একই স্থানে দুই প্রকল্প

সমন্বয়হীনতা কেন?

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০১৭     আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০১৭      

খুলনা উম্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) খুলনার বটিয়াঘাটার তেঁতুলতলা মৌজায় আধুনিক স্যাটেলাইট শহর গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। এখন জমি অধিগ্রহণের অপেক্ষা। অন্যদিকে একই স্থানে অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কাজও অনেক দূর এগিয়েছে বলে জানিয়েছেন খুলনা জেলা প্রশাসক। ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন থেকে ওই অঞ্চল গঠনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেটি জানানো হয়নি কেডিএকে। অথচ কেডিএর আওতাভুক্ত এলাকায় কোনো প্রকল্পের কথা কেডিএকে অবহিত করার কথা। অন্যদিকে কেডিএর উদ্যোগ জেলা প্রশাসনের অজানা থাকার কথা নয়। এখানে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকার বনাম সরকার। সরকারের এক এজেন্সির সঙ্গে অপর এজেন্সির কোনো সমল্প্বয় নেই। ব্যাপারটা চাচা-ভাতিজা গল্পের মতো। চাচা ও ভাতিজার মধ্যে তুমুল প্রতিযোগিতা, কে কত ক্ষমতাবানঙ্ঘ চাচা বাড়ির পাশের জমিতে পুকুর খনন করবেন আর ভাতিজা বানাবেন বাগানবাড়ি। দু'জনই নিজ নিজ প্রকল্পে শ্রমিক নিয়োগ দিলেন। চাচার শ্রমিকরা পুকুর খনন করতে লাগল আর ভাতিজার কাজ হলো ভরাট করা। একদিন চাচা জানতে চাইলেন, কাজের অগ্রগতি কী। শ্রমিকরা বলল- আমরা যতটুকু খনন করি, আপনার ভাতিজার শ্রমিকরা ততখানি ভরাট করে। ভাতিজার পাওয়া উত্তর একই রকম। চাচা-ভাতিজার এমন খেলা রাজধানী থেকে শুরু করে সর্বত্র। খোদ রাজধানীতে অর্ধশত এজেন্সি কাজ করে। সমল্প্বয় নেই একটার সঙ্গে অন্যটার। সিটি করপোরেশন রাস্তায় পিচ ঢালাই যেদিন শেষ করে, তার পরদিন পিডিপি খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে। এমন সমল্প্বয়হীনতায় পাবলিক মানির অপচয় হচ্ছে, উম্নয়নের ধারা হচ্ছে ব্যাহত। এটি রোধে সব এজেন্সিকে একই ছাতার নিচে আনার বিকল্প নেই। সে লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনসহ জেলা ও উপজেলায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকার গড়ে তোলা জরুরি। কিন্তু সাংসদ, আমলা সবারই ঘোর আপত্তি।
আমরা খুলনার বটিয়াঘাটায় প্রকল্প গ্রহণে সমল্প্বয়হীনতার কারণ নিরূপণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। একইভাবে সরকারের এজেন্সিগুলোর মধ্যে সমল্প্বয় প্রক্রিয়া জোরদার করার আহ্বান জানাই।