ইভ্যালির লক্ষ্য ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কে সুবিধা দেওয়া: সিইও রাসেল

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০     আপডেট: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার বিকেলে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল-সংগৃহীত ছবি

বৃহস্পতিবার বিকেলে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল-সংগৃহীত ছবি

ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কে সুবিধা দেওয়া ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেল। বৃহস্পতিবার বিকেলে এক অনলাইনে সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ রাসেল এ কথা বলেন।

মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ইভ্যালির বিজনেস মডেলের সবচেয়ে সেন্সেটিভ পার্ট হলো এখানে ভোক্তা ও ক্রেতার সমাগম করা। আমাদের স্টাডি বলে এই জায়গায় সমাগম করতে পারা কোম্পানি সফল হয়েছে এবং যারা পারে নাই তারা ব্যর্থ হয়েছে। এই সমাগমটা সহজ ছিল না। ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়কে খুশি রেখে এবং আমাদের প্রসেস উন্নয়নের মাধ্যমে এটা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই ক্রেতা এবং বিক্রেতা সমাগম করতে আমাদের বিজনেস মডেলের কিছু পরিবর্তন/ইনোভেশন আনা হচ্ছে। হয়তো এই জায়গায় অনেকে ধরে নিয়েছেন আমরা একইভাবে সারা জীবন চলবো। আমাদের এখানে অবশ্যই একটা ব্যবসায়িক লক্ষ্য ছিল। আমরা বিক্রেতা/প্রস্তুতকারক থেকে সর্বোচ্চ কমিশন নিয়ে ক্রেতাকে সর্বোচ্চ ছাড় দেই। কিছু পণ্যে লস করে অন্য পণ্য দিয়ে তা পুষিয়ে নেওয়া, এরকম কিছু স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ করেছি। এটা একটা বিজনেস মডেল। আপনারা দেখবেন ক্রেতা ও বিক্রেতা সমাগম অধিক হলে সার্ভিস হয়তো ১০০% ঠিকমত দেওয়া যায় না। কিন্তু আমরা থেমে থাকি নাই, আমাদের কর্মী ৫ জন থেকে এখন ৭০০ জন। 

তিনি বলেন, ইভ্যালির ডেলিভারি হিরো রেজিস্টার্ড ১৫ হাজার এবং প্রতিনিয়ত কাজ করছে প্রায় ৪ হাজার জন। আমরা এই বছরেই কর্মী সংখ্যা দুই হাজার এবং আগামী ৫ বছরে দুই লাখ কর্মীর একটা সংস্থা হতে পারব।

মোহাম্মদ রাসেল বলেন, আমরা অবশ্যই স্বীকার করি হয়তো পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতার জন্য ডেলিভারি এবং সার্ভিস নিয়ে কিছু অভি্যোগ আছে। আমরা এখন পর্যন্ত ডেলিভারি করেছি ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের পণ্য। আমাদের গড় পণ্য ডেলিভারি সময় এখন কমবেশি ৭ দিন। হয়তো অভিযোগ গুলো দেখে ভাবতে পারেন আমরা ভালো সার্ভিস দিচ্ছি না অথবা সেলার পেমেন্ট দিচ্ছি না। আজ আমাদের ২০ হাজার ক্ষুদ্র সেলার এবং দুই হাজার কর্পোরেট সেলার সরাসরি আমাদের সাথে যুক্ত। এর মধ্যে দেশীয় স্বনামধন্য সেলার যেমন রয়েছে ঠিক একইভাবে মাল্টিন্যাশনাল কর্পোরেশনও রয়েছে।  

তিনি বলেন, ই-কমার্স একটি ইনোভেশন বিজনেস মডেল। আমাদের ই-কমার্সে বিনিয়োগ আসার বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা মার্কেট রেডিনেসের উপর নির্ভর করে প্রধানত আসে। এই মার্কেট রেডি করতে গিয়ে বিজনেস মডেলে কিছু পরিবর্তন আনাতে হয়তো সাময়িকভাবে এটার কেউ কেউ ভুল ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এই ব্যাখ্যা শুধু আমাদের একার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

মোহাম্মদ রাসেল আরও বলেন, করোনাকালে সারাদেশের জেলা, উপজেলা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে দুই হাজারের বেশি ইভ্যালি এক্সপ্রেস গ্রোসারি শপ ও প্রায় ৭৫০ এর বেশি ফার্মেসির মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ১-৩৬ ঘণ্টা এবং ঢাকায় ৫ হাজার ইভ্যালি ডেলিভারি হিরোর মাধ্যমে ১ ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে দিয়েছি। এর মাধ্যমে যেমন সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকতে উৎসাহ প্রদান করা গেছে একই সাথে দুই হাজার ৭৫০ এর বেশি সেলারকে দুর্যোগকালীন সময়ে আয়ের উৎস সচল রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। এছাড়াও আমরা বিভিন্ন স্বনামধন্য সুপারশপগুলোকে আমাদের প্লাটফর্মে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে আমাদের সেবার পরিসর বৃদ্ধি করেছি। বিজ্ঞপ্তি।