আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সৌদি আরবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদ নিয়ে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে জিয়া পরিবার যে অর্থ সৌদি আরবসহ বিদেশে পাচার করেছে, সেগুলোর তদন্ত করতে হবে। আর বিদেশে সম্পদ পাচারের জন্য জিয়া পরিবারকে কেবল ক্ষমা চাইলেই হবে না, অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন ও পাচারের দায়ে তাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ক্ষমা বিএনপিকে চাইতেই হবে। আওয়ামী লীগের ক্ষমা চাওয়ার কোনো দৃষ্টান্ত নেই। প্রধানমন্ত্রী তথ্যপ্রমাণ ছাড়া খালেদা জিয়ার দুর্নীতির বিষয়ে কথা বলেননি।

গতকাল শনিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া বিদেশে সম্পদ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন সে জন্য ক্ষমা না চাইলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, দুদক এরই মধ্যে জিয়া পরিবারের বিদেশে পাচার করা সম্পদ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখার জন্যই এসব অর্থ কেলেঙ্কারির সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে বিচার হওয়া উচিত।

মির্জা ফখরুলের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তথ্যপ্রমাণ ছাড়া কোনো কথা বলেননি। তিনি যা বলেছেন, তা জেনেশুনেই বলেছেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্যকে খ ন করতে গিয়ে তিনি যে অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা তাদের আসল চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। তারা বুঝে ফেলেছেন, এরই মধ্যে দুর্নীতির মামলা ঝুলছে, আরও দুর্নীতির মামলা আসছে। নির্বাচন সামনে রেখে তারা এখন হতাশার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছেন। তাই এখন আবোলতাবোল বলা শুরু করেছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সততা দেশে যেমন সর্বজনবিদিত, তেমনি দেশের বাইরেও স্বীকৃত। বিশ্বের ১৭৩টি দেশের সরকারপ্রধানদের মধ্যে সততার দিক থেকে তিনি বিশ্বের তৃতীয়।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, মির্জা ফখরুল যে বক্তব্য রেখেছেন, তা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। বিএনপি মহাসচিব পদ্মা সেতু প্রকল্পসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে দুর্নীতি খোঁজার চেষ্টাও করেছেন। বিশ্বব্যাংক যেখানে দুর্নীতি খুঁজে পায়নি, সেখানে তার এ অভিযোগ কতটা হাস্যকর- সেটি দেশের মানুষও জানে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সৌদি আরবের প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে সেদেশের ১১ প্রিন্সসহ কিছু মন্ত্রীর নাম উঠে আসে। ওই অভিযানে আটক এক প্রিন্স খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার ভাই প্রয়াত সাঈদ ইস্কান্দারের সেদেশে বিনিয়োগ থাকার কথা স্বীকার করেন। সৌদি আরব, কাতারসহ বিশ্বের ১২টি দেশে বাণিজ্যিক বিতানসহ পেট্রোকেমিক্যাল ব্যবসায় জিয়া পরিবারের ১২ হাজার বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ রয়েছে বলে বিদেশি গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ পেয়েছে। এ সময় যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক প্যারাডাইস পেপার ও গ্লোবাল অ্যাসেট রিকভারি হ্যান্ডবুকে প্রকাশিত জিয়া পরিবারের বিদেশে পাচার করা সম্পদের প্রতিবেদন সাংবাদিকদের দেখান তিনি।

পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেল প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে- বিএনপির এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলসহ সরকারের প্রতিটি মেগা প্রকল্প সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্তভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ প্রকল্পগুলোতে দুর্নীতির যে অভিযোগ বিএনপি এনেছে, তা তাদেরই প্রমাণ করতে হবে। প্রমাণ করতে না পারলে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে, তাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। প্রমাণ করতে পারলে সরকার আদালত মোকাবেলা করবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি ২০০৫ সালে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সংবাদ সম্মেলন করে সৌদি আরব যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে খালেদা জিয়ার ৩০০টি স্যুটকেস থাকার কথা বলেছিলেন। এই কাহিনী কোনো কল্পকাহিনী ছিল না। এটি প্রমাণিত সত্য আমেরিকা ও সিঙ্গাপুরের আদালতেও। তার পরও বিএনপি নেতারা কোনোদিন জাতির কাছে ক্ষমা চাননি।

সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ফরিদুন্নাহার লাইলী, আবদুস সোবহান গোলাপ, সুজিত রায় নন্দী, শ ম রেজাউল করিম, দেলোয়ার হোসেন, রোকেয়া সুলতানা, এস এম কামাল হোসেন প্রমুখ।



মন্তব্য করুন