জজ মিয়া 'নাটক'

কুশীলবদের ছাড় নয়

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০১৯

ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ২০১৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ক্ষত শুকানোর নয়। এমন একটি বর্বর ঘটনার তদন্ত ও বিচারের নামে তৎকালীন সরকারের ভূমিকা ও বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টাও ইতিহাসের ঘৃণ্য অধ্যায়। ওই ঘটনায় পুলিশি তদন্তে কথিত জজ মিয়া নামের ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা হয়। ২০০৫ সালে জজ মিয়ার স্বীকারোক্তি থেকেই স্পষ্ট হয়, এ ছিল তৎকালীন সরকারের নিছকই বানানো আষাঢ়ে গল্প। যে ব্যক্তি গ্রেনেড কী জিনিস জীবনেও দেখেননি, সেই ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করার অপচেষ্টা শুধু তার জীবনকেই ধসিয়ে দেয়নি, সরকারের মদদে রাষ্ট্রে নৃশংসতার পথরেখাও সৃষ্টি করে। মামলাটির অধিক তদন্তের পর জজ মিয়া নাটকের রহস্য উন্মোচিত হয়। আমরা জানি, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর গ্রেনেড হামলাকারীদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন। ২০০৫ সালের ৯ জুন নিজ বাড়ি থেকে জজ মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পুরস্কার এক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন সিআইডির তৎকালীন তিন কর্মকর্তা। তদন্ত ও বিচারের নামে এত বড় প্রহসন আইনি প্রক্রিয়াকেই শুধু প্রশ্নবিদ্ধ করেনি, মানুষের আস্থায় বড় ধরনের আঘাতের পাশাপাশি বহুবিধ শঙ্কারও জন্ম দেয়। আমরা মনে করি, দেশ-জাতি তথা আইন-বিচার ও মানবাধিকারের সুরক্ষার প্রশ্নে এই নাটকের কুশীলবদের দৃষ্টান্তযোগ্য বিচার জরুরি। একই সঙ্গে ওই বিস্ময়কর যুগপৎ প্রশ্নবোধক ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে দায়িত্বশীল মহলকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে, যাতে এমন ঘটনার আর কোনোদিন উদ্ভব না হয়। আমরা এও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, জজ মিয়ার জীবন থেকে যে অমূল্য সময় ঝরে যায় ও তদন্তের নামে রিমান্ডে তার ওপর যে অমানুষিক নির্যাতন চলে, এরও দৃষ্টান্তযোগ্য প্রতিকারের পাশাপাশি জজ মিয়ার ক্ষতিপূরণের বিষয়েও পদক্ষেপ নিতে হবে। যেখানে নাগরিকের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রশক্তির দায়, সেখানে জজ মিয়ার এমন মর্মন্তুদ পরিণতির দায়ও রাষ্ট্রশক্তি এড়াতে পারে না।