চিঠিপত্র

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৯      

রিডিংরুম সংকট দূর হোক

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা পড়াশোনার জন্য যথেষ্ট পড়ার জায়গা (পাঠকক্ষ) পাচ্ছে না। বছর বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে, ডিপার্টমেন্ট বাড়ছে কিন্তু বাড়ছে না শ্রেণিকক্ষ ও পাঠকক্ষগুলোর আয়তন। বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারগুলোর অবস্থা আরও জটিল; জায়গা সংকট ও আসন না পাওয়ার আশঙ্কায় অনেকে গ্রন্থাগারে যাওয়া বাদ দিয়েছে। আবাসন সংকটের পাশাপাশি বেড়েই চলেছে পড়ার জায়গার সংকট। হলে ছাত্ররা পাঠকক্ষে পড়ার যথাযথ জায়গা না পেয়ে পত্রিকা কক্ষ ও টিভিরুমে পড়া আরম্ভ করেছে। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। জিয়া হলে পাঠকক্ষ বৃদ্ধির দাবিতে ছাত্ররা বহুবার আন্দোলন করেছে এবং আন্দোলন করে যাচ্ছে। হলের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো, হল ছাত্র সংসদ ও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বহুবার পাঠকক্ষ বৃদ্ধির দাবি তোলা হয়েছে কিন্তু সংকটের কোনো সুষ্ঠু সমাধান পাওয়া যায়নি। গত বৃহস্পতিবার হল ছাত্র সংসদ ও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে পাঠকক্ষ বৃদ্ধির দাবিতে প্রাধ্যক্ষ স্যারের অফিস ঘেরাও করা হলে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জিয়া রহমান নতুন পাঠকক্ষ স্থাপনের আশ্বাস দেন। এরূপ আশ্বাস আগেও দেওয়া হয়েছে কিন্তু কখনোই এর বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য হলের অবস্থাও ভিন্ন নয়। সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীরা যদি সুষ্ঠু পড়ার পরিবেশ না পায় তাহলে জাতির কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন পূরণ সম্ভব নয়। পড়াশোনার পরিবেশের অভাবে ছাত্ররা তাদের মেধা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারছে না। তাদের মেধা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে না পারার দায় কে নেবে? বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার ও হলের পাঠকক্ষগুলোর আয়তন বৃদ্ধিসহ আবাসন সংকট নিরসনে ঢাবি প্রশাসন ও হল প্রশাসনসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মো. আতিকুল্লাহ
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

চাল আত্মসাৎকারীদের শাস্তি চাই

গরিব ও অসহায়দের ঈদ ভিজিএফ, জেলে ভিজিএফসহ দুস্থদের স্বল্পমূল্যে চাল দিচ্ছে সরকার, যা খুবই প্রশংসনীয়। এই উদ্যোগের কারণে জনগণের কাছে অনেক প্রশংসনীয় হয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু ইদানীং দেখা যাচ্ছে মহৎ এই উদ্যোগকে কলঙ্কিত করছে ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতাকর্মী। তারা যেন নিজেরাই নিজেদের পায়ে কুড়াল মারছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। মানুষের চিন্তাচেতনাও দিন দিন বদলে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে মানুষ অনেক বেশি মানবিক হওয়ার চেষ্টা করছে বা মানবিক হয়ে উঠছে। কিন্তু এখনও কিছু মানুষ রয়েছে, যারা এসব অপকর্ম থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। পত্রিকা খুললেই দেখা যায় বিভিন্ন স্থানে ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার, স্থানীয় নেতাকর্মীরা হতদরিদ্রদের চাল আত্মসাতের দায়ে আটক হয়েছে। এটাকে আমরা স্বাগত জানাই তবে তাদের শাস্তিটা আরও কঠোর করা উচিত। এসব ঘটনা প্রায় প্রতিটি জায়গায়ই হচ্ছে, তাই সব জায়গায় চাল বিতরণের সময় স্বচ্ছ তদারকি টিম গঠন করা হোক। কোনো অনিয়ম পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন সংশ্নিষ্টদের গ্রেপ্তার করা হয়। তবে শুধু যে আত্মসাৎ হচ্ছে এমন নয়, অনেক জায়গায় দেখা যায় দুস্থদের তালিকায় স্বচ্ছদের নামই বেশি। এগুলোও খতিয়ে দেখুন। এত সুন্দর উদ্যোগটাকে বিতর্কিত করবেন না। আপনাদের কারণেই সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়। শুধু চাল নয়, পত্রিকা খুললে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রী দেশের গৃহহীনদের ঘরের তালিকা তৈরির জন্য স্থানীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন। সেখানেও আপনারা দুর্নীতি করেন। বিভিন্ন জায়গায় গৃহহীনদের যে ঘর দেওয়ার কথা তা দেওয়া হয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের। এসব অপকর্ম অনতিবিলম্বে বন্ধ করা হোক।

মো. তাইমুন ইসলাম রায়হান
রাঙ্গাবালী, পটুয়াখালী