অভাব গেলেও পূরণ হয়নি মায়ের অভাব

নুরুন্নবী মিয়া, নিহত রেজিয়া বেগমের ছেলে

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০১৯     আপডেট: ২১ আগস্ট ২০১৯

গ্রেনেড হামলার সময় আমার বয়স ছিল ১৮ থেকে ১৯ বছর। বড় ভাই হারুন-অর-রশিদের বয়স ছিল ২৫ বছর। মা যখন বেঁচে ছিল তখন সংসার ভালোই চলত। সুখে-শান্তিতে ছিলাম। মাঝে একটু অভাব ছিল, মা বেঁচে থাকতে সেই অভাব বুঝতে পারিনি। হামলায় মা মারা যাওয়ার পর আমাদের জীবনে বিশাল ঝড় নেমে আসে। তখন আমি ঢাকার একটি স্টিল-আলমিরার দোকানে কাজ করতাম। শনিবার বিকেলে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটলেও পরদিন সকাল ৭টার দিকে খবর পাই। ওইদিন মেডিকেলে সরকারি অনেক লোকজন ছিল। তাই কাউকে হাসপাতালে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আমার দোকান মালিকের বোন হাসপাতালে চাকরি করতেন। তার সুবাদে হাসপাতালে ঢুকতে পারি। মর্গে গিয়ে দেখলাম, ডানপাশে প্রথম সারিতে মায়ের মরদেহ রাখা হয়েছে। ধানমণ্ডি থানার ওসি মায়ের মরদেহ রংপুরে নেব কি-না জানতে চেয়েছিলেন। আমিও বাড়িতে নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার একার পক্ষে লাশ নিয়ে যাওয়া কঠিন ছিল, তাই হাসপাতালের লোকজন আজিমপুর কবরস্থানে মাকে দাফন করেন।

২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দুই ভাইকে চার লাখ করে আট লাখ টাকা দেন। সেটি দিয়ে সংসার গুছিয়ে নিই। এর পরও সরকারের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেওয়া হয়। প্রতিবছর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবসে ঢাকার অনুষ্ঠানে আমাদের ডাকা হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী আমাদের দুই ভাইকে ২৪ লাখ টাকা দিয়েছেন। ২০১৩ সালে পাওয়া টাকা দিয়ে গরু কিনি, জমি কিনে বাড়ি করি। বর্তমানে আমার চারটি গরু আছে, সেটি লালন-পালন করছি। ব্যাংক থেকেও টাকা পাচ্ছি। এক সন্তান নিয়ে সুন্দরভাবে জীবন যাপন করছি। সংসারে কোনো অভাব নেই। কিন্তু মায়ের স্নেহ-মমতার অভাব তো পূরণ হচ্ছে না। মা, মা-ই। ২১ আগস্ট এলেই আমাদের চোখে অশ্রু নেমে আসে। মনে করিয়ে দেয়, মায়ের ভালোবাসার সব স্মৃতি।

নেত্রীর কাছে চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। নেত্রী যা দিয়েছেন, তা বিশাল পাওয়া। মানুষের প্রতি নেত্রীর টান আছে, দেশের প্রতি টান আছে বলেই আমরা সচ্ছলতার মুখ দেখেছি। মাকে হারিয়ে এখন আমরা মাতৃহীন। আমার মতো যারা আছেন, তাদের স্বজন হারানোর বেদনা বইতেই হবে।