ভবন ভাঙতে আরও ৭ মাস পেল বিজিএমইএ

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০১৭

সমকাল প্রতিবেদক


রাজধানীর হাতিরঝিলে অবৈধভাবে গড়ে তোলা নিজেদের ভবন ভাঙতে পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএকে আগামী ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। পাশাপাশি আলোচিত এ ভবনটি ভাঙার বিষয়ে রাজধানী উম্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) গৃহীত পদক্ষেপও লিখিতভাবে আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ গতকাল রোববার ভবন ভাঙার জন্য সময় চেয়ে বিজিএমইএর করা আবেদনের শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন। শুনানিতে বিজিএমইএর আইনজীবীকে উদ্দেশ করে আদালত বলেন, 'এটাই শেষ সুযোগ। এর পর আর সময় চাইবেন না। এর মধ্যে যা করার করবেন।' আদেশে বলা হয়, সময়সীমা শেষ হওয়ার দিন থেকে সাত মাসের মধ্যে ভবন ভেঙে ফেলতে হবে।
আদালতে বিজিএমইএর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী। তিনি শুনানিতে আদালতকে বলেন, সরকার বিজিএমইএকে জমি দিয়েছে। জমির মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে। এখন অবকাঠামো নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। এ জন্য সময় প্রয়োজন। এর জবাবে আদালত
বলেন, আপনাদের ইতিপূর্বে
আরও কয়েকবার সময় দেওয়া হয়েছে। কেন ভবন অপসারণ করেননি? আপনারা যদি মনে করে থাকেন, আদালতে এসে সময় চাইবেন, আর সময় দেওয়া হবে- তাহলে এ ধরনের মনোভাব পোষণ করা ঠিক না।
আদালতে রাজউকের পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এ ছাড়া আলোচিত এ মামলায় হাইকোর্টে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে শুনানিতে অংশগ্রহণকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদও উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১২ মার্চ বিজিএমইএ'কে ভবন ভাঙতে ছয় মাস সময় বেঁধে দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। পরে ২৩ আগস্ট বিজিএমইএ কার্যালয় অন্যত্র স্থানান্তরে আরও এক বছর সময় চেয়ে আবার আবেদন করা হয়। এর পর ১১ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত বিজিএমইএর আবেদনটি নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল আপিল বিভাগ শুনানি নিয়ে বিজিএমইএ'কে চূড়ান্ত সময় বেঁধে দেন।
এর আগে রাজউকের অনুমোদন ছাড়া বিজিএমইএ ভবন নির্মাণের বিষয় নিয়ে ২০১০ সালের ২ অক্টোবর একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে ওই প্রতিবেদনটি হাইকোর্টের দৃষ্টিতে আনেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। ২০১০ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্ট এক রায়ে হাতিরঝিল প্রকল্পে বিজিএমইএ ভবনকে 'একটি ক্যান্সার' বলে আখ্যায়িত করেন। পাশাপাশি ৯০ দিনের মধ্যে ওই ভবন ভেঙে ফেলারও নির্দেশ দেন। এর পর বিজিএমইএর করা লিভ টু আপিল খারিজ করে আপিল বিভাগও ছয় মাসের মধ্যে ওই ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। পরে ওই রায়ে রিভিউ চেয়ে আবেদন করা হলে গত ১২ সেপ্টেম্বর সেটিও খারিজ করা হয়।