খুলনা

যত্রতত্র বিক্রি এলপি গ্যাস সিলিন্ডার

লাইসেন্স নেই ৩শ' প্রতিষ্ঠানের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৯      

মামুন রেজা, খুলনা

শুধু এই তিনটি প্রতিষ্ঠানই নয়, খুলনা মহানগরী ও জেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো এলপি গ্যাস বিক্রির প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। লাইসেন্স না নিয়েই মুদি দোকান, সাইকেল গ্যারেজ, পানের দোকান, তুষ-কাঠের দোকান, ক্রোকারিজের দোকান, রড-সিমেন্টের দোকান, ফ্লেক্সিলোড ও ফটোকপির দোকান, চায়ের দোকান ও সেলুনসহ বিভিন্ন ধরনের দোকানে অবৈধভাবে এলপি গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে। অনভিজ্ঞ ও লাইসেন্সবিহীন এসব গ্যাসের দোকানের কারণে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্টেম্ফারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে গেছে।

খুলনা এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি তোবারেক হোসেন তপু অভিযোগ করে সমকালকে বলেন, খুলনায় বিস্টেম্ফারক অধিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়াই কমপক্ষে ৩শ' প্রতিষ্ঠান এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছে। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের মালিক-কর্মচারীরা গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি কিংবা এগুলো ব্যবহারের নিয়ম জানে না। ফলে ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। এ বিষয়ে বেশ কয়েকবার বিস্টেম্ফারক অধিদপ্তরকে স্মারকলিপি দিলেও কোনো কাজ হয়নি।

তিনি বলেন, কিছু লোক বিস্টেম্ফারক লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর প্রদান না করে এবং ডিলার লাইসেন্স না নিয়েই এলপি গ্যাস বিক্রি করছে। অবৈধ ব্যবসায়ীদের কারণে লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি স্থানে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্টেম্ফারণও ঘটেছে। এ ছাড়া অজ্ঞতা ও অসতর্কতাসহ বিভিন্ন কারণে বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে ঝুঁকি বেড়েছে। বটিয়াঘাটা উপজেলার মোহাম্মদনগরের একটি বাড়িতে গত বছর ২৮ মার্চ দুপুরে রান্নার সময় সিলিন্ডার থেকে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস গিয়ে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় অল্পতেই রক্ষা পায় পরিবারটি। গত বছর ১৩ এপ্রিল নগরীর আহসান আহমেদ রোডের রোস্টার কিং নামের ফাস্টফুডের দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্টেম্ফারণে ৮ জন আহত হয়। ২০১৮ সালের ২ ডিসেম্বর খালিশপুর প্লাটিনাম জুট মিলের ২নং গেটে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্টেম্ফারণে ৩ জন আহত হয়।

খুলনা বিস্টেম্ফারক অধিদপ্তরের পরিদর্শক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ সমকালকে বলেন, মহানগরী ও জেলায় গ্যাস সিলিন্ডারের লাইসেন্সধারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪৯৬টি। এর বাইরেও লাইসেন্সবিহীন বহু প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেগুলো বন্ধে তারা তৎপর। কিন্তু জনবল সংকট থাকায় তাকে একাই খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ১৬ জেলায় পরিদর্শন করতে হয়। সে কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সবকিছু ঠিকমতো তদারক করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এ ছাড়া যারা এলপি গ্যাস ব্যবহার করেন তাদেরও আরও সতর্কতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।