খাল-বিল, নদ-নদীর এই দেশে এসবের অস্তিত্ব সংকট নতুন কোনো বিষয় নয়। যে যার ক্ষমতা অনুযায়ী খাল-নদী-প্রাকৃতিক জলাশয় ব্যবহার করছে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় এসবই যেন অনাথ। এগুলো রক্ষার সরকারি দপ্তর আছে, কিন্তু দখলদাররা তাদের মান্য করে না কিংবা দায়িত্বশীল অনেকেই দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠ নন। যার যত প্রভাব-প্রতিপত্তি, সে তত বেশি দখলদারি নিয়ে নদী-খালের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। পরিবেশ-প্রতিবেশ কিংবা সমাজের কতটুকু ক্ষতি হচ্ছে, সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। এরই ফের প্রমাণ পাওয়া গেল শনিবার সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে। চট্টগ্রামে এক সময় যে খালগুলো ছিল স্রোতস্বিনী এবং বন্দরনগরসহ আশপাশ এলাকার নৌবাণিজ্য ও পানি নিস্কাশনের মাধ্যম, সেই খালগুলো দখলদারদের থাবায় এখন ক্ষীণকায়। তাই সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবে যায় চট্টগ্রাম নগরী। নগর জীবনে ফিরে ফিরে দেখা দেয় অন্তহীন দুর্ভোগ। সমকালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫৭৬টি অবৈধ স্থাপনা গিলে ফেলেছে নগরীর ১৩টি খাল। তবে স্বস্তির কথা হলো, এ মাসের প্রথম দিক থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে নেমেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় 'চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন' শীর্ষক চউকের পাঁচ হাজার কোটি টাকারও বেশি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ চলছে। এমতাবস্থায় সর্বাগ্রে প্রয়োজন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ। আমরা জানি, নদী-খাল-জলাশয় অবৈধ দখলমুক্ত করে এর সুবিধা কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা রয়েছে এবং এরই ধারাবাহিকতায় অবৈধ উচ্ছেদ অভিযানও চলছে। ইতিমধ্যে আমরা দেখেছি অনেক বলবানের বিশাল বিশাল অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়েও দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের খালগুলো অবৈধ দখলমুক্ত করে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিতে এমন প্রত্যয়ের বিকল্প নেই। চট্টগ্রামের খালগুলোর বাণিজ্যিক-অর্থনৈতিকসহ বহুবিধ সুযোগ-সুবিধার বিষয়টিও সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নগরীর অভিশাপ জলাবদ্ধতা নিরসনেও এর বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে যেমন প্রশাসনিক দৃঢ়তা অপরিহার্য, তেমনি রাজনৈতিক ঐকমত্যও জরুরি। সব পক্ষের যথাযথ ও সমন্বিত ভূমিকার মাধ্যমেই চট্টগ্রাম নগরীর হূতগৌরব ফেরাতে হবে। পানি নিস্কাশনের প্রাকৃতিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে  আনতে হবে।

মন্তব্য করুন