প্রতারণার শিকার হজযাত্রী

আইনানুগ ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০১৯      

হজে গমনেচ্ছুদের নিয়ে প্রতারণা যেন ফি বছরের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোমবার সমকালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ফের একই চিত্র ফুটে উঠেছে; পঞ্চগড়ে ৩৭ মুসল্লিকে হজে পাঠানোর কথা বলে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রতারক চক্র উধাও। ভুক্তভোগীরা এ ব্যাপারে অভিযোগ জানালেও প্রশাসনের গড়িমসির অভিযোগ রয়েছে। আমরা মনে করি, এ রকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে এলেও দৃষ্টান্তযোগ্য প্রতিকার নেই বিধায়ই দালাল-প্রতারকরা বারবার এমন দুস্কর্মের দুঃসাহস দেখায়। ধর্মপ্রাণ মানুষের হজব্রত পালনের আকাঙ্ক্ষায় যারা কুঠারাঘাত করে নিজেদের পকেট স্ম্ফীত করে, তারা জনশত্রু। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীরা হজব্রত পালন করবেন- এটিই স্বাভাবিক প্রত্যাশা। কিন্তু আমরা জানি, প্রতিবারই হজের আগে সংঘবদ্ধ চক্রের নানাবিধ অনিয়মে অনেকেরই হজযাত্রায় বিঘ্ন ঘটে। পঞ্চগড়ের ঘটনাটি এ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এ বিশাল কর্মযজ্ঞ যাদের কারণে বিঘ্নিত হয়, তাদের চিহ্নিত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কেন গড়িমসি হয়- এ প্রশ্নের জবাব দেওয়ার দায় প্রশাসন এড়াতে পারে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে শাস্তি হিসেবে কোনো এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল ও জরিমানা হলেও তাদের ও দালালদের ব্যবসার নামে নৈরাজ্য বন্ধ থাকে না। আমরা এও জানি, দুর্নীতি-অনিয়মে যুক্তদের রয়েছে বিস্তৃত শাখা-প্রশাখা। কাজেই আমরা মনে করি, প্রতিকার হিসেবে দুর্নীতিগ্রস্ত এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স বাতিল কিংবা জরিমানার মতো টুটকা দাওয়াইয়ে এর সমাধান মিলবে না, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে না। হজ এজেন্সিগুলোর সঙ্গে দালালচক্রের যে যোগসূত্র রয়েছে, এর জন্য উৎসে নজর দিয়ে দৃষ্টান্তযোগ্য প্রতিকার নিশ্চিত করা ছাড়া গত্যন্তর নেই। আর যেসব হজযাত্রীর যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, তাদের জন্য সরকারের বিশেষ ব্যবস্থা নিতেই হবে। আমরা আশা করি, পঞ্চগড়ের ঘটনার প্রতিকারমূলক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এ ধরনের প্রতারণার

পুনরাবৃত্তি রোধ হবে।