বগুড়া

ফিটনেসহীন ৮ হাজার যান

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৯      

মোহন আখন্দ, বগুড়া

বগুড়ায় বিভিন্ন ধরনের প্রায় ৮ হাজার যানবাহনের ফিটনেস নেই। এ ছাড়া প্রায় ২৫ হাজার চালক তাদের লাইসেন্স নবায়ন করেননি। নতুন সড়ক আইন কার্যকর হওয়ার পরও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের মালিক ও লাইসেন্স নবায়ন না করা চালকদের এ ব্যাপারে কোনো আগ্রহও লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে তাদের বিরুদ্ধে নতুন আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ নেওয়া আদৌ সম্ভব হবে কি-না তা নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) অবশ্য বলছেন, আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তবে পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা আইনটি শিথিল করার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, যদি আইনটি শিথিল করা না হয় তাহলে জরিমানা এড়াতে যানবাহন বন্ধ রাখা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকবে না। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অবশ্য আইনকে শিথিল না করে বরং ফিটনেস সনদ ও চালকের লাইসেন্সসহ সব নথি নবায়নের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।

গত ১ নভেম্বর থেকে নতুন সড়ক আইন কার্যকর হয়েছে। ১২টি ধারায় বিন্যস্ত নতুন এই আইনে ফিটনেসবিহীন বা মেয়াদোত্তীর্ণ মোটরযান চালানোর অপরাধে ৬ মাস কারাদণ্ড অথবা অনধিক ২৫ হাজার টাকা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার কথা বলা হয়েছে। যদিও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়ে আগামী সপ্তাহ থেকে আইন প্রয়োগের কথা বলেছেন। এরই মধ্যে বগুড়ায় পুলিশের পক্ষ থেকে নতুন ওই আইনের ধারা ও শাস্তির বিধান সংবলিত লিফলেট প্রকাশ করে সব ধরনের যানচালক এবং মালিকদের বিলি করা হচ্ছে।

বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, বগুড়ায় বিভিন্ন ধরনের ১৫ হাজার ৭৪৭টি যানবাহন রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের বাস ও ট্রাক রয়েছে ৬ হাজার ১২৯টি এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা রয়েছে ৬ হাজার। লাইসেন্সধারী পেশাদার চালকের সংখ্যা ৩২ হাজার ৫০২ জন। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি পাঁচ বছর পরপর লাইসেন্স নবায়নের নিয়ম থাকলেও সিংহভাগ চালক তা করেন না।

ফিটনেসবিহীন যানবাহন একদিকে যেমন দুর্ঘটনার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তেমনি সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। বগুড়া বিআরটিএ কর্মকর্তারা বলছেন, ফিটনেস এবং চালকদের লাইসেন্স নবায়নের জন্য বারবার তাগাদা দেওয়ার পাশাপাশি মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে তারা পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের নিয়ম মানতে 'বাধ্য' করানোর জন্য বিভিন্ন সময় চেষ্টা করেছেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে ফিটনেস সনদ নবায়নের সুযোগ দেওয়া হলেও তা কেউ গ্রহণ করেনি। তার কিছুদিন পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে গড়ে ওঠা ছাত্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ধারণা করা হয়েছিল পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের টনক নড়বে। কিন্তু তেমনটি হয়নি।

বগুড়ায় সিংহভাগ বাস-মিনিবাসের ফিটনেস সনদ নেই বলে স্বীকার করেছেন জেলা মোটর মালিক গ্রুপর সভাপতি শাহ্‌ আকতারুজ্জামান ডিউক। তার মত হলো, এসব সমস্যা একদিনে সৃষ্টি হয়নি। তবে এগুলো থেকে বের হয়ে আসার জন্য সুযোগ দিতে হবে। নতুন আইনে জরিমানার পরিমাণ এতটাই বাড়ানো হয়েছে যে তা শিথিল না করলে বাস-মিনিবাস বন্ধ রাখা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।

জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযানের (সুপ্র) বগুড়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কেজিএম ফারুক বলেন, আইনকে শিথিল করার প্রয়োজনে নেই। তবে যানবাহনের ফিটনেস সনদ এবং চালকদের লাইসেন্স নবায়নের জন্য পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের আরও কিছুদিন সময় দেওয়া যেতে পারে। সেটা ৩০ দিন হতে পারে।

নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে বাস-মিনিবাস মালিকরা ফিটনেস সনদের জন্য এখনও তেমন কেউ আসেনি জানিয়ে স্থানীয় বিআরটিএর সহকারী পরিচালক সৈয়দ মেজবা উদ্দীন জানান, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। কেউ আইন অমান্য করলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।