাতীয় অর্থনীতিতে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক্ক আইন, ২০১২-এর অভিঘাত বিষয়ে গবেষণা' শীর্ষক সভায় দেশের
সব বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনের নেতারা
অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন নিয়ে যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, এখন তা সম্ভাবনায় রূপ নিয়েছে। গবেষণার মাধ্যমে ভ্যাটের অভিঘাত পর্যালোচনা করে এ আইন বাস্তবায়ন করা হবে। এককভাবে নয়, ব্যবসায়ী, গবেষক, দেশি উদ্যোক্তাসহ সংশ্নিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞদের নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা হবে।
নজিবুর রহমান আরও বলেন, এ আইন বাস্তবায়ন করা হলে অর্থনীতি ও জনজীবনে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন করা হবে। তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গবেষণা গ্রুপে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি, পিআরআই, সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএস, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, বেসিসসহ বিভিম্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি রাখা হবে বলে জানান তিনি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পরামর্শে নতুন ভ্যাট আইন ২০১০ সালে জাতীয় সংসদে পাস হয়। এর পর কয়েক দফা উদ্যোগ নেওয়ার পরও নানা জটিলতার কারণে এ আইন কার্যকর করা যায়নি।
সর্বশেষ চলতি অর্থবছরের বাজেটে আইনটি কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে সর্বক্ষেত্রে অভিম্ন হারে, অর্থাৎ ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপসহ কিছু বিষয়ে প্রচন্ড বিরোধিতা করে এফবিসিসিআইসহ ব্যবসায়ীরা। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে নতুন ভ্যাট আইন দুই বছরের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, আয়কর আইনের নতুন যে খসড়া তৈরি হচ্ছে, সেটা নিয়েও এফবিসিসিআইর সঙ্গে বসতে চাই। আইনের কোথায় কোথায় পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করতে হবে, তা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত করা হবে। কাস্টমস আইনের চূড়ান্ত খসড়ায় ন্যাশনাল সিঙ্গেল উন্ডো অথরাইজ ইকোনমিক অপারেটর, গ্রিন চ্যানেল, পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট নিয়ে কাজ চলছে বলে জানান তিনি। নতুন ভ্যাট আইনের প্রভাব সম্পর্কে গবেষণার উদ্যোগের প্রশংসা করে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, কোনো দাতা সংস্থাকে খুশি করতে যাতে এ গবেষণা করা না হয়। আবার বিশেষ মহলের স্বার্থরক্ষা করা চলবে না। সবার স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করে নতুন ভ্যাট বাস্তবায়ন করতে হবে। পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, বিভিম্ন দেশে কর ও ভ্যাট আইন প্রণয়নের আগে মাঠ পর্যায়ে প্রভাব পর্যালোচনা করা হলেও বাংলাদেশে তা কখনও হয়নি। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমল্প্বয়ের অভাবেই নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করা যায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।