নির্মল বায়ু প্রকল্প

অপচয়ের দূষণে ব্যর্থ

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০১৯      

নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ বা কেইস প্রকল্পের অর্থব্যয়-সংক্রান্ত সমকালের সোমবারের 'পরামর্শের মূল্যই সাড়ে ৩৩ কোটি টাকা' শীর্ষক প্রতিবেদন আমাদের হতাশ করলেও বিস্মিত নই। মূলত সরকারি প্রকল্পে অর্থের 'নয়ছয়' কীভাবে হয়- এটা তারই অন্যতম উদাহরণ। বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ২২১ কোটি টাকার ঋণ নেওয়া প্রকল্পটির ৩৩ কোটিরও বেশি টাকা কেবল পরামর্শকদের পেছনে খরচ করে যদি কোনো সুফল পাওয়া যেত তাও মেনে নেওয়া যেত। প্রতিবেদন সূত্র বলছে, এত দামি পরামর্শকরা কী সুপারিশ করেছেন তাও স্পষ্ট নয়। ১০ বছর মেয়াদি প্রকল্পটিতে কেবল পরামর্শকরাই লাভবান হননি, এর কর্তাব্যক্তিরাও দেশ-বিদেশ ঘোরার সুযোগ পেয়েছেন, কেউ কেউ প্রশিক্ষণের নামে ডজনখানেক বিদেশ সফর করেছেন। পরিবেশ অধিদপ্তর, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বাস্তবায়িত প্রকল্পটি এমন সময় গ্রহণ করা হয় যখন বায়ুদূষণ ছিল উদ্বেগজনক পর্যায়ে; কিন্তু এর মেয়াদ শেষ হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি ঘটেনি। টেকসই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নেওয়ার মাধ্যমে অধিক বায়ুদূষণ সৃষ্টিকারী যানবাহন ও ইটভাটা থেকে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা কমানোর জন্য বিশেষ করে এ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়, সে ক্ষেত্রেও উন্নতি হয়েছে সামান্যই। এমনকি ঢাকা শহরের কিছু এলাকায় রিকশা তথা অযান্ত্রিক যানবাহন বন্ধের যে সুপারিশের কথা এর পরামর্শকরা দিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে সেটিও সমকাল প্রতিবেদক খণ্ডন করে দেখিয়েছেন, বরং কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রকল্পটি লক্ষ্য অর্জনের পরিবর্তে যে কিছু লোকের বিনোদনের বাহন হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। প্রকল্পটির পরামর্শ ও প্রশিক্ষণেই যেখানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অর্থ ব্যয় হয়, সে প্রকল্পের মূল কাজ কতটা হবে তা সহজেই অনুমেয়। দুঃখজনক বিষয় হলো, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি এমন সময় এ প্রকল্পের অনিয়ম বের করেছে, যখন প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ। সংশ্নিষ্ট কমিটি যদি প্রকল্পটির মেয়াদ থাকতেই বিষয়টি খতিয়ে দেখত, তাতে হয়তো এ প্রকল্প 'কম ব্যর্থ' হতো। তবে এখান থেকেও আমাদের সচেতনতা ও সতর্কতার শিক্ষা রয়েছে। প্রথমত, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রকল্পগুলো কতটা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে কাজ করছে এবং প্রকল্পের উদ্দেশ্য কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে তা সংশ্নিষ্ট কমিটি খতিয়ে দেখুক। দ্বিতীয়ত, নতুন যে কোনো প্রকল্প গ্রহণের আগেই ঠিক করা উচিত কোন খাতে কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা যাবে কিংবা যাবে না। এরপর প্রকল্পটি সে অনুযায়ী চলছে কি-না তারও ষাণ্মাসিক বা অন্তত বার্ষিক তদারকি হতে পারে। আমরা চাই না জনস্বার্থের সরকারি কোনো প্রকল্প ব্যর্থ হোক। বরং সরকারি প্রকল্পগুলোতে চিরাচরিত যে অনিয়ম চলে আসছে তার লাগাম টেনে ধরা জরুরি।