কুমিল্লা-৯

জাতীয় পার্টির মনোনয়ন চান এটিএম আলমগীর

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০১৮

সমকাল প্রতিবেদক

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এটিএম আলমগীর। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে মনোনয়ন চান তিনি। এ জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে দু'দিন এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করছেন তিনি।

আগামী নির্বাচনে আসনটি ধরে রাখার জন্য জাতীয় পার্টির উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে নিজেকে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি জাপার চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাতকে আরও শক্তিশালী করতে চান তিনি। বর্তমানে জাপার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশনের ভাইস চেয়ারম্যান এটিএম আলমগীর। গত ২৩ এপ্রিল বিএনপি থেকে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন তিনি।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় লাকসাম থানার মুজিব বাহিনীর 'ডেপুটি লিডার' ছিলেন আলমগীর। ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন তিনি। ওই সময় তাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে পাকিস্তানি বাহিনী।

১৯৫০ সালে লাকসামের ঝলম গ্রামে জন্ম নেওয়া এটিএম আলমগীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে স্নাতক ও  স্নাতকোত্তর পাস করেন। ১৯৬৬-৬৮ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন। পরে ঢাবির এসএম হল শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক হন তিনি।

এই মুক্তিযোদ্ধা ১৯৯৬ সালে সুপ্রিম কোর্টে নিয়মিত আইন পেশায় প্রবেশ করেন। পঞ্চম ও ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৯ আসন থেকে দু'বার বিএনপিদলীয় এমপি নির্বাচিত হন এটিএম আলমগীর। এ সময় এলাকায় বহু উন্নয়নমূলক কাজ করেন। তিনি শিল্প ব্যাংক ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন। এটিএম আলমগীরের ছোট ভাই কামাল হোসেন বুলু বর্তমানে মনোহরগঞ্জ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান।

এটিএম আলমগীর মনোহরগঞ্জ উপজেলা ও থানা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এ ছাড়া মনোহরগঞ্জ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী এ জাপা নেতা। জাতীয় পার্টি থেকে প্রাথমিকভাবে যে ১০০ জনের নাম বাছাই করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছেন তিনি। একজন সজ্জন, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় সবার কাছে পরিচিত তিনি। স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিন সংশ্নিষ্ট রয়েছেন এ মুক্তিযোদ্ধা। এলাকায় রয়েছে তার নিজস্ব ভোট ব্যাংক। তাই ফের জনগণের সেবক হতে চান তিনি।

বিএনপি থেকে জাতীয় পার্টিতে আসার কারণ জানতে চাইলে এটিএম আলমগীর সমকালকে বলেন, স্বাধীনতার পক্ষে রাজনীতি করার জন্যই বিএনপি ত্যাগ করেছি। তাছাড়া ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত তাকে বিএনপির থানা, জেলা ও কেন্দ্রীয় কোনো কমিটিতে রাখা হয়নি। তার মতে, আওয়ামী লীগের ৬০ শতাংশ মানুষ বর্তমান এমপি তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এলাকার জনগণ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমাকে সমর্থন করে। তাছাড়া এলাকায় বিএনপি দুটি গ্রুপে বিভক্ত। এক গ্রুপ থেকে বিএনপি প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হলে, অপর গ্রুপ তাকে সমর্থন করবে বলে আশা করেন তিনি।

আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করে এটিএম আলমগীর বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এলাকার তৃণমূল জনগণের সঙ্গে কাজ করছি। আগামী নির্বাচনে যদি আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি নির্বাচনে পৃথকভাবে অংশগ্রহণ করে, সে ক্ষেত্রে তিনি বর্তমান এমপিবিরোধী ৬০ শতাংশ এবং বিএনপির ৫০ শতাংশ ভোট পাওয়ার আশা করেন। আর যদি তিনি মহাজোটের প্রার্থী হন তাহলে মুজিব বাহিনীর লোক হিসেবে সবাই তাকে সমর্থন করবে বলে প্রত্যাশা করেন।