অবশেষে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস

অন্যদৃষ্টি

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৯      

আব্দুল হাই রঞ্জু

যোগাযোগ ব্যবস্থায় পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোর মধ্যে কুড়িগ্রাম অন্যতম। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী চিলমারী বন্দর পর্যন্ত রেললাইন থাকলেও রেল যোগাযোগে কুড়িগ্রাম ছিল অবহেলিত। একসময় ছিল রেল যোগাযোগের ভরা যৌবন। রাত-দিন তিনটি ট্রেন পার্বতীপুর জংশন পর্যন্ত চলাচল করত। এক পর্যায়ে চিলমারী-কুড়িগ্রাম-পার্বতীপুরের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে। ট্রেন চলাচল বন্ধ করায় রেলস্টেশনগুলো অসামাজিক কাজের নিরাপদ স্থানে পরিণত হয়। দিনে তো বটেই, রাত হলে অন্ধকারে স্টেশনগুলো যেন সমাজবিরোধী অপরাধী চক্রের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়।

মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুনরায় রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে হাত দেয়। এর সুবাদে আবার প্রাণ ফিরে পায় স্টেশনগুলো। পার্বতীপুর থেকে চিলমারী পর্যন্ত দুটি ট্রেন চালু করা হয়। আবার এ অঞ্চলের মানুষের কানে ভেসে আসে হারিয়ে যাওয়া ট্রেনের চিরচেনা হুইসেল। যখন গোটা দেশে বিভিন্ন নামে বিভাগীয় শহরগুলোয় একাধিক আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা হয়, তখনও কুড়িগ্রাম জেলার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা ছিল সড়ক পরিবহন। বাসে গাদাগাদি করে এ জেলার মানুষকে দূর-দূরান্তে যাত্রা করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি উঠে কুড়িগ্রাম হয়ে চিলমারী পর্যন্ত একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু করার। রেল-নৌপথ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে একটি গণকমিটি গঠন করে আন্তঃনগর ট্রেনের দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটি নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর তিনবার কুড়িগ্রাম সফর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফরকালে জেলার উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি ঢাকা-কুড়িগ্রাম একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালুরও প্রতিশ্রুতি দেন। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তঃনগর ট্রেনের সুবিধা পেল কুড়িগ্রামবাসী। গত ১৬ অক্টোবর দুপুর ১২টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাঁশি বাজিয়ে পতাকা উড়িয়ে 'কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস' ট্রেনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই মাহেন্দ্রক্ষণটি ছিল কুড়িগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। ওইদিন কুড়িগ্রাম রেলস্টেশনে ছিল সাজসাজ রব। ছিল সর্বশ্রেণির হাজারো মানুষের উপস্থিতি। আনন্দঘন দিনটির কথা কুড়িগ্রামবাসী হয়তো দীর্ঘদিন স্মরণে রাখবে। উদ্বোধনের পরের দিন থেকে সপ্তাহের বুধবার ছাড়া প্রতিদিনই ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম ও কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকায় ট্রেনটি যাওয়া-আসা করছে। দীর্ঘদিন রেল যোগাযোগে অবহেলিত অঞ্চলটিতে আন্তঃনগর ট্রেন চালু হওয়ায় মানুষ এখন খুশি।

তবে এ জেলার মানুষের দাবি ছিল, আন্তঃনগর ট্রেনটি ঐতিহ্যবাহী চিলমারী বন্দর পর্যন্ত চালু করার। কুড়িগ্রাম থেকে উলিপুর হয়ে চিলমারী পর্যন্ত আন্তঃনগর ট্রেন চালু করলে এ দুই উপজেলার পাশাপাশি ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বপ্রান্তে অবস্থিত রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলায় বসবাসরত মানুষও আন্তঃনগর 'কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে' সহজেই যাতায়াত করতে পারবেন। উল্লেখ্য, ঢাকা-কুড়িগ্রামের রেলপথের দূরত্ব ৪৬১ কিলোমিটার। এখন 'কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস' সপ্তাহে বুধবার ছুটির দিন ছাড়া ছয়দিন সকাল ৭টা ২০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে কুড়িগ্রাম ছেড়ে যাচ্ছে। পক্ষান্তরে ঢাকা থেকে রাত ৪টা ৪৫ মিনিটে কুড়িগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসছে। ট্রেনটিতে রংপুর, বদরগঞ্জ, পার্বতীপুর, জয়পুরহাট, শান্তাহার, মাধবনগর ও ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনগুলোয় যাত্রী ওঠানামা করছে। আমরা আশাবাদী, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনটি চালু হওয়ায় কুড়িগ্রামের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বড় ধরনের অবদান রাখবে।

সাবেক ছাত্রনেতা