আন্দোলনকারীরা জাবি উপাচার্যের 'দুর্নীতির' তথ্য জমা দিলেন

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৯     আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক ও জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের 'দুর্নীতির' তথ্য-উপাত্ত জমা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের পক্ষে গতকাল শুক্রবার অধ্যাপক তারেক রেজা ও খন্দকার হাসান মাহমুদ শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব ড. আলিম খানের কাছে নথিগুলো জমা দেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক খবির উদ্দিন বলেন, উপাচার্যের 'দুর্নীতির সব তথ্য-উপাত্ত' হিসেবে ছয় পাতার অভিযোগপত্র এবং ৭০ পাতার নথি তৈরি করে জমা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই আন্দোলন চলছে জাবিতে। উপাচার্যের দুর্নীতি, আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা ও দুর্নীতির প্রতিবাদে তৈরি করা ব্যঙ্গচিত্র ছিঁড়ে ফেলার প্রতিবাদে গতকাল আবারও ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। বিক্ষোভ মিছিলও করেছেন আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম অনিক বলেন, আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের থাকতে সমস্যা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলব, যেন তারা হলগুলো খুলে দেয়। আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক রাকিবুল রনি বলেন, নৈতিক স্খলন ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত উপাচার্যকে অপসারণ এবং দুর্নীতিতে জড়িত সবার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত হামলা-মামলা ও হুমকি অগ্রাহ্য করেই তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে গতকালও সকাল থেকেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন। পরে সেখানেই পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রতিবাদী চিত্রকর্ম অঙ্কন করেন তারা। উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যেসব অভিযোগ উঠেছে, তিনি ছাত্রলীগ ও শিক্ষকদের যেভাবে সঙ্গে রেখেছেন, সে বিষয়গুলো ব্যঙ্গ করা হয়েছে চিত্রকর্মে।

৩০ গজের প্রতিবাদে ৬০ গজ :মঙ্গলবার ছাত্রলীগের হামলার দিন আন্দোলনকারীদের তৈরি একটি ক্যানভাস ছিঁড়ে ফেলেন উপাচার্যপন্থি শিক্ষকরা। ৩০ গজের সেই ক্যানভাসেও দুর্নীতির বিষয়গুলো ব্যঙ্গচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। ক্যানভাসটি ছিঁড়ে ফেলার প্রতিবাদে এবার ৬০ গজের আরেকটি ক্যানভাস তৈরি করেছেন আন্দোলনকারীরা। সন্ধ্যায় সেটি নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা।

ব্যঙ্গচিত্রে 'দড়ি ধরে মারো টান, ফারজানা হোক খান খান', 'চোরের মায়ের বড় গলা', 'ভাঙবে শিকল খুলবে চোখ, ধ্বংস হবে ভ লোক', 'গুলিবিদ্ধ গান একদিন ঠিক কেড়ে নেবে স্বৈরাচারের প্রাণ', 'হাউ মাউ খাউ প্রতিবাদের গন্ধ পাও! বন্ধ করো ক্যাম্পাস, বন্ধ করো হল, ভয় পাও সব বেয়াদবের দল' ইত্যাদি লেখা সংবলিত চিত্র আঁকা হয়।

রাতে ছাত্রীদের বিক্ষোভ :এদিকে ছাত্রীরা থাকার জায়গা না পেয়ে বৃষ্টিতে ভিজেও হলের সামনে অবস্থান করছেন। সন্ধ্যায় বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সামনে তাদের অবস্থান করতে দেখা যায়। হল খুলে না দেওয়া পর্যন্ত তারা এখানেই থাকবেন বলে জানিয়েছেন। এ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তাপসী প্রাপ্তি বলেন, 'হঠাৎ করে হল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা কোথায় যাব। আমাদের থাকার জায়গা নেই। হল না খোলা পর্যন্ত আমরা এখানে অবস্থান করব।' আরেক ছাত্রী জানান, তারা কয়েক দিন এখানে-সেখানে থেকেছেন; কিন্তু এভাবে থাকা সম্ভব নয়। তাই তারা হল প্রভোস্টকে হল খোলার জন্য জানিয়েছেন।

সন্ধ্যায় সব আবাসিক হল খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি কলা ও মানবিকী অনুষদ থেকে শুরু হয়ে শহীদ মিনার, অমর একুশ ও টারজান পয়েন্ট হয়ে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা হলের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় হলের তালা খুলে দেওয়ার দাবিতে অবস্থান নেন ছাত্রীরা। থাকার জায়গা না পেয়ে বৃষ্টিতে ভিজেই হলের সামনে অবস্থান করছেন বলে জানান তারা। এ হলের প্রভোস্ট মুজিবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, সিন্ডিকেটের আদেশ অমান্য করে হল খুলে দেওয়ার এখতিয়ার তার নেই। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তেই হল খালি করা হয়েছে। এ অবস্থায় কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।