আজকের শিল্পী

গানের সঙ্গেই থাকতে চাই

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৯      

সানিয়া সুলতানা লিজা। কণ্ঠশিল্পী ও উপস্থাপক। সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেলে তার প্রকাশিত গান 'এক বৃষ্টিতে' শ্রোতাদের মাঝে সাড়া ফেলেছে। এই গান ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা  হয় তার সঙ্গে

আগের গানগুলোর ভিডিওতে নানা ধরনের গল্প তুলে ধরেছেন। কিন্তু 'এক বৃষ্টিতে' গানের ভিডিওতে কোনো গল্প রাখেননি, কারণ কী?

অনেকের অভিযোগ, এখনকার গানের ভিডিওগুলো নাটক-সিনেমার মতো হয়ে যাচ্ছে। যেজন্য গানের বদলে দর্শক-শ্রোতার মনোযোগ কেড়ে নিচ্ছে ভিডিওগুলো। এতে গানের ভালো-মন্দ বিচার করাও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। গান জনপ্রিয় হচ্ছে নাকি ভিডিওর গল্প? এই প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিয়েছি। এ অভিযোগ যে সত্যি, নিজেও তা খেয়াল করে দেখেছি। আমিও মনে করি, গান অনুভবের বিষয়। যখন কোনো গান কারও ভালো লাগে, তখন মনের মধ্যে আপনা আপনি কিছু দৃশ্য তৈরি হয়ে যায়। তাই গানের জন্য আলাদা করে গল্প লিখে ভিডিও নির্মাণের প্রযোজন পড়ে না। এই ভাবনা থেকেই 'এক বৃষ্টিতে' গানের ভিডিওতে আলাদা করে কোনো গল্প জুড়ে দেয়নি।

যে পরিকল্পনা থেকে 'এক বৃষ্টিতে' গানের ভিডিও নির্মাণ করলেন, তা নিয়ে ভক্তদের প্রতিক্রিয়া কেমন?

শ্রোতাদের অনেকে 'এক বৃষ্টিতে' গান নিয়ে ভালো লাগার কথা জানিয়েছেন। কেউ প্রশ্ন তোলেননি ভিডিওতে শুধু শিল্পীকে কেন তুলে ধরা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, দর্শক-শ্রোতার কাছে গানই আসল, মিউজিক ভিডিওর গল্প নয়। ভক্তদের এই ভালো লাগার পেছনে শিল্পী হিসেবে যতটা আমার, তার চেয়ে বেশি অবদান এর গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক আটামনাল মুনের। তিনি প্রমাণ করেছেন, গান ভালো হলে মিউজিক ভিডিওর গল্প নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। তবে এটাই ঠিক যে, সব দর্শক-শ্রোতার ভালোলাগা একরকম নয়। কেউ কেউ গানের সঙ্গে মিল রেখে ভিডিওর গল্পগুলো পছন্দ করেন।

ভক্তদের ভালোলাগার কথা ভেবেই কি আজকাল মেলো-রোমান্টিক গান বেশি গাইছেন?

শ্রোতা আমার কণ্ঠে যে ধরনের গান বেশি শুনতে চান, সে ধরনের গানই বেশি গেয়ে থাকি। কারণ তাদের জন্যই তো আমি আজকের লিজা। তাদের ভালো লাগার কথা না ভাবলেই নয়। এর মধ্যে 'বিভোর হয়ে', 'প্রাণ জুড়ে', 'এক যমুনা' গানগুলো প্রকাশ করে ভক্তদের কাছে দারুণ সাড়া পেয়েছি। এই গানগুলো তাদের ভালো লাগায় একটা বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে, মেলোডি গানের কদর যুগ যুগ ধরেই ছিল। তাছাড়া নিজেরও মোলোডিপ্রধান ও স্যাড-রোমান্টিক গানের আলাদা ভালোলাগা আছে। এ জন্য নিরীক্ষাধর্মী কাজ যতই করি না কেন, মেলোডি থেকে দূরে সরে থাকা কখনও সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।

বেশ কিছুদিন আগে নকীব খানের সুরে একটি গান করেছেন। বলেছিলেন শিগগিরই এর ভিডিও প্রকাশ করবেন। ভিডিওর কাজ কতদূর এগোল?

নকীব খানে সুর ও সঙ্গীত পরিচালনায় গাওয়া 'ওগো পূর্ণিমা চাঁদ' গানের ভিডিও নির্মাণ হয়ে গেছে। মিউজিক ভিডিও পরিচালনা করেছেন আবিদ হাসান। এই কাজটা একটু সময় নিয়ে করতে চেয়েছি। কারণ নকীব খানের সুর ও ড. শোয়েব আহমেদের লেখা 'ওগো পূর্ণিমা চাঁদ' গানটি আমার ক্যারিয়ারের ভিন্নধর্মী একটি কাজ। এ গানের কোথায় যেমন কাব্যের ছোঁয়া আছে, তেমনি সুরে আছে সত্তর দশকের মেলোডি গানের ছাপ। তাই বড় কোনো উৎসবে মিউজিক ভিডিওটি প্রকাশ করার পরিকল্পনা করেছি।

মৌলিক গানের পাশাপাশি হারানো দিনের গানও গাইছেন। ধারাবাহিক ভাবেই এই কাজ করতে চান?

সিলন মিউজিক লাউঞ্জের জন্য চিত্রা সিংয়ের 'দুটি মম আজ নেই দু'জনার' ও আরতি মুখার্জির 'এই মম জোছনায়' গান দুটি রেকর্ড করেছিলাম। প্রচুর সাড়াও পেয়েছি এই গান দুটির জন্য। কিন্তু ধারাবাহিক ভাবে এই কাজটি করে যাব কিনা- তা নিয়ে এখনও ভাবিনি।

অনেকেদিন উপস্থাপনায় নেই। আর কী উপস্থাপনায় দেখা যাবে না?

গত কয়েক বছরে অনেক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছি, আর কত। তাছাড়া আমি এটাই চাইনা যে, উপস্থাপনার জন্য আমার শিল্পী পরিচয় চাপা পড়ে যাক। আমি গানের মানুষ, গানের সঙ্গেই থাকতে চাই। এজন্য উপস্থাপনায় বিরতি নিয়েছি।

এ সময়ের আর কী কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন?

এ বছর শুরু থেকে একনাগাড়ে শো করে যাচ্ছি। এই বৃষ্টি-বাদলের দিনেও শো থেকে বিরতি নিতে পারিনি। গতকালও আশুলিয়ায় শো ছিল। সামনে আরও কিছু আয়োজনে পারফর্ম করার কথা আছে। স্টেজ শো'র বাইরে যে সময়টুকু পাচ্ছি, সে সময়টা নতুন গানের কাজ করছি। বহুদিনের স্বপ্ন ছিল আমার গানের ওস্তাদ মো. আনোয়ার হোসেনের সুরে গান গাওয়ার। এবার সেই স্বপ্ন পূরণ হলো। তার সুরে জাতির পিতা ও স্বাধীনতা নিয়ে গান করেছি। এর পাশাপাশি ওস্তাদ মো. আনোয়ার হোসেনের সুরে আরও তিনটি গান প্রকাশের পরিকল্পনা আছে।