আজকের শিল্পী

'আগামী কাজ যেন আরও পরিশীলিত হয়'

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২০     আপডেট: ১০ জুলাই ২০২০

'আগামী কাজ যেন আরও পরিশীলিত হয়'

পূর্ণিমা

পূর্ণিমা। তারকা অভিনেত্রী, মডেল ও উপস্থাপক। আজ তার জন্মদিন। এই শুভ দিনটি নিয়ে আজকের পরিকল্পনা এবং এ সময়ের ব্যস্ততা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে-

শুভ জন্মদিন। সমকাল পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা...

এত তাড়াতাড়ি কেউ শুভেচ্ছা জানাবে ভাবিনি [হাসি]। সমকাল পরিবারের সবাইকে ধন্যবাদ। আপনাদের ম্যাধ্যমে আমি আমার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের বলতে চাই- সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। যাতে সুস্থ এবং সুন্দরভাবে জীবনধারণ করতে পারি।

আজকের এই শুভ দিনটি নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা আছে?

না। আজকের জন্য তেমন পরিকল্পনা করিনি। পুরো পৃথিবীর মানুষ এখন শঙ্কার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর অবস্থা তো দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। করোনার আক্রমণে প্রতিদিন নতুন সংক্রমণ আর মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে কাজ হারিয়ে অনেক মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। এসব দেখে মন ভালো নেই। আগামীকাল কী হবে? এই প্রশ্ন নিয়ে সবসময় উৎকণ্ঠায় থাকি। তাই আমার কাছে এখন শুভ দিন কিংবা বিশেষ দিন বলে কিছু নেই। জন্মদিনও তাই। এ দিনটি আলাদা করে উদযাপনের কথাও ভাবছি না। স্বামী ও মেয়ের সঙ্গেই সারাদিন কাটাব- এটাই আজকের পরিকল্পনা।

তাহলে এবারের জন্মদিন বাসায় পালন করবেন?

তাছাড়া কোনো উপায় তো নেই। গত পাঁচ-ছয় বছর ধরেই জন্মদিনে বাসায় থাকার চেষ্টা করি। সাধারণত জন্মদিনের দিন বাইরে বের হই না। স্বামী ও মেয়ের সঙ্গেই কেক কাটা, সিনেমা দেখে সময় পার করি। চেষ্টা করি প্রতি জন্মদিনে নতুন নতুন রেসিপি তৈরি করতে। এবারও তাই।

আপনার ভক্তরা কি আজকের দিনটি নীরবে কাটাবেন?

ভক্তরা তো কখনও চাইবেন না জন্মদিনটি নীরবে কেটে যাক। হয়তো প্রতি বছরের মতো ফোন, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে অনেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানাবেন। কাছের মানুষদের কাছেও পাব শুভেচ্ছা, ভালোবাসা, উপহার। যে জন্য প্রতি জন্মদিনে দশটি কেক কাটতে হয়। কিন্তু এবার সবার শুভেচ্ছা, ভালোবাসা গ্রহণ করলেও কোনো উদযাপনে যাব না। এর করণ আশা করি ভক্ত এবং প্রিয়জনরা সহজেই বুঝে যাবেন।

প্রতি ঈদে টিভির বিশেষ কোনো আয়োজনে আপনাকে দেখা যায়। এবার কোনো কাজ করেছেন?

এবারের সেই সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। অনেক দিন ধরে বাসায় আছি। এর মধ্যে কোনো নাটক বা টেলিছবির কাজও করিনি। যদি শেষ মুহূর্তে কোনো আয়োজনে অংশ নিই, তাহলে ভিন্ন কথা। না হলে ঈদ আয়োজনে দেখতে পাবেন- এমন কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছি না। তাছাড়া কবে কাজে ফিরব তাও বুঝতে পারছি না। আরও কিছুদিন অপেক্ষা করব। কারণ পরিবারের নিরাপত্তা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

পরিচালক এসএ হক অলিকের 'যোদ্ধা' ছবিতে অভিনয় করছেন?

এই ছবির বিষয়ে আমি এখনও কিছুই জানি না। কিন্তু ফেসবুকে দেখলাম এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। অথচ অলিক ভাইয়ের সঙ্গে এখনও ছবিটি নিয়ে কোনো কথাই হয়নি। তাই অভিনয় করছি কি করছি না- সেই প্রশ্ন আসে কোথা থেকে? যদি অভিনয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত হয় তাহলে লুকিয়ে রাখব না, সবাইকে জানাব।

আজকাল সিনেমায় অভিনয়ে জন্য কি বাছ-বিচার একটু বেশি করছেন?

প্রত্যেক শিল্পী চান তার আগামী কাজ যেন আরও পরিশীলিত হয়। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে চাইলেও সবকিছু নিজের মনের মতো করে পাইনি। কিন্তু এখন সুযোগ পেলে কেন ভালো কাজটি করতে চাইব না? হোক না আমার কাজের সংখ্যা অনেকের চেয়ে কম, তাতে কী যায়-আসে। আমার ছবি দেখে দর্শকের যদি মনে হয়, তারা এমন কিছুর প্রত্যাশায় ছিলেন, তাহলেই তো কাজ সার্থক হয়ে উঠবে। এটা সবাই মানবেন, দশটি সাধারণ কাজের চেয়ে একটি ভালো কাজ দিয়েই দর্শকের হৃদয় জয় করা যায়।

আপনার অভিনীত 'গাঙচিল' ও 'জ্যাম' ছবিতে কি তেমন ভাবার সুযোগ হয়েছিল?

গৎবাঁধা ছবিতে অভিনয়ে বিন্দুমাত্র ইচ্ছা ছিল না। যদি তাই হতো, তাহলে অনেক আগেই কোনো না কোনো ছবিতে দেখা যেত। কিন্তু কাজের মান নিয়ে কোনো সমঝোতা করতে চাইনি। দেরিতে হলেও সে কাজটাই করতে চেয়েছি, যা দর্শক অনেক দিন মনে রাখবে। সেদিক থেকে 'জ্যাম' ও 'গাঙচিল' ছবির গল্প ও চরিত্র আমার আগের ছবিগুলো থেকে আলাদা। সেখানে নিজেকে নতুনরূপে তুলে ধরার সুযোগ আছে। 'জ্যাম' অন্যান্য ছবির মতো নাচে-গানে ভরপুর বা নায়ক-নায়িকা প্রধান ছবি নয়। এতে আছে মনে দাগ কাটার মতো অন্য রকম এক গল্প। আর 'গাঙচিল'-এর কাহিনিও হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো। ছবি দেখে অনেকেই স্বীকার করবেন, ওবায়দুল কাদের শুধু মন্ত্রী নন; একই সঙ্গে তিনি একজন ভালো কাহিনিকারও। ছবি দুটির কাজ এখনও বাকি রয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ছবি দুটির কাজ শুরু করবেন নির্মাতা নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল।