অদ্ভুত অভিযোগপত্র

তদন্ত কর্মকর্তার বিচার হোক

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মামলার ক্ষেত্রে তদন্ত প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন মুখ্য ভূমিকা রাখে। কিন্তু এই তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন কম ওঠেনি। তদন্তের তদন্তও অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে দায়িত্বশীলদের অনিয়ম-স্বেচ্ছাচারিতার কারণে। ফের এমন ঘটনাই ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। সোমবার সমকালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে চাহিদামতো ঘুষ না পাওয়ায় মৃত ব্যক্তি, দেশের বাইরে থাকা লোককে সাক্ষী করে একটি হত্যা মামলায় সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পিবিআইর এক পরিদর্শকের বিরুদ্ধে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক হারুনুর রশীদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হান্নান ভুঁইয়ার কাছে ২০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ। ওই চেয়ারম্যান নবীনগরে খুন হওয়া আল-আমিন হত্যা মামলার আসামি। সিআইডি ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ প্রথমে যে অভিযোগপত্র দেয়, তাতে ওই চেয়ারম্যানের নাম ছিল না। দৃশ্যত ঘুষ না পেয়ে সম্পূরক অভিযোগপত্রে তাকে জড়িয়েছেন পিবিআই পরিদর্শক। তদন্তে আরও নানারকম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে পিবিআইর ওই পরিদর্শকের বিরুদ্ধে। আত্মপক্ষ সমর্থন করে ওই তদন্ত কর্মকর্তা যে বক্তব্য রেখেছেন, তাও খোঁড়া যুক্তি বলেই প্রতীয়মান হয়। ফৌজদারি মামলার তদন্তে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ না থাকলে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র না দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে পেশ করেন। এটাই বিধিবদ্ধ প্রথা। আদালত চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ না করলে মামলা খারিজ হয়। তবে ক্ষেত্রবিশেষে আদালত পুনঃতদন্তের নির্দেশও দিতে পারেন। মৃত ব্যক্তিদের ফৌজদারি মামলায় আসামি করার নজিরও আমাদের সামনে আছে। ফৌজদারি মামলার তদন্তে অনিয়ম-স্বেচ্ছাচারিতার যেসব ঘটনা ইতিমধ্যে ঘটেছে, সেসবের ক'টির যথাযথ প্রতিকার হয়েছে- এ প্রশ্ন থেকে যায়। অনেকের জীবনেই এ জন্য দুর্বিষহ পরিস্থিতি নেমে আসারও নজির আছে। এমন দুস্কর্ম শুধু আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের পথেই অন্তরায় সৃষ্টি করে না, চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনেরও শামিল বলে আমরা মনে করি। এসব ক্ষেত্রে নির্মোহ অবস্থান নিয়ে যথাযথ প্রতিকার নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আল-আমিন হত্যা মামলার তদন্তে পিবিআই পরিদর্শক যে অন্যায়-অনিয়ম করেছেন, যথাযথ তদন্তক্রমে এর দৃষ্টান্তযোগ্য প্রতিকার হওয়ার মধ্য দিয়েই সূচিত হোক তদন্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণের বিষয়টি। তদন্তের তদন্ত ও তদন্তকারীর অপরাধের বিচার হোক।