পবিত্র হজ পালিত

লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখর আরাফাতের ময়দান

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখর আরাফাতের ময়দান

শনিবার আরাফাতের ময়দানে মোনাজাত করছেন হাজিরা- এএফপি

মহান আল্লাহর কাছে গুনাহ মার্জনার আকুতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য ও সমৃদ্ধি কামনায় গতকাল শনিবার পালিত হয়েছে পবিত্র হজ। ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হজ পালনের জন্য এদিন বিশ্ব মুসলিমের সর্ববৃহৎ সম্মিলন হয়েছে ঐতিহাসিক এ ময়দানে। সাদা ইহরাম বাঁধা মুসল্লিদের পদচারণায় আরাফাতের ময়দান পরিণত হয় শ্বেতসমুদ্রে। খবর এএফপি, রয়টার্স ও সৌদি গেজেটের।

এদিন সূর্যোদয়ের পর হাজিরা মিনা থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে আরাফাতের ময়দানে হাজির হন। এ সময় তাদের মুখ থেকে ধ্বনিত হয় 'লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি'মাতা লাকা ওয়াল মুল্‌?ক, লা শারিকা লাক।' অর্থাৎ 'হাজির হে আল্লাহ হাজির, আপনার মহান দরবারে হাজির। আপনার কোনো শরিক নেই। সব প্রশংসা, নিয়ামত এবং সব রাজত্ব আপনারই।'

হজের দিন (সৌদি আরবে ৯ জিলহজ) সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা ফরজ। এদিন সেখানে উপস্থিত না হলে হজ হবে না। এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ২০ লাখের বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজ পালন করেন। এর মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় এক লাখ ২৭ হাজার। সৌদি আরবের দুই লাখ ৩৬০ জন নাগরিক হজ পালন করছেন। তবে সবচেয়ে বেশি হাজি ইন্দোনেশিয়ার। এ সংখ্যা এবার দুই লাখ ২০ হাজার।

আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরার মিম্বারে দাঁড়িয়ে এ সময় হজের খুতবা পাঠ করেন ইমাম। এরপর মোনাজাত শেষে নামিরা থেকে ভেসে আসে আজানের ধ্বনি। সেখানে সব হাজি একসঙ্গে আদায় করেন জোহর ও আসরের নামাজ। সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানেই চলে হাজিদের ইবাদত-বন্দেগি। তারা দুই চোখের পানি ফেলে আল্লাহর দরবারে গুনাহ মাফের প্রার্থনা করেন।

খুতবা শেষে জোহর ও আসরের নামাজ পড়েন হাজিরা। এই ময়দানে দাঁড়িয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মুসলিম উম্মাহর জন্য সামগ্রিক দিকনির্দেশনামূলক বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। এই পাহাড়ে একটি উঁচু স্তম্ভ আছে। আদি পিতা হজরত আদম (আ.) ও মা হাওয়া (আ.) দীর্ঘদিন কান্নাকাটির পর এখানেই এসে মিলিত হয়েছিলেন।

বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা হাজিদের কাছে হজের অভিজ্ঞতা জীবনের এক অনন্যসাধারণ ঘটনা। মিসর থেকে আসা ৪০ বছর বয়সী মোহাম্মদ জাফর বলেন, 'ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হজ পালন এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আমরা নিজেদের পবিত্র অনুভব করি।' হজের অভিজ্ঞতাকে 'বর্ণনার অতীত এক অনুভূতি' হিসেবে উল্লেখ করেন প্রথমবারের মতো হজে আসা পঞ্চাশোর্ধ্ব এক আলজেরীয়।

নিরাপদ হজ নিশ্চিত করতে এ বছর সাড়ে তিন লাখ সেনাসদস্য ও বেসামরিক নাগরিক মোতায়েন করা হয়েছে। ২০১৫ সালে হজে পদদলিত হয়ে দুই হাজার ৩০০ হাজি মারা যান। সেটা মাথায় রেখেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার দায়িত্বে রয়েছেন ৩২ হাজারের বেশি কর্মী।

হাজিরা গতকাল সূর্যাস্তের পর আরাফাত থেকে মুজদালিফায় যান। আরাফাত থেকে মুজদালিফা যাওয়ার পথে মাগরিবের নামাজের সময় হলেও নামাজ পড়া নিষিদ্ধ। মুজদালিফায় পৌঁছার পর মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে পড়তে হয়। মুজদালিফায় খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হয়। হজরত আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.) সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান। শয়তানের উদ্দেশে ছোড়ার জন্য ৭০টি পাথর এখান থেকেই সংগ্রহ করতে হয়।

আজ রোববার (সৌদিতে ১০ জিলহজ) ফজরের নামাজ শেষে বড় জামারায় (প্রতীকী বড় শয়তান) পাথর নিক্ষেপ করতে মিনায় যাবেন তারা। সেখানে হাজিরা বড় শয়তানকে পাথর মারবেন, কোরবানি দেবেন, মাথা মু ন বা চুল ছেঁটে মক্কায় গিয়ে কাবা শরিফ তাওয়াফ করবেন।

হাজিরা মুজদালিফা থেকে মিনায় ফিরে ১১ ও ১২ জিলহজ পর্যন্ত অবস্থান করবেন। সেখানে প্রতিদিন তিনটি শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন তারা। ১২ জিলহজ সন্ধ্যার আগেই হাজিরা মিনা ত্যাগ করে মসজিদুল হারামে বিদায়ী তাওয়াফ করে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবেন। পরে হাজিরা যার যার দেশে ফিরে যাবেন।