রংপুরে এমপি সাদের ওপর হামলা

রওশনপন্থিদের অভিযোগ জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২০     আপডেট: ০৭ জুন ২০২০

সমকাল প্রতিবেদক

 রওশনপন্থিদের অভিযোগ জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে

ফাইল ছবি

আবারও কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিতে (জাপা)। রাহগীর আল মাহী সাদ এরশাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের অনুসারীরা। তাদের অভিযোগ, রংপুরে এরশাদ পরিবারের কাউকে রাজনীতি করতে দিতে চান না জিএম কাদের। তাই এমপি সাদের ওপর হামলার পরও নীরব রয়েছেন তিনি।

প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ কোন্দল দীর্ঘদিনের। তার জীবদ্দশাতেই দলটি রওশনপন্থি ও কাদেরপন্থিতে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ক্ষমতার সমীকরণে সাময়িক সমঝোতা হলেও এ বিরোধ প্রায়ই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।

এবারের বিরোধের সূত্রপাত গত মঙ্গলবার এরশাদের বাড়ি রংপুরের পল্লী নিবাসে মহানগর জাতীয় পার্টির সঙ্গে স্থানীয় এমপি সাদের মতবিনিময় সভা থেকে। এ সময় রংপুর মহানগর জাপার সহসভাপতি টিপু সুলতান এমপি সাদকে একটি ডিও লেটার স্বাক্ষর করে দিতে বলেন। কিন্তু এমপি স্বাক্ষর না দেওয়ায় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

সাদ সমকালকে জানান, ডিও লেটার না দেওয়ায় টিপু সুলতান তার দিকে তেড়ে আসেন। বাসা থেকে বের করে দেওয়ার পর অস্ত্র নিয়ে পল্লী নিবাসে হামলা করতে আসে। তাই তাকে ধরে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। সাদের দাবি, তিনি করোনাজনিত পরিস্থিতিতে তিন মাস ধরে এলাকায় থেকে কাজ করছেন। জনগণের পাশে রয়েছেন। জাপার সাধারণ নেতাকর্মীদের সঙ্গে রয়েছেন। দলের অনেকেরই তা পছন্দ হচ্ছে না।

যারা রংপুরে তার উপস্থিতি পছন্দ করে না, তারাই হামলা করিয়েছে।

এরশাদের মৃত্যুতে দলের চেয়ারম্যান পদে বসেন জিএম কাদের। বিরোধীদলীয় নেতা হন রওশন এরশাদ। রংপুর-৩ আসনে এমপি হন তার ছেলে সাদ এরশাদ। তাকে দলের মনোনয়ন দিতে রাজি না থাকলেও একপর্যায়ে উভয় পক্ষের সমঝোতা হয়।

শুধু মনোনয়ন নয়, সাদকে দলে পদ দেওয়া নিয়েও বিরোধ রয়েছে রওশন ও জিএম কাদেরের মধ্যে। গত ডিসেম্বরে দলের কাউন্সিলে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন কাদের। রওশনকে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে ক্ষমতাহীন পৃষ্ঠপোষক করা হয়েছে। সাদকে করা হয় ১৪তম যুগ্ম মহাসচিব। পাল্টা চিঠিতে তাকে দলের কো-চেয়ারম্যান করেন রওশন এরশাদ।

রওশনপন্থি একজন জ্যেষ্ঠ নেতা সমকালকে বলেছেন, জিএম কাদের চান না সাদ রংপুরের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকুক। তিনি চান না এরশাদের ছেলে বা ভাতিজারা রংপুরে রাজনীতি করুক।

এরশাদের ভাই হয়েও জিএম কাদের তা চান না কেন- এ প্রশ্নে ওই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, এরশাদ আমৃত্যু রংপুর-৩ আসনের এমপি ছিলেন। জিএম কাদের লালমনিরহাট-৩ আসনের এমপি। ওই আসনটিতে জাপার অবস্থান নড়বড়ে। আগামীতে সংসদে আসা নিশ্চিত করতে জিএম কাদের রংপুর-৩-এ নির্বাচন করতে চান। তার এই অবস্থানের কারণেই রংপুরের নেতারা সাদের ওপর হামলা করার সাহস পাচ্ছে আর হামলার পরও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না জিএম কাদের।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জিএম কাদেরের বক্তব্য জানা যায়নি। সাদ এরশাদ সমকালকে বলেছেন, তিনি পুরো ঘটনা জাপা চেয়ারম্যানকে জানিয়েছেন। জিএম কাদের আশ্বাস দিয়েছেন ব্যবস্থা নেবেন। তবে মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ বলেছেন, একেবারে তৃণমূলের পুরোনো নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। চাইলেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। আগে পরিস্থিতি শান্ত হোক।

তবে রওশনপন্থিরা বলছেন, জাপায় প্রেসিডিয়াম সদস্যদেরও যদি কথায় কথায় বহিস্কার করা হয়, তা হলে ওয়ার্ডের নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এত দেরি কেন? সাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে গতকাল কাকরাইলে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে একই প্রশ্ন তোলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য শফিকুল ইসলাম সেন্টু।

প্রতিবাদ সমাবেশে শফিকুল ইসলাম ছাড়া উপস্থিত অন্য নেতাদের কারও বর্তমানে কোনো দলীয় পদ নেই। এরশাদের জীবদ্দশায় তারা গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলেও গত জানুয়ারিতে নতুন কমিটি গঠনের সময় তাদের বাদ দেন জিএম কাদের। বক্তৃতা করেন সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মামুনুর রশীদ, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ইকবাল হোসেন রাজু, সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা প্রমুখ। তাদের সবাই 'রওশনপন্থি' হিসেবে পরিচিত। শফিকুল ইসলাম বলেন, 'দলের একজন এমপির ওপর হামলার পরও চেয়ারম্যান ও মহাসচিব নীরব। তারাও এ ঘটনায় সম্পৃক্ত কিনা নেতাকর্মীরা জানতে চায়।