পূর্বায়ণ চট্টোপাধ্যায়। ভারতের আলোচিত সেতারশিল্পী। 'বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসব ২০১৭'-এ তার অনবদ্য সেতার বাদন মুগ্ধ করেছে অগণিত দর্শক-শ্রোতাকে। এই উৎসব ও অন্যান্য বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি-

বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসবে আগেও অংশ নিয়েছেন। সেদিক থেকে এবারের আয়োজন কতটা ভিন্ন বলে মনে হয়েছে?
ভেন্যু বদলে যাওয়া ছাড়াও আর কোনো পার্থক্য চোখে পড়েনি। অর্ধলক্ষ দর্শকের ভিড়, মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাদের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে ডুবে থাকা- এই দৃশ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের এত অনুরাগী আর কোথাও চোখে পড়েনি। যে দেশে লোকসঙ্গীত, জ্যাজ ও সুফিগান নিয়ে উৎসব হয়, সেদেশে উচ্চাঙ্গসঙ্গীত নিয়ে উৎসব করা বিলাসিতা বলে মনে হয় না। এ কারণেই উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসবে বারবার আসতে চাই। তাছাড়া আমার সঙ্গীত সাধনার পেছনে বাংলাদেশের সাধকদেরও একটা ভূমিকা আছে।

সেটা কেমন?
এদেশের সন্তান, সঙ্গীত মহারথী ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ আমাদের পথপ্রদর্শক। বিশেষ করে আমরা যারা মাইহার ঘরানার রাগ পরিবেশন করি। এর পাশাপাশি আরও কিছু সঙ্গীত সাধক আছেন, যাদের অনবদ্য পরিবেশনা রাগ সঙ্গীতের প্রতি অনুরাগী করে তুলেছে।

বাংলাদেশে একটি টিভি আয়োজনেও অংশ নিয়েছিলেন। সে অভিজ্ঞতা কেমন?
এক কথায় দারুণ ছিল সে অভিজ্ঞতা। কোক স্টুডিওর মতোই সেটআপ ছিল। সেটা দেখে কিন্তু অবাক হয়নি। কারণ জানতাম, সঙ্গীত নিয়ে এদেশে শুধু উৎসব নয়, নিরীক্ষাধর্মী আয়োজনও করা হয়।

আজকাল উচ্চাঙ্গসঙ্গীতের যুগলবন্দি করতে বেশি দেখা যায়। এ বিষয়টা কীভাবে দেখেন?
অন্যান্য সঙ্গীতে যখন ফিউশন হচ্ছে, তখন রাগের যুগলবন্দিতে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়। আমি নিজেও সেতারের সঙ্গে অন্যান্য বাদ্যের যুগলবন্দি পছন্দ করি। কিন্তু সবসময়ই চাই রাগের শুদ্ধতা ধরে রাখতে। পাশাপাশি কোনো বাদ্য যেন প্রাধান্য না পায়- সেটাও খেয়াল রাখি। আমি মনে করি, যুগলবন্দি এমন হওয়া উচিত যেখানে একাধিক বাদ্যের বাদন এক হয়ে যায়।

শুনেছি যখন সঙ্গীত সাধনায় ডুবে থাকেন, তখন নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখেন কেন?
সৃষ্টির নেশা আসলে এমনই। মনের গহিনে ডুবে গিয়ে তুলে আনতে হয় সুরের অনুষঙ্গ। নীরবতাই সঙ্গীত সৃষ্টির মূল উপাদান। নীরবতাকে সঙ্গীত মূর্ছনা দিয়ে পূরণ করতে হয়। এজন্য সাধনার সময়টা একাকিত্ব বেছে নেই।

মন্তব্য করুন