শোচনীয় ইনিংস পরাজয়

স্বেচ্ছায় সরবেন না মুশফিক

বাংলাদেশ-দ. আফ্রিকা দ্বিতীয় টেস্ট

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০১৭

ক্রীড়া প্রতিবেদক


'আমি কেন সরে যাব? ...এটা বোর্ডের সিদ্ধান্ত।' প্রশ্ন ছিল ব্যর্থতার দায় নিয়ে অধিনায়কত্ব ছাড়বেন কি-না? উত্তরে গতকাল ্ব্নুমফন্টেইনে এমনই বলেন মুশফিকুর রহিম। অর্থাৎ, অধিনায়কত্বের ব্যাপারে বিসিবির কোর্টেই বল ঠেলে দিলেন তিনি। প্রচন্ড সমালোচনার মুখেও স্বেচ্ছায় অধিনায়কত্ব ছাড়বেন না মুশফিকুর রহিম। এক সিরিজের ব্যর্থতায় নেতৃত্ব থেকে সরে যাওয়ার কোনো কারণই দেখেন না তিনি। বরং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বিরূপ কন্ডিশনে এমনটা হতে পারে বলেই তার অভিমত। যদি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাকে দায়িত্ব তাকে সরিয়ে দেয়, তখনই কেবল অধিনায়কত্ব ছাড়বেন তিনি। যার মানে দাঁড়ায়, অধিনায়কের চেয়ার এত সহজে ছাড়বেন না মুশফিক। এজন্য হাজার সমালোচনাও মুখ বুজে সহ্য করতে রাজি তিনি। ্ব্নুমফন্টেইনে ইনিংস ও ২৫৪ রানে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে নেতৃত্ব ধরে রাখার এ মনোভাব প্রকাশ করেন মুশফিক।
দক্ষিণ আফ্রিকার সফরে ব্যর্থতায় টেস্ট অধিনায়কত্ব থেকে মুশফিককে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে গুঞ্জনটা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। গত ক'দিন ধরে মুশফিকের কথাবার্তা শুনেও মনে হচ্ছিল, নিজেই সরে দাঁড়াতে পারেন তিনি। তবে গতকাল বেশ দৃঢ়তার সঙ্গেই জানালেন যে অধিনায়কত্ব চালিয়ে যেতে চান তিনি। তাকে সরানোর দায়িত্বটা বোর্ডের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন মুশফিক, 'আমাকে সরানো হবে কি-না সে সিদ্ধান্তের ভার বোর্ডের ওপর। তারাই আমাকে এই সম্মান, দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার
দায়িত্ব দিয়েছে। আমি সততার
সঙ্গে আমার সেরা চেষ্টা করছি। তারা যদি সন্তুষ্ট না হয়, তাহলে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।' বিসিবির অধিকাংশ পরিচালক মুশফিককে সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে। টাইগারদের পরবর্তী সিরিজে (ডিসেম্বরে শ্রীলংকার বিপক্ষে) তাকে টেস্ট অধিনায়ক না দেখার সম্ভাবনাই বেশি। তবে মুশফিক নিজে সরবেন না, 'কেন আমি সরে যাব? এটা তো ব্যক্তিগত কোনো খেলা না, দলীয় খেলা। অবশ্যই অধিনায়ক হিসেবে সব ব্যর্থতায় দায় আমার দিকেই আসবে। আমি সেটা নিচ্ছিও। দেশকে নেতৃত্ব দেওয়া আমার জন্য অনেক সম্মানের। আমি গর্বিত। এটা হবে বোর্ডের সিদ্ধান্ত। কারণ তারাই আমাকে এনেছে।'
দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম টেস্টেও ৩৩৩ রানে হেরেছিল তার দল। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশের ইনিংস ব্যবধানে হারের ঘটনা নতুন নয়। আগের দুই সফরে চারটি টেস্টেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল টাইগাররা। তবে এবার মুশফিকের নেতৃত্ব নিয়ে কঠোর সমালোচনা হওয়ার অনেক কারণ আছে। দুই টেস্টেই টসে জিতে ব্যাটিং উইকেটে ফিল্ডিং করার ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুশফিক। এখানে না হয় টিম ম্যানেজমেন্টেরও দায় আছে, কিন্তু মাঠের বাইরে সিরিজ চলাকালে মুশফিক যেভাবে নিজ দলের সমালোচনা করেছেন, তা ছিল নজিরবিহীন। প্রথম টেস্টের পর সংবাদমাধ্যমে বোলারদের ধুয়ে দিয়েছেন তিনি। নিজ দলকে আগলে রাখার বদলে বিপদে ঠেলে দিয়েছেন। তার এমন আচরণে অনেকেই অবাক হয়েছেন। শুধু এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। দ্বিতীয় টেস্টেও টসে হেরে একই ভুল করার পর সংবাদ সম্মেলনে এসে বলেছেন, 'টসে জেতাই ভুল হয়ে গেছে।' বোলারদের সঠিক বার্তা দিতে পারছেন না কিংবা তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারছেন না বলেও স্বীকার করে নেন। তার এ দুটি মন্তব্য থেকেই দলে তার অসহায়ত্বটা প্রকাশ পায়। দলের ওপর যে তার নিয়ন্ত্রণ নেই, সেটাও প্রকাশ করে দিয়েছেন তিনি। অধিনায়কের কাজ হলো সতীর্থদের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনা। যে মানুষটা নিজেই অসহায়, তিনি কীভাবে সতীর্থদের অনুপ্রাণিত করবেন? কীভাবে তাদের পাশে দাঁড়াবেন?
শুধু তাই নয়, প্রথম দিন শেষের ওই সংবাদ সম্মেলনে তার ওপর যে টিম ম্যানেজমেন্টেরও আস্থা নেই, সেটাও তুলে ধরেছিলেন মুশফিক। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে মুশফিক উইকেটকিপিং করছেন না। তবে অধিকাংশ সময়ই ফিল্ডিং করছেন সীমানায়। সীমানা থেকে ভালো মতো কী অধিনায়কত্ব করা যায়? সীমানায় ফিল্ডিং করার ব্যাখ্যা দিতে গিয়েই বেরিয়ে এসেছিল তার প্রতি টিম ম্যানেজমেন্টের অনাস্থার বিষয়টি।
অধিনায়কত্ব আঁকড়ে থাকার বিষয়টি অবশ্য মুশফিকের জন্য নতুন কিছু নয়। ২০১৪ সালেও সীমিত ওভারের অধিনায়কত্ব ছাড়তে চাননি তিনি। কিন্তু প্রায় এক বছর টানা হারের বৃত্তে বন্দি থাকার পর মুশফিককে বাদ দিয়ে মাশরাফি মুর্তজাকে সীমিত ওভারের অধিনায়ক করা হয়েছিল। শ্রীলংকা সিরিজের আগে সম্ভবত সে পথেই হাঁটতে হবে বোর্ডকে।