স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রে তৈরি হবে জ্বালানি

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

সমকাল ডেস্ক

এবার কৃত্রিম সালোকসংশ্নেষণের যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। গাছ যেমন সূর্যের আলো, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদন করে, এটাও তা-ই করে। এ যন্ত্রটি চালাতে আলাদা করে বিদ্যুৎশক্তি ব্যয় হয় না। স্বয়ংক্রিয় এই যন্ত্র থেকে যে জ্বালানি তৈরি হয় তা সংরক্ষণ করা যায়। এই যন্ত্র তৈরি করেছেন যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। তারা যন্ত্রটি তৈরিতে অত্যাধুনিক 'ফটোশিট' প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। গাছ সালোকসংশ্নেষণের মাধ্যমে তৈরি করে অক্সিজেন এবং শর্করা। তবে এই যন্ত্রটি তৈরি করে অক্সিজেন ও ফরমিক অ্যাসিড। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ফরমিক অ্যাসিডকে সরাসরি জ্বালানি হিসেবে বিশেষ ধরনের জেনারেটরে ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি একে রূপান্তর করা যায় হাইড্রোজেনেও, যা খুবই উন্নতমানের জ্বালানি। এই তারহীন যন্ত্রটিকে আরও উন্নত করে এবং আকারে বড় করে বিভিন্ন খামারে শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এর দূষণমুক্ত জ্বালানি দুইভাবে পরিবেশকে সুরক্ষা দেবে। বাতাস থেকে কার্বন শোষণ করবে এবং জ্বালানি হিসেবে ফরমিক অ্যাসিড থেকে প্রাপ্ত হাইড্রোজেন পোড়ালেও পরিবেশে কার্বন ছড়াবে না।
যন্ত্রটি যে পানি ব্যবহার করে তাও পরিবেশের জন্য দূষণকারী কোনো উপাদান নয়।
বিজ্ঞানীরা জানান, সাধারণত সৌরশক্তি কার্বন ডাই-অক্সাইডকে ব্যবহার করে যে জ্বালানি (শর্করা) তৈরি করে তা খনিজ জ্বালানির মতো পরিবেশ দূষণ করে না। এ কারণেই গ্রিনহাউস গ্যাসে বিপর্যস্ত আজকের বিশ্বে তা এত বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে সৌরশক্তিকে ব্যবহারযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, এটি খুবই ব্যয়বহুল এবং এ থেকে যেসব বর্জ্য তৈরি হয়, সেগুলো ধ্বংস করাও বেশ কঠিন। তবে এ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত অধ্যাপক কিয়াং ওয়াং এবং অধ্যাপক এরউইন রেইজনার জানান, তাদের তৈরি যন্ত্র থেকে যে তরল জ্বালানি তৈরি হয়, তাকে সহজেই সংরক্ষণ ও রূপান্তর করা যায়। উষ্ণায়নের বিরূপ প্রভাব কাটিয়ে উঠতে দূষণমুক্ত জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্যে এই ধরনের যন্ত্রে শিল্পোৎপাদন হলে একদিন পরিবেশ সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে। সূত্র :ন্যাচার এনার্জি ও ডেইলি মেইল।


বিষয় : জ্বালানি