উপজেলা নির্বাচন

আ'লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের শোকজ আজ থেকে

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা সাংগঠনিক শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছেন। আজ রোববার থেকেই তাদের নামে শোকজ নোটিশ পাঠানো শুরু হবে। নৌকার বিরোধিতাকারী মন্ত্রী-এমপিদের আপাতত শোকজ করা হচ্ছে না। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতকাল শনিবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের যৌথ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সভায় বোর্ড সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় যোগ দেওয়া কয়েকজন নেতা জানান, আগে উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের পাশাপাশি মদদদাতা মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। তবে গতকালের যৌথ সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধে আপাতত ব্যবস্থা গ্রহণ না করতে  নির্দেশনা দেন।

এর আগে গতকাল সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলীয় ফোরামের আরেকটি সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের মদদদাতা মন্ত্রী-এমপিদেরও শোকজ করা হবে। এসব নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য তিন সপ্তাহের সময় বেঁধে দেওয়া হবে। জবাব পাওয়ার পরই সাংগঠনিক ব্যবস্থার বিষয়ে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয়।

দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে ওই সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, 'উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের শোকজ করার সিদ্ধান্ত আগে থেকেই ছিল। আজকের বৈঠকে ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া কীভাবে দ্রুত করা যায়, সেটা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। রোববার থেকে ১৫০ জনের মতো নেতার বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ ইস্যু করা হবে।'

বিদ্রোহী প্রার্থীদের মদদদাতা হিসেবে মন্ত্রী-এমপি ও দলের কেন্দ্রীয় নেতারা শোকজ নোটিশ পাচ্ছেন কি-না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মদদদাতা মন্ত্রী-এমপিরাও শোকজ পাবেন। মদদদাতাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতারাও থাকতে পারেন। যাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা ও মদদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, তাদের সবাই শোকজ পাবেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, উপজেলা নির্বাচনে বিরোধিতাকারীদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এর আগে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের দলীয় পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পরই তাদের শোকজ করা হবে। তবে গতকালের বৈঠকে তাদের শোকজের জবাব পাওয়ার পরই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অবশ্য দলের তৃণমূল নেতারা দাবি করছেন, নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নিজেই বলেছিলেন- 'বিএনপি না এলে উপজেলা নির্বাচন উৎসবমুখর করার জন্য আওয়ামী লীগের প্রার্থিতা উন্মুক্ত থাকবে'। এখন কেন বিদ্রোহী প্রার্থী ও মদদদাতাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে?

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ওবায়দুল কাদের বলেন, 'আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমন কথা বলেছেন, তার কোনো রেকর্ড আছে? হাওয়া থেকে বললে তো হবে না।' গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি এমন কথা বলেছিলেন বলে সাংবাদিকরা জানানোর পর তিনি বলেন, 'এটা অনেক আগের কথা।'