নভেম্বরের শুরু থেকে শীত আসি আসি করেও আসছে না। পেরে উঠছে না বৃষ্টির সঙ্গে। উত্তর ভারতে ঘুরঘুর করছে, সীমানা পেরোতে পারছে না হিমালয় ছুঁয়ে আসা হিমেল হাওয়া। মাসের শুরুতে ঘূর্ণিঝড় 'অক্ষি'র কাছে মার খাওয়ার পর এখন কোণঠাসা নিম্নচাপের কাছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে পড়লেও এর প্রভাবে শুক্রবার থেকে আকাশের মুখ ভার। গতকাল দিনভর বৃষ্টি ঝরেছে রাজধানীসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায়। অকাল বর্ষণে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে নগরবাসীকে। তবে ঝিরঝির বৃষ্টিতে প্রকৃতিতে মিলেছে শীতের আভাস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মিজানুর রহমান জানান, নিম্নচাপের প্রভাব কেটে রোববার রোদের দেখা মিলতে পারে। নিম্নচাপের ঝড়ো হাওয়ার জায়গা দখল করে সবল হবে শীতের উত্তরের বাতাস। চলতি মাসের শুরুতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের মাসিক পূর্বাভাসেও জানানো হয়েছিল, ডিসেম্বরে বঙ্গোপসাগরের একটি লঘুচাপ নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। এ কারণে  .মাসের প্রথমার্ধে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকতে পারে। নিম্নচাপ কেটে গেলে শেষার্ধে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকবে। এ সময় দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে এক থেকে দুটি মৃদু (০৮-১০ ডিগ্রি সেললিয়াস) কিংবা মাঝারি (০৬-০৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

গতকাল বিকেলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়, নিম্নচাপটি উত্তর-উত্তর পশ্চিমে অগ্রসর হয়ে দুর্বল হয়ে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। গতকাল দুপুরে তা চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৬৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল। নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারে বাতাসের একটানা গতিবেগ ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা হাওয়ায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রভাবে সাগর উত্তাল রয়েছে। সমুদ্রবন্দরগুলোকে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। মাছধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে ঢাকা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় আজ বৃষ্টি হতে পারে। রাতের তাপমাত্রার পাশাপাশি দিনের তাপমাত্রাও ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। বৃষ্টির পর বাতাসের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে; তীব্রতা বাড়বে শীতের।

শীতের আগে বৃষ্টিতে গতকাল দুর্ভোগ পোহায় ঢাকাবাসী। গত এক মাসের অনাবৃষ্টিতে রাজধানীতে ছিল ধুলার রাজত্ব। ঘরদোর, অফিস, বাজার, পথঘাট সব জায়গা ধূসরিত। ধুলার ভয়ে মুখ না ঢেকে চলা দায় ছিল। গতকালের বৃষ্টিতে এতদিন অতিষ্ঠ করে রাখা দাপুটে ধুলা কাদায় রূপ নিয়ে যন্ত্রণা দিচ্ছে। দুধারি তলোয়ার!

জলাবদ্ধতা না হলেও বৃষ্টির কারণে 'বিখ্যাত' যানজট সৃষ্টি হয় রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে। সরেজমিন দেখা যায়, জাতীয় সংসদের খেজুরবাগান থেকে বিজয়সরণি পার হতেই ঘণ্টা পার। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়ন কাজ চলছে। চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। গর্ত খোঁড়া মাটি বৃষ্টিতে মিশে কাদায় বিচ্ছিরি অবস্থা অলিগলির। কাঁঠালবাগান ঢাল এলাকায় দেখা যায়, পিচঢালা পথ কাদায় লাল! কোথাও কালো পিচের চিহ্নমাত্র নেই। একই অবস্থা আরও অনেক পথের।

মন্তব্য করুন