২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে সরগরম এফডিসি। তারকাদের আনাগোনায় মুখর সিনেমার আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত এ আঙিনা। পক্ষে-বিপক্ষে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, তর্ক-বির্তকও চলছে সমানতালে। ভোট এলেই সমিতি থেকে বাদ পড়া ১৮৪ জন শিল্পীর প্রসঙ্গ সামনে চলে আসে। এবারও তাই হয়েছে।

কাঞ্চন-নিপুণ পানেল থেকে সহসভাপতি পদে লড়ছেন রিয়াজ। এজন্য প্রায়ই এফডিসিতে যাচ্ছেন তিনি। ভোটও চাচ্ছেন। ১৭ জানুয়ারি রাতে শিল্পী সমিতির ভোটাধিকার হারানো কিছু সদস্যের মধ্যে একজন কথায় কথায় রিয়াজকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকেন। তখন তার কান্না দেখে রিয়াজও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, কাঁদেন হাউমাউ করে। রিয়াজ বলেন, 'আমাদের প্যানেল থেকে একটি নির্বাচনী গান করেছি। তারা আমাদের সঙ্গে নির্বাচনী ওই গানের তালে নাচছিল। এক পর্যায়ে গান শুনে সত্তরোর্ধ্ব এক শিল্পী কষ্ট পাচ্ছিলেন। তার কষ্ট আমাকে আবেগতাড়িত করে, তাই আর কান্না থামাতে পারিনি। এ সময় আমি সবাইকে উদ্দেশ করে বলি, এই মানুষগুলোর মুখের দিকে তাকান, তাদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। মানুষগুলোর কান্না থামিয়ে মুখে হাসি ফিরিয়ে দিতে চাই। এরপর প্রায় ৫০ জন শিল্পী আমার সঙ্গে চিৎকার করে কান্না শুরু করেন।'

অন্যদিকে শিল্পী সমিতির নির্বাচনে এই অভিনেতার প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের সম্পাদক জায়েদ খান এটিকে বলেছেন 'মায়াকান্না'। জায়েদ খান বলেন, 'সবকিছু হচ্ছে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। রিয়াজ ভাইয়ের মতো অভিনেতা মায়াকান্না করছেন। অথচ এই রিয়াজ ভাই ২০১৭ সালে আমাদের সঙ্গে যাচাই-বাছাই কমিটিতে থেকে সহযোগী সদস্য করেছেন তাদের। বিপরীত প্যানেলের অনেকেই এই নোংরামিতে জড়িত।

এর জবাবে রিয়াজ বলেন, 'কোনো কিছু অন্যভাবে নেওয়ার আগে, কিছু বলার আগে ভাবা উচিত, আমরাও মানুষ। আমাদেরও হাসি-কান্না আছে। দীর্ঘদিনের দমিয়ে রাখা আবেগের বহিঃপ্রকাশ এটি। আমার মা যখন মারা যান আমি যখন কাঁদছিলাম, অনেকের কাছেই তখন মনে হয়েছিল এটা হয়তো অভিনয়। এটা আমি ফেস করেছি বিগত দিনে। একজন বৃদ্ধ শিল্পীকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে আমি যদি ভুল করে থাকি আপনারা ক্ষমা করবেন।'

এর আগে ১৭ জানুয়ারি দুপুরে এলো মডেল ও অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের খবর। তিনি শিল্পী সমিতির ভোটাধিকার হারানো একজন। ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার আন্দোলনে বিভিন্ন সময় তাকে সোচ্চার হতে দেখা গেছে। শিমু ইস্যুতে আবারও শুরু হয় ঘোলা পানিতে মাছ শিকার। কয়েকজন চলচ্চিত্রকর্মী চিত্রনায়ক জায়েদ খানের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগের তীর ছোড়েন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জানা যায়, শিমুকে হত্যা করেছে তার স্বামী সাখাওয়াত আলীম নোবেল। শিমুর স্বামী যখন এ হত্যার দায় স্বীকার করে তখন অন্য পক্ষ চুপসে যায়।

জায়েদ খান বলেন, 'নির্বাচন সামনে রেখে কেউ কেউ নোংরা রাজনীতি করছে। কোনো সুযোগ পেলেই আমার নাম জড়ানো হচ্ছে। দুই বছর ধরে শিমুর সঙ্গে কখনোই আমার কথা ও দেখাও হয়নি। অথচ শিমুর হত্যার খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর আমার গ্রেপ্তারের দাবিতে পোস্টারও করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। শিমুর হত্যাকারী যদি ধরা না পড়ত তাহলে আমার বিরুদ্ধে আন্দোলন হতো এফডিসিতে! আমি বেকায়দায় পড়ে যেতাম। প্রতিপক্ষ এটাই চেয়েছিলেন।'

কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেলের সদস্য প্রার্থী অমিত হাসান ওমর সানীকে উদ্দেশ করে বলেন, 'মৌসুমী ও ওমর সানী রাতের অন্ধকারে পেছনের দরজা দিয়ে মিশা-জায়েদের সঙ্গে মিলে গেছেন। মিশা-জায়েদের সঙ্গে আমাদের খারাপ সম্পর্ক ছিল না। এক সময় মৌসুমী ও ওমর সানীকে সাপোর্ট দিয়ে মিশা-জায়েদের চোখে শত্রু হয়েছি।' এর জবাবে ওমর সানী বলেন, 'আমাকে একজন দাওয়াত দিছে সেখানে কাচ্চি বিরিয়ানি আছে। তোমাকে বলল না দেখে আমি খারাপ হয়ে গেলাম। তোমাকে বললে তুমিও তো যেতে!'

এদিকে সম্প্রতি মিশা-জায়েদের বিরুদ্ধে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন প্রায় অর্ধশত সিনেমার নায়িকা জনা।

মন্তব্য করুন