প্রাণঘাতী 'নীল তমি'

সতর্কতা ও সক্রিয়তার এখনই সময়

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০১৭      

অনলাইনভিত্তিক '্ব্নু হোয়েল' নামের যে 'ডার্ক গেম' প্রতিবেশী ভারতের বেশ কয়েকজন কিশোর-কিশোরীর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, বাংলাদেশেও তার বিস্তারের খবর আমাদের উদ্বিঘ্ন না করে পারে না। সমকালসহ বিভিম্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেন্ট্রাল রোডে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মঘাতী হওয়া কিশোরী অপূর্বা বর্ধন এর প্রথম শিকার। আমরা জানি, এই খেলায় একবার প্রবেশ করলে আক্রান্তকে এতটাই আচ্ছম্ন করে ফেলা হয় যে, তার পক্ষে বের হয়ে আসা কঠিন। প্রথমে উত্তেজনা ও শিহরণমূলক কিছু 'চ্যালেঞ্জ' দিয়ে সেগুলোতে সহজেই 'পাস' করিয়ে কিশোর-কিশোরীদের আকৃষ্ট করা হয়। তারপর ধীরে ধীরে তার ব্যক্তিগত নানা তথ্য-উপাত্ত হাতিয়ে নিয়ে, ক্রমশ উচ্চতর মাত্রার মাদক গ্রহণে অভ্যস্ত করা হয়। এরপর এক পর্যায়ে ঠেলে দেওয়া হয় আত্মনিপীড়ন, এমনকি আত্মহননের দিকে। গোটা বিশ্বে গত কয়েক মাসে অন্তত ১৩০ জন প্রাণ হারিয়েছে মরণখেলাটির ফাঁদে পড়ে। নীল তিমি আক্রান্তদের শরীরে যে বিশেষ চিহ্ন থাকে, রাজধানীতে আত্মঘাতী কিশোরীর শরীরেও তা মিলেছে বলে পরিবার থেকে জানানো হয়েছে। তারপরও আমরা খতিয়ে দেখতে বলব, তার মৃতু্যর অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি-না। কিন্তু ্ব্নু হোয়েল গেম নিয়ে যে আমাদের সতর্ক ও সক্রিয় হওয়ার সময় এসেছে, এ ব্যাপারে সন্দেহ নেই। এই খেলায় আক্রান্ত হওয়ার প্রধান লক্ষণ ক্রমশ পরিবারের অন্যান্য সদস্য থেকে বিচ্ছিম্ন হওয়া এবং একাকী নিজের স্ট্মার্টফোনে মঘ্ন থাকা। অভিভাবকদের উচিত হবে, নিজেদের সন্তানের দিকে নজর রাখা। তার শরীরে কোনো বিশেষ চিহ্ন, বিশেষত খোদাই করা নীল তিমি রয়েছে কি-না নিরীক্ষা করে দেখতে পারেন। একই সঙ্গে এই গেম অনলাইনে যাতে সহজলভ্য না হয়, সে ব্যাপারে বিটিআরসি ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা জানি, ইতিমধ্যে ্ব্নু হোয়েল গেমের উদ্ভাবক রুশ তরুণ আটক হয়েছে; আটক হয়েছে অন্যান্য দেশে থাকা কিছু অ্যাডমিনও। বাংলাদেশে কেউ এর সঙ্গে যুক্ত কি-না খতিয়ে দেখা জরুরি। তারও আগে জরুরি সন্তানকে সময় দেওয়া। নিঃসঙ্গতাই কিশোর বা তরুণদের ইলেকট্রিক ডিভাইসের দিকে ঠেলে দেয়, ভুলে যাওয়া চলবে না। এও মনে রাখতে হবে, উদ্বেগজনক এই খেলা পরিবারের সবার মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের তাগিদও নতুন করে দিচ্ছে। কিশোর-কিশোরীসহ প্রাপ্তবয়স্ক এমনকি পরিবারের কর্তা-কর্ত্রীদের অনলাইনে মাত্রাতিরিক্ত সময় ব্যয় করা উচিত নয়, এই পরিস্থিতি তাও মনে করিয়ে দিল। আমরা মনে করি, পারিবারিক বন্ধন ছাড়াও শিশু-কিশোরদের খোলা মাঠে খেলাধুলা জরুরি। প্রকৃতির কাছাকাছি হওয়াও অনলাইনভিত্তিক নেতিবাচক প্রপঞ্চগুলো থেকে দূরে রাখতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি, সবাই সতর্ক ও সজাগ থাকলে, শিশু-কিশোরদের স্বাস্থ্যকর ও সংস্কৃতিবান্ধব পরিবেশ উপহার দিতে পারলে নীল তিমির গ্রাস এড়ানো কঠিন হতে পারে না।