সম্প্রতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিগো জানিয়েছে, যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তারা শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি অনুসরণ করে থাকে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ‘আমাদের শীর্ষ প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি কঠোর নীতিমালা রয়েছে। একইসঙ্গে আমরা কোনো পক্ষপাত করি না, কিংবা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা সমর্থন করি না।’

মূল ঘটনা কয়েক দিনের আগের। রোববার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, লাইভ স্ট্রিমিং অ্যাপস 'বিগো লাইভ' এবং 'লাইকি' ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতি মাসে দেশ থেকে কোটি কোটি টাকা পাচার করা হচ্ছে। দেশে অ্যাপ দুটি পরিচালনার সঙ্গে জড়িত এক নারী সদস্যসহ পাঁচজনকেও শনিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো- মোস্তফা সাইফ রেজা, আরিফ হোসেন, আসমা উল হুসনা সেঁজুতি, নাজমুল হক ও এক বিদেশি নাগরিক।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির ডিআইজি জামিল আহমেদ বলেন, ‘দেশের উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েরা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা অ্যাপ দুটিতে যুক্ত হচ্ছে। বিগো লাইভে দুই ধরনের আইডি আছে। ব্রডকাস্টার ও সাপোর্টার আইডি বা সেন্ডার আইডি। ব্রডকাস্টার আইডি ব্যবহার করে তরুণ-তরুণীরা ভিডিও লাইভ স্ট্রিম করে। এতে বিনোদনের নামে বিভিন্ন ধরনের অশ্নীলতা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এ কারণে অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এ ছাড়া সাপোর্টার আইডির মাধ্যমে যারা ভিডিও স্ট্রিমিং করত, বিনিময়ে তাদের ডিজিটাল কয়েনসদৃশ ডায়মন্ড উপহার দেওয়া হতো। পরে এই ডায়মন্ড টাকায় রূপান্তর করার মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করা হতো অবৈধভাবে। অ্যাপস ব্যবহারকারী লাখ লাখ বাংলাদেশি এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ডায়মন্ড কিনছেন। দেশের বিভিন্ন এজেন্সি ডায়মন্ড কেনে বিদেশি অ্যাডমিনদের কাছ থেকে। এসব এজেন্সি বিভিন্ন অবৈধ মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার করে যাচ্ছে।’

তবে, অপরাধ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে কাজ করবে বলে সাম্প্রতিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে সিঙ্গাপুর ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি। বিগো বলছে, ‘ব্যবহারকারীদের জন্য একটি নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরিতে আমরা আগের মতোই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ভবিষ্যতেও আমরা একইভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবো।’